এনবিআর কর্মকর্তাদের ‘যৌক্তিক’ দাবির সঙ্গে ‘একমত’ আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ
“এনবিআর সংস্কার কার্যক্রমের ক্ষেত্রে যেন পেশাদারত্ব নিশ্চিত হয়, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদানের জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।”
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুই ভাগ করে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব নীতি নামে দুটি বিভাগ তৈরির অধ্যাদেশ বাতিলের জন্য আন্দোলনে নামা কর্মীদের দাবিকে ‘যৌক্তিক’ হিসেবে বর্ণনা করে এর সঙ্গে ‘একমত’ পোষণ করেছে বিসিএসের ২৫ ক্যাডারের সংগঠন ‘আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ’।
পেশাভিত্তিক কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ পরিচালনা এবং উপসচিব পদে কোটা বিলুপ্ত করে পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগসহ বিভিন্ন ক্যাডারের মধ্যে চলমান বৈষম্য নিরসনে প্রশাসন ক্যাডার বাদে বাকি ক্যাডারদের নিয়ে তৈরি এ সংগঠন বলেছে, “জারিকৃত অধ্যাদেশ বাতিলসহ তিনটি দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছে।
“প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা তিন দফা দাবি পেশ করেছে। এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের প্রতিটি যৌক্তিক দাবির সাথে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ একমত পোষণ করে।”
বুধবার আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের সমন্বয়ক মুহম্মদ মফিজুর রহমান এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন।
সরকার গত ১২ মে এনবিআরকে দুই ভাগ করার অধ্যাদেশ জারি করে। এর বিরোধিতা করে এক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন এনবিআরের অধীন কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর বিভাগের কর্মকর্তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, “এনবিআর সংস্কার কার্যক্রমের ক্ষেত্রে যেন পেশাদারত্ব নিশ্চিত হয়, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদানের জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। সেক্ষেত্রে, অংশীজনদের সাথে নিয়ে এ সমস্যার দ্রুত ও সুষ্ঠু সমাধান করা হবে বলে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ মনে করে।
“বর্তমান সংস্কারে যে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার কথা বলা হয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ কর্তৃত্ব রাজস্ব ক্যাডার কর্মকর্তাদের হাতে থাকাই বাঞ্ছনীয়। পৃথিবী জুড়ে যেখানে পেশাদারত্বকে সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, সেখানে আমরা কেন সামন্ততান্ত্রিক ধারণায় সবকিছুতে পেশাদারত্বকে কবর দিচ্ছি, যেটি একটি সুদূর প্রসারী ক্ষতির কারণ হবে।”
কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেবার জন্য নয়, এখন এনবিআরকে আন্তর্জাতিক পদ্ধতির সঙ্গে ‘সামঞ্জস্য রেখে পূর্ণাঙ্গ, টেকসই ও কার্যকরভাবে সংস্কার করার সময় হয়েছে’ বলে মন্তব্য করা হয়েছে বিবৃতিতে।
সেখানে বলা হয়, “স্বাধীনতার অর্ধ শতাব্দী পরে এসেও দেশকে ব্রিটিশ কলোনি ভেবে পিছিয়ে রাখার সুযোগ নেই। সুতরাং একটি শক্তিশালী, আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও কল্যাণকর রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে পেশাদারত্ব নিশ্চিত করতে পরিষদ আহ্বান করছে। সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের সদস্যদেরকে সাথে নিয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে সৃষ্ট জটিলতার অবসান করবেন- সে আহ্বান জানাচ্ছি।”
বুধবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন কর্মসূচি হিসেবে এনবিআর চেয়ারম্যানের সঙ্গে ‘লাগাতার অসহযোগ’ কর্মসূচি পালনসহ তার অপসারণ দাবি করে ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’।
তাদের কর্মসূচি হচ্ছে-
>> এনবিআর চেয়ারম্যানের সঙ্গে ‘লাগাতার অসহযোগ’ কর্মসূচি পালন করা হবে;
>> এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের দাবিগুলোর বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়া হবে;
>> বৃহস্পতিবার এনবিআর এবং ঢাকা ও ঢাকার বাইরে নিজ নিজ দপ্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। তবে, রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা এর আওতামুক্ত থাকবে;
>> শনিবার এবং রোববার কাস্টমস হাউস এবং এলসি স্টেশন ছাড়া ট্যাক্স, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সকল দপ্তরে পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি চলবে। এই দুইদিন কাস্টমস হাউস এবং এলসি স্টেশনে সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে। তবে, রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা কর্মবিরতির আওতামুক্ত থাকবে;
>> সোমবার থেকে আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা ছাড়া ট্যাক্স, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সকল দপ্তরে পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি চলবে।
পুরনো খবর:
