৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

বেসরকারি ঋণ প্রবাহ অগাস্টেও বাড়ল, প্রবৃদ্ধি ৪.৭৫%

“আশা করছি, আগামী মাসগুলোতে এই বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে।”

বেসরকারি ঋণ প্রবাহ অগাস্টেও বাড়ল, প্রবৃদ্ধি ৪.৭৫%

প্রতীকী ছবি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 30 Sep 2026, 12:26 AM

Updated : 30 Sep 2026, 12:26 AM

চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস অগাস্টেও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ বেড়েছে।

এই মাসে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ, যা আগের মাস জুলাইয়ে ছিল ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ।

দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান নিয়ামক বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি কমতে কমতে একেবারে তলানিতে নেমে এসেছিল, গত দুই মাসে তা আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে কমে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমে এসেছিল, যা ছিল এ যাবতকালের সর্বনিম্ন।

ঋণ প্রবৃদ্ধির হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বেসরকারি খাতের ঋণ ছাড় বাড়তে শুরু করেছে। জুলাই মাসের পর অগাস্টেও প্রবৃদ্ধির হার বেড়েছে। জুলাইয়ে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। অগাস্টে তা বেড়ে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে উঠেছে।

“আশা করছি, আগামী মাসগুলোতে এই বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে।”

অর্থনীতিকে সক্রিয় ও বন্ধ কলকারখানা চালু করতে সরকার যে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল, তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

এতে পরের মাসগুলোতে ঋণ প্রবাহ বেড়ে যাবে, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কর্মকর্তা বলেন, “সুদহার তো কমে গেছে। ব্যাংকগুলোতে টাকারও সমস্যা নেই। তাই ঋণ বৃদ্ধির তথ্য আসবে পরের মাসগুলোতে।”

গত বছরের ডিসেম্বরে ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা ছিল, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৫ শতাংশের মতো হবে। কিন্তু ১ দশমিক শূন্য তিন শতাংশীয় পয়েন্ট কম ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমে এসেছিল।

২০২৩ সাল থেকে খরার মধ্য দিয়ে যাওয়া বেসরকারি ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি গত মে মাসে ছিল ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

এমন চিত্র পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক গত জুন মাসে পরের ছয় মাসের জন্য মুদ্রানীতিতে (জুলাই-ডিসেম্বর) বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমিয়ে ধরে।

বর্তমান মুদ্রানীতিতে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৮ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

কোভিড মহামারীর পরের দুই বছর অর্থনীতি পুনর্গঠন পদক্ষেপ নেওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বেড়ে চলছিল।

ইউক্রেইন-রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানিপণ্যের দাম বেড়ে গেলে সেই আঁচ লাগে বাংলাদেশেও। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে টাকার মান পড়ে গিয়ে দুই বছরের মধ্যে ডলারের দর ওঠে ১২১ টাকায়।

কোভিড মহামারীর পর আমদানি বেড়ে গেলে সংকটে পড়ে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সামাল দিতে আমদানিতে লাগাম টানা শুরু করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার।

চব্বিশের অগাস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নীতি সুদহার কয়েক মাসের মধ্যে ১০ শতাংশে উন্নীত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতে মূল্যস্ফীতি কয়েক মাসের মধ্যে নিচে নামতে শুরু করে। তার সঙ্গে কমতে থাকে ঋণ প্রবাহের গতিও।

ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর অর্থনীতি সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মে মাসে ৬০ হাজার কোটি টাকার ঋণ প্যাকেজ ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যেখানে বাণিজ্যিক ব্যাংকে থাকা অতিরিক্ত তারল্য থেকে ৪১ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠনের কথা বলা হয়।

তবে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে অর্থনীতিতে নতুন ধাক্কা আসে।

গত ২১ জুলাই দেশে আমদানি করা এলএনজি (আরএলএনজি বা রূপান্তরিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহকারী দুটি ভাসমান টার্মিনালের একটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় অগ্নিকাণ্ডে।

এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হলে রাজধানীতেও লোডশেডিং করতে হয়। বাধাগ্রস্ত হয় শিল্প উৎপাদন। কারখানাগুলোর উৎপাদন কমে যায়।

এমন ঘটনার পরেও বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ একটু বাড়ে আগের চেয়ে। পরের মাস অগাস্টেও খানিকটা বেড়েছে।