১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘আঁধি’ সিনেমার অর্ধশতক: সুচিত্রাকে কেন 'স্যার' ডাকতেন গুলজার?

“উত্তম কুমার এবং সুচিত্রা সেনকে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।“

‘আঁধি’ সিনেমার অর্ধশতক: সুচিত্রাকে কেন 'স্যার' ডাকতেন গুলজার?
‘আঁধি’ সিনেমার দৃশ্যে সুচিত্রা সেন ও সঞ্জীব কুমার। ছবি আইএমডিবি থেকে নেওয়া।

গ্লিটজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Feb 2025, 12:45 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:34 PM

মহানায়িকা সুচিত্রা সেনকে কলকাতার সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে সবাই ডাকতেন ‘ম্যাডাম’ বা ‘মিসেস সেন’ বলে; কিন্তু পরিচালক গুলজারের কাছ থেকে কিংবদন্তী এই অভিনেত্রী পেয়েছিলেন ভিন্ন একটি সম্বোধন।  

এনডিটিভি লিখেছে, সুচিত্রাকে ‘স্যার’ ডাকতেন গুলজার।

গুলজার পরিচালিত যে ‘আঁধি’ সিনেমা জনপ্রিয়তার অনন্য মাত্রা পেয়েছিল, সেই চলচ্চিত্রটির ৫০ দশক পূর্তিতে ভারতের ভারতের এই সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুচিত্রাকে নিয়ে কথা বলেছেন গুলজার। 

আঁধিতে মূল চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মহানায়িকা সুচিত্রা সেন এবং প্রয়াত অভিনেতা সঞ্জীব কাপুর। ১৯৭৪ সালে  মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আঁধি’ ছিল সুচিত্রা অভিনীত শেষ হিন্দি সিনেমা। 

ওই সিনেমা সুচিত্রা অভিনয় করেন আরতি দেবী নামে এক রাজনৈতিক নেত্রীর ভূমিকায়, যিনি একই সঙ্গে ব্যক্তিত্বময়ী, দৃঢ়, কঠোর আবার প্রেমময়ী এবং কোমল মনের। বলা হয়ে থাকে ইন্দিরা গান্ধীর ছায়া অবলম্বনে আরতি দেবীকে নির্মাণ করা হয়েছিল। সঞ্জীব কুমারের চরিত্রটি ফিরোজ গান্ধীর ছায়া অবলম্বনে নির্মিত হয়।

গুলজার বলেছেন,আঁধি সিনেমার শুটিং শুরু হলে সুচিত্রা তাকে ‘স্যার’ ডাকা শুরু করেন। 

‘আঁধি’ সিনেমার দৃশ্যে সুচিত্রা সেন ও সঞ্জীব কুমার। ছবি আইএমডিবি থেকে নেওয়া।

‘আঁধি’ সিনেমার দৃশ্যে সুচিত্রা সেন ও সঞ্জীব কুমার

“যেহেতু আমি ওনার (সুচিত্রা সেন) জুনিয়র, তাই আমি অনুরোধ করি তিনি যেন আমাকে স্যার বলে না ডাকেন। কিন্তু তাও তিনি আমাকে স্যারই বলতেন। একটা সময়ে আমিও তাকে স্যার বলে ডাকা শুরু করি। আমরা সব সময় বাংলায় কথা বলতাম।“

সুচিত্রা সেনের ব্যক্তিত্ব নিয়ে কথা বলেছেন গুলজার। 

পরিচালকের ভাষ্য, “মানুষ তাকে নিয়ে যে ধরনের ধারণা পোষণ করতেন, তিনি কিন্তু মোটেই তেমন ছিলেন না। তিনি অত্যন্ত আন্তরিক ছিলেন। আমাদের মধ্যে যথেষ্ঠ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।

“আমার মনে হয় উত্তম কুমার এবং সুচিত্রা সেনকে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। আমি তাকে খুব ভালোবাসতাম এবং শ্রদ্ধাও করতাম। তবে তিনি বিচার বিবেচনা করে বন্ধু নির্বাচন করতে পারতেন।“

সুচিত্রাকে কীভাবে আঁধিতে কাজ করাতে রাজি হয়েছিলেন জানতে চাইলে গুলজার বলেন, “আঁধির গল্পটা তার খুব পছন্দ হয়েছিল।”

সুচিত্রার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাকে ‘অসাধারণ’ বলে বর্ণনা করেছেন গুলজার।

‘আঁধি’ সিনেমার দৃশ্যে সুচিত্রা সেন ও সঞ্জীব কুমার। ছবি আইএমডিবি থেকে নেওয়া।

‘আঁধি’ সিনেমার দৃশ্যে সুচিত্রা সেন ও সঞ্জীব কুমার

গুলজারের কথায় জানা গেছে, তিনি প্রযোজক সোহানলাল কানওয়ারের জন্য আরেকটি চিত্রনাট্য নিয়ে সুচিত্রা সেনের কাছে গিয়েছিলেন।

মহানায়িকা চিত্রনাট্যে কিছু পরিবর্তন চেয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব না হওয়ায় তারা আর এক সঙ্গে কাজটি করতে পারেননি।

একজন সফল রাজনৈতিক নেত্রী এবং তার হারানো প্রেম- বলা যায় মোটা দাগে ‘আঁধি’ সিনেমার এটাই মূল বিষয়বস্তু। সেই সঙ্গে রাজনীতির অন্ধকার দিক, একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ব্যক্তিগত আবেগের টানাপোড়েন, সামাজিক পরিস্থিতি এসব কিছু মিলিয়ে অসাধারণ এক উচ্চতায় উঠে যায় সিনেমায়। 

‘আঁধি’ সিনেমার দৃশ্যে সুচিত্রা সেন।

‘আঁধি’ সিনেমার দৃশ্যে সুচিত্রা সেন।

পরিচালকের মুন্সীয়ানা, অভিনয়, কাহিনী, সংলাপ ও চিত্রনাট্যে আঁধি পায় ক্ল্যাসিকের মর্যাদা। তবে ইন্দিরা গান্ধীর জীবনের সঙ্গে কিছু মিল থাকায় সিনেমাটি বিতর্কের মুখেও পড়ে। 

কয়েকটি দৃশ্যের কারণে সিনেমাটি মুক্তির পর নিষিদ্ধ হয়েছিল। পরে কয়েকটি দৃশ্য পুর্নর্নিমাণ করে ফের মুক্তি দেওয়া হয়।

ওই বছরে ফিল্মফেয়ার আসরে আঁধি বেস্ট ক্রিটিক অ্যাওয়ার্ড জয় করে। এবং এ সিনেমার সুবাদে সঞ্জীব কুমার সেরা অভিনেতার পুরস্কার ঘরে তোলেন। সেরা অভিনেত্রী, সেরা পরিচালনাসহ পাঁচটি বিভাগে নমিনেশন পেয়েছিল আঁধি।

সিনেমার সংগীত পরিচালনা করেন রাহুল দেব বর্মণ। কিশোর কুমার ও লতা মুঙ্গেশকরের কণ্ঠে ‘তেরে বিনা জিন্দেগিসে’, ‘তুম আ গায়ে হো’, ‘ইস মোড় সে’ গানগুলো চিরসবুজ প্রেমের গান হয়ে আছে।