০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

দক্ষ কর্মী না পাঠালে সংখ্যা বাড়িয়ে লাভ নেই: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

মন্ত্রী বলেন, “আগামী মাস তিনেকের মধ্যে ভালো ফলাফল দেখতে পাবেন। কখনো জনশক্তি রপ্তানি হয়নি এমন নতুন সেক্টর ও বাজার চিহ্নিত করে জনশক্তি রপ্তানির জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

দক্ষ কর্মী না পাঠালে সংখ্যা বাড়িয়ে লাভ নেই: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের স্বাচ্ছন্দ্যে লাগেজ পরিবহনের জন্য ট্রলি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি: প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Oct 2026, 06:17 PM

Updated : 01 Oct 2026, 06:17 PM

বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষ করে পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, দক্ষ কর্মী পাঠাতে না পারলে শুধু সংখ্যা বাড়িয়ে লাখ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠিয়ে দেশের প্রকৃত লাভ হবে না।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের লাগেজ পরিবহনের জন্য ট্রলি কার্যক্রম উদ্বোধন ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।

পরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “বিদেশগামী কর্মীদের অবশ্যই দক্ষ হয়ে প্রবাসে যেতে হবে। আমরা যদি দক্ষ কর্মী পাঠাতে না পারি, তবে শুধু সংখ্যা বাড়িয়ে লাখ লাখ কর্মী পাঠিয়ে দেশের কোনো প্রকৃত লাভ হবে না।”

তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি। আমাদেরকে দক্ষ শ্রমিক তৈরি করে পাঠাতে হবে। এজন্য বিভিন্ন ইনস্টিটিউশনের মাধ্যমে ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স, ট্রেনিং এগুলোর ব্যবস্থা করছি। এখান থেকে গিয়ে যেন অনিশ্চয়তার মধ্যে না থাকে।”

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বিদেশগামী যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা, চাহিদা ও বিভিন্ন ভোগান্তির বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

প্রবাসী কর্মীদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে দ্রুত একটি জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, “ইতোমধ্যে চিকিৎসা কেন্দ্রের স্থান নির্বাচনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রবাসী কর্মীদের প্রয়োজনীয় যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদানে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।”

ফ্লাইট বিলম্ব বা সময়সূচিতে পরিবর্তনের কারণে প্রবাসী যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “অনেক সময় সময়সূচি বিপর্যয় বা ফ্লাইট বিলম্বের কারণে প্রবাসী যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিমানবন্দর শহর থেকে দূরে অবস্থিত হওয়ায় তাদের থাকা-খাওয়া নিয়ে সমস্যা আরও বাড়ে।”

“এ সমস্যা দূর করতে বিমানবন্দরের পাশে রেস্টহাউস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে যাত্রীরা যেকোনো পরিস্থিতিতে সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে অবস্থান করতে পারেন।”

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও গত সাত মাসে প্রায় ৪ লাখ ৩৪ হাজার কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন।

পশ্চিম এশিয়ার বাইরে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন শ্রমবাজার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, “আগামী মাস তিনেকের মধ্যে ভালো ফলাফল দেখতে পাবেন। কখনো জনশক্তি রপ্তানি হয়নি এমন নতুন সেক্টর ও বাজার চিহ্নিত করে জনশক্তি রপ্তানির জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বিমানবন্দর পরিচালনা কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।