Published : 21 Apr 2026, 07:46 PM
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, কাউকে ব্যাংক পর্ষদে ফেরাতে নয়, ব্যাংকে যাতে নতুন তহবিল আসে, সেই পথ খুলতে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন সংশোধন করে ‘নতুন উইন্ডো’ খুলেছে সরকার।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাইফুল আলমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এই ব্যাখ্যা দেন।
সাইফুল আলম বলেন, “ব্যাংক রেজল্যুশন আইনে সংশোধনী আনার ফলে যারা ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়েছেন, তারা খুব অল্প টাকা দিয়েই ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন। ইসলামী ব্যাংকে সম্ভবত ৮০ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ ছিল, তারা সবাই চলে গেছেন। এই দুই বিষয় সরকার কীভাবে সমন্বয় করবে?”
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, “বিএনপির অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় কোনো ব্যক্তির কোনো সুযোগ নাই। বিএনপি কোনো পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতিতে বিশ্বাস করে না। এটার প্রমাণ বারবার হয়েছে। সুতরাং এইবারও সেই সুযোগ নাই।”
এরপরই তিনি ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের সংশোধন নিয়ে বলেন, “যে সংশোধনটা হয়েছে, আমরা এই উইন্ডোটা একটু ওপেন করেছি। এখানে কেউ ফিরে আসার জন্য না। টাকা ব্যাংকে জমা হোক–এটাই আমরা চাই। সুতরাং এটা একটা নিউ অপরচুনিটি, নিউ উইন্ডো। এক্সিস্টিং শেয়ার হোল্ডার নিতে পারে, যে কোনো বিনিয়োগকারী নিতে পারেন। দিস উইন্ডো ইজ ওপেন ফর এভরিবডি।”
কোনো ব্যাংক অকার্যকর হয়ে পড়লে, দেউলিয়ার পথে গেলে, আমানতকারীদের ‘পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ’ হলে বা মালিকপক্ষ ‘প্রতারণামূলকভাবে’ ব্যাংকের সম্পদ ব্যবহার করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যাতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে পারে, সেই পথ খুলতে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
পরে ওই অধ্যাদেশের ক্ষমতা ব্যবহার করে দুর্বল পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকগুলো ব্যাপক লুটপাটের কারণে নাজুক দশায় পড়েছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় বর্তমান বিএনপি সরকার একগুচ্ছ অধ্যাদেশ বিল আকারে জাতীয় সংসদে পাস করে, যার মধ্যে ব্যাংক রেজল্যুশন আইনও রয়েছে।
কিন্তু অধ্যাদেশটি বিল আকারে জাতীয় সংসদে পাসের আগে নতুন একটি ধারা যুক্ত হয়েছে, যাতে একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকে ‘পুরনো শেয়ারধারীদের ফেরার পথ খোলা হয়েছে’ বলে সমালোচনা হচ্ছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ৯২ হাজার ১১৫ কোটি টাকার ঋণের ধারক, যার মধ্যে এস আলম গ্রুপ একাই ৮০ হাজার কোটি টাকার খেলাপি। জনতা ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপ ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপি হয়েছে।
তিনি জানতে চান, এস আলম গ্রুপ ও বেক্সিমকো গ্রুপের ঋণ পুনরুদ্ধারে চলতি অর্থবছরে সরকারের বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কি না। একই সঙ্গে এস আলম গ্রুপকে ঋণ পরিশোধ না করেই নতুন করে পুনর্বহালের চেষ্টা হচ্ছে কি না এবং এ নিয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, “বিএনপির রাজনীতিতে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মধ্যে কারো সাথে সমঝোতা করার কোনো সুযোগ নাই।”
তিনি বলেন, “বিএনপি যতবারই সরকারে এসেছে, ফাইনান্সিয়াল ডিসিপ্লিন নিয়ে কোনো প্রশ্ন আসে নাই, ম্যাক্রো স্ট্র্যাটেজি, ম্যাক্রো ইকোনমিক স্ট্যাবিলিটি নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠে নাই, শেয়ার বাজার লুটপাট নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠে নাই।”
ঋণ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, “যারাই ব্যাংক থেকে টাকা নিয়েছে পালিয়ে গেছে, সকলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।”
অর্থমন্ত্রীর ভাষায়, এসব অর্থ ফেরাতে “একদিকে জি টু জি কাজ চলছে, অন্যদিকে রিকভারি যে ফার্মগুলো আছে প্রাইভেট, তারাও কাজ করছে।”
এস আলম ও বেক্সিমকো গ্রুপের বিদেশে পাচার করা সম্পদ উদ্ধারের বিষয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ দুই গ্রুপের ‘পাচার করা’ সম্পদ উদ্ধারে আদালতে মামলা করা হয়েছে। এস আলম গ্রুপের বিষয়ে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, সাইপ্রাস, জার্সি ও সিঙ্গাপুরে এবং বেক্সিমকো গ্রুপের বিষয়ে যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে এমএলএআর, অর্থাৎ ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসট্যান্স রিকোয়েস্ট’ পাঠানো হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “এই দুই গ্রুপের পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে ফৌজদারি কার্যক্রমের পাশাপাশি দেওয়ানি পদ্ধতিও অনুসরণ করা হচ্ছে। বিদেশে তাদের সম্পদ অনুসন্ধানে চারটি স্বনামধন্য বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হয়েছে।”
তবে বিদেশে পাচার করা অর্থ উদ্ধার যে ‘জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী আইনগত প্রক্রিয়া’ সে কথা তুলে ধরে আমির খসুর বলেন, “সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে এমএলএআরের জবাব পাওয়ার পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ, অপরাধলব্ধ অর্থ শনাক্তকরণ এবং দেশে-বিদেশের আদালতে অর্থপাচারের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পরই তা উদ্ধার সম্ভব।”
অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য, আইনগত বা বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় চলতি বা আগামী অর্থবছরে এস আলম গ্রুপ ও বেক্সিমকো গ্রুপের কী পরিমাণ অর্থ বা সম্পদ উদ্ধার সম্ভব, তা নির্ধারণ করা যায়নি। তবে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে এস আলম গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে পরিচালিত ৬৬২টি ব্যাংক হিসাবে মোট ২৪৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং বিও হিসাবে ৮১৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। অর্থপাচারের ঘটনায় বাংলাদেশের আদালতে ২৭টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে তিনটিতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, আদালত এস আলম গ্রুপের ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা মূল্যের স্থায়ী সম্পদ, ২ হাজার ৬৮০টি ব্যাংক হিসাবের ৬ হাজার ৬৯২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং ১৭১টি কোম্পানির ২৪ হাজার ৮১০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার জব্দ করেছে।
এছাড়া বিদেশে একটি বাড়ি, ৬২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ৩ হাজার ২২২ কোটি ৭০ লাখ টাকা সমমূল্যের ১৪টি কোম্পানি ও ছয়টি ট্রাস্ট ফান্ডের সম্পদ জব্দ করতে আদালত আদেশ দিয়েছে বলে জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী সংসদকে বলেন, ওই আদেশ বাস্তবায়নে চারটি দেশে এমএলএআর পাঠানো হয়েছে এবং চারটি রেড নোটিস জারি করা হয়েছে।
“এস আলম গ্রুপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলো ঋণের অর্থ উদ্ধারে নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট সই করে চারটি আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠানকে ‘নো রিকভারি নো ফি’ শর্তে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এতে বিদেশে পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারের পথ ‘সুগম’ হয়েছে।”
একই সংসদ সদস্যের আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বড় ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অর্থঋণ আদালত আইন ও ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের কার্যক্রম চলছে।
তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণখেলাপির হার কমিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতে যাতে ঋণখেলাপি না বাড়ে, সেজন্য কৌশলপত্র প্রণয়ন করে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থ পাচারের ক্ষেত্রে ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ঘটনা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে দেশের আদালত ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকার এবং বিদেশে ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকার সম্পত্তি অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছে।
অনলাইন ব্যাংকিংয়ের ফি পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই
চাঁদপুর-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জালালউদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে গ্রাহকরা ব্যাংকের ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসেই ২৪ ঘণ্টা অনলাইন ব্যাংকিং সেবা নিতে পারেন। ৪৬টি ব্যাংক এখন নিজস্ব ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইন ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে।
তিনি জানান, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ লেনদেনের ফি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিজেরাই নির্ধারণ করে এবং তা শিডিউল অব চার্জেস আকারে নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। আন্তঃব্যাংক লেনদেনের ফি বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারণ করে।
বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক, রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট এবং ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ ব্যবহার করে আন্তঃব্যাংক লেনদেন করা যায়। বিইএফটিএন ব্যবহার করে বিনা খরচে, আরটিজিএস ব্যবহার করে লেনদেনপ্রতি সর্বোচ্চ ১০০ টাকা ভ্যাটসহ এবং এনপিএসবির মাধ্যমে লেনদেনপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা ভ্যাটসহ এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে অর্থ স্থানান্তর করা যায়।
আমির খসরু বলেন, “বর্তমানে আন্তঃব্যাংক লেনদেনের ফি পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই।”
একই সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অনলাইন প্রতারণার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্রাহকের ইউজারনেম, পিন ও ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তর সম্পন্ন হয়। গ্রাহকের অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে প্রতারক চক্র বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি করে থাকে।
“বিশেষ করে ওটিপি, পিন বা অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করার ফলে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের ঝুঁকি তৈরি হয়। এ কারণে ব্যাংক হিসাবের সংবেদনশীল তথ্য ও ওটিপি কারও সঙ্গে শেয়ার না করতে নিয়মিত সতর্ক করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয় আর্থিক সাক্ষরতা ও সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে।”
কক্সবাজারের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অনলাইন সেবার বিষয়েও কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ তালিকায় না থাকার অর্থ হল, ব্যাংকটি আপাতত এই সেবা দিচ্ছে না। তবে চাইলে অন্য ব্যাংকগুলোর মতো এই সুবিধার আওতায় তারা আসতে পারে।
আর্থিক খাত পুনরুদ্ধারে ‘সমন্বিত কৌশল’
নোয়াখালী-৫ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ভঙ্গুর আর্থিক খাত ‘পুনরুদ্ধার, স্থিতিশীলকরণ এবং ধাপে ধাপে শক্তিশালী করার জন্য’ সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ১০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত কোঅর্ডিনেশন কাউন্সিল সভায় মুদ্রানীতি, রাজস্ব নীতি, বিনিময় হার নীতি ও মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামো সমন্বিত কৌশল উপস্থাপন করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৮-২৯ অর্থবছরের জন্য সেই কাঠামো অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে বহাল রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ, যা ২০২৬ সালের মার্চে ৮ দশমিক ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ হাজার ৮৭৩ দশমিক ৩২ মিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম৬ হিসাবপদ্ধতিতে তা ৩০ হাজার ২০১ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ডলার।
সংকটে থাকা উৎপাদন ও আর্থিক কার্যক্রমকে সহায়তা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে বিশেষ সহায়তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে ব্যবসায়ীদের মূলধনে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবেলায়ও কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার কথাও বলেন।
পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে একটি সংস্কার কমিশন গঠন, শক্তিশালী বন্ড ও ইকুইটি মার্কেট গড়ে তোলা, ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার, প্রবাসীদের জন্য ইনভেস্টমেন্ট গেটওয়ে চালু এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।
নোয়াখালী-৫ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ফখরুল ইসলামের সম্পূরক প্রশ্নে আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশের আর্থিক খাতের ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা’ এখন মূলধন ঘাটতি।
তার ভাষায়, “টাকার ব্যাপক অবমূল্যায়ন, ইউটিলিটি খরচ বৃদ্ধি, ব্যাংক লুটপাট এবং বিদেশে অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংক ও বেসরকারি খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।”
অর্থমন্ত্রী বলেন, “ব্যাংকগুলোকে রিভাইটালাইজ করতে হবে এবং বেসরকারি খাতের মূলধন ঘাটতি পূরণে সরকার বাজেট থেকে অর্থ দেবে, আইএমএফের সহায়তা চাইবে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও আকৃষ্ট করার চেষ্টা করবে।”
সরকারের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ৭৮ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলার
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ৭৮ হাজার ৬৭ দশমিক ২০ মিলিয়ন ডলার।
তিনি জানান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সরকারের পক্ষে বিদেশি ঋণ পরিশোধ করে। বাজেটে বরাদ্দ রাখা অর্থ থেকে সারা বছর পরিশোধ সূচি অনুযায়ী ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ করা হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৯০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।
সম্পূরক প্রশ্নে রুমিন ফারহানা বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। মাত্র ৫২ দিনে সরকার ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, কিন্তু জুলাই থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ঋণ নিয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, জুলাই থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া ঋণের পরিমাণ ৬৮ হাজার ২২৯ কোটি টাকা এবং একই সময়ে রাজস্ব আদায়ও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে আছে।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, যে ঋণের কথা বলা হচ্ছে, তা মূলত আগের সময়ের দায়ের ধারাবাহিকতা। বর্তমান সরকার মাত্র দুই মাসের মতো সময় পেয়েছে, ফলে আগের দায়ও বহন করতে হচ্ছে।
“বিএনপির যে অর্থনৈতিক পলিসি সেটা হচ্ছে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ কমিয়ে আনা। আগামী বাজেটে তার পরবর্তী সময়ে আপনারা দেখতে পাবেন আমরা প্রায় সরকার স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ কিভাবে কমিয়ে আনছি ক্রমান্বয়ে এবং এটার প্রতিফলন আপনারা আগামী দিনে দেখতে পাবেন।”
আমির খসরু বলেন, “ব্যবসায়ীরা একজিস্টেনশিয়াল থ্রেটে আছে। ব্যাংকের রিপেমেন্ট করতে পারছে না, তার স্টাফদের বেতন দিতে পারছে না, ফ্যাক্টরিগুলো রিডান্ডেড হয়ে যাচ্ছে। এগুলো আগের থেকে ক্যারি ওভার।”