দুই মাসে ঋণের প্রতিশ্রুতি নেই ৬ দাতার, ছাড়ের দ্বিগুণের বেশি পরিশোধ
সবচেয়ে বেশি ঋণ ছাড় করেছে এডিবি।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-অগাস্ট) বিভিন্ন দাতাসংস্থা বাংলাদেশের অনুকুলে যে পরিমাণ ঋণ সহায়তা ছাড় করেছে, তার দ্বিগুণের বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে।
বড় দুই উন্নয়ন সংস্থা বিশ্ব ব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি এবং ভারত, চীন ও রাশিয়া এই দুই মাসে ঋণের কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
এ ছাড়া এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকও (এআইআইবি) ঋণের কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
এর মানে হল—জুলাই ও অগাস্ট মাসে এই তিন উন্নয়ন সংস্থা ও তিন দেশের অর্থে কোনো প্রকল্প গ্রহণ চূড়ান্ত হয়নি।
তবে ঋণ দানকারী দেশ ও সংস্থাগুলো নতুন করে ঋণের প্রতিশ্রুতি না দিলেও আগে নেওয়া ঋণের অর্থ ছাড় অব্যাহত রেখেছে।
রোববার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, জুলাই-অগাস্টে বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও জাইকাসহ বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থা বাংলাদেশকে ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার ঋণ ছাড় করেছে।
একইমাসে পুঞ্জীভূত পাওনা থেকে সুদ-আসল বাবদ দাতাদের পরিশোধ করতে হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার।
এ হিসাবেই ঋণ পাওয়ার চেয়ে পরিশোধ করতে হয়েছে দ্বিগুণের বেশি। শতাংশ হিসাবে পরিশোধ বেশি হয়েছে ১৩৭ দশমিক ২৭ শতাংশ।
১ জুলাই থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছর শুরু হয়েছে। এ আর্থিক বছরের তিন মাস (জুলাই-সেপ্টেম্বর) শেষ হতে চলেছে।
রোববার প্রথম দুই মাসের তথ্য প্রকাশ করেছে ইআরডি।
গত ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-অগাস্ট সময়ে দাতাদের কাছ থেকে ৭৫ কোটি ৭ হাজার ডলার ঋণ পেয়েছিল বাংলাদেশ।
সে হিসাবে এ বছর জুলাই-অগাস্টে ৪৫ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ডলার কম ঋণ পাওয়া গেছে। শতাংশ হিসাবে কমেছে ৬০ দশমিক ৭২ শতাংশ।
গত বছরের এ দুই মাসে ঋণের সুদ-আসল বাবদ ৬৬ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার ডলার পরিশোধ করেছিল বাংলাদেশ।
এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-অগাস্টে পরিশোধ বেড়েছে ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
এ দুই মাসে আসল বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৫১ কোটি ৬০ লাখ ৪০ হাজার ডলার; সুদ বাবদ গেছে ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার।
চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে বাংলাদেশ অনেকগুলো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করে।
এখন সেসব ঋণের সুদসহ পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে এখন ঋণদাতাদের কাছে পরিশোধের চাপও বেড়েছে।
ইআরডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আগামীতে এই চাপ আরও বাড়তে পারে।
অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গত ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে বিভিন্ন সময়ে দাতাদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের সুদ-আসল বাবদ ৪৪৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার পরিশোধ করেছিল সরকার। এ অঙ্ক আগের বছরের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪০৮ কোটি ৬৯ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছিল।
সবচেয়ে বেশি দিয়েছে এডিবি
ইআরডির তথ্য বলছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-অগাস্ট সময়ে বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলারের যে ঋণ পাওয়া গেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১২ কোটি ৮৭ লাখ ২০ হাজার ডলার দিয়েছে ম্যানিলাভিত্তিক ঋণদাতা সংস্থা এডিবি।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭ কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার ডলার দিয়েছে জাপান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।
ভারত দিয়েছে ৩ কোটি ৩ লাখ ডলার। রাশিয়া দিয়েছে ২ কোটি ৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। অন্যরা দিয়েছে ১৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার।
এ দুই মাসে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) ও চীন কোনো ঋণ ছাড় করেনি।
প্রতিশ্রুতি মিলেছে ২৪ কোটি ডলারের
ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-অগাস্টে ২৪ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারের নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।
জাইকা ৩৫ লাখ ১০ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্য দাতা দেশ ও সংস্থা সবাই মিলে ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ৮০ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
গত বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল কিছুটা বেশি, ২৪ কোটি ৩৮ লাখ ১০ হাজার ডলার।
