২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

‘খাদ্য ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ এক দেশের পক্ষে সমাধান সম্ভব না’

“বিগত এক দশকে বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো খাদ্য উৎপাদনে অনেকখানি অগ্রসর হয়েছে। তবে এটা ঠিক- এখনও এ উৎপাদনের সঠিক মূল্য ক্ষুদ্র উৎপাদকরা পান না,’’ বলেন রমেশ সিং।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Jul 2023, 12:05 AM

Updated : 27 Jul 2023, 12:05 AM

খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সম্পৃক্ততা থাকায় এর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা একক কোনো দেশের পক্ষে সম্ভব নয় বলে অভিমত উঠে এসেছে এক সেমিনারে।

বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হওয়া দুদিনের ‘এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের খাদ্য অধিকার এবং কৃষি খাদ্যব্যবস্থা সম্মেলন’র উদ্বোধনী অধিবেশনে এ অভিমত আসে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

স্বাগত বক্তব্যে খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলী বলেন, “কোভিড-১৯ অতিমারী, ইউক্রেইন যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত সংকটসহ অসংখ্য কারণে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কিছু দেশে বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশসহ কিছু দেশে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতাও বাড়ছে যা সার্বিকভাবে এ অঞ্চলের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতির ক্ষেত্রে নাজুক অবস্থা সৃষ্টি করছে।

“বিশ্বায়ন ও ডিজিটালাইজেশনের যুগে ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াই একটি বৈশ্বিক প্রপঞ্চ, খাদ্য এবং এর ব্যবস্থাপনা বা পরিচালনার চ্যালেঞ্জগুলো একে অন্যের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত হওয়ার কারণে কোনো দেশের পক্ষেই এককভাবে তা সমাধান করা সম্ভব নয়।”

অনুষ্ঠানে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, “স্বাধীনতার শুরু থেকেই কৃষিকে গুরুত্ব দিয়ে নানামুখী উদ্যোগের শুরু হয়েছিল। যার ধারা অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশ আজ খাদ্য উৎপাদনের রোল মডেল।’’

বাংলাদেশসহ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে এ সম্মেলন পথ দেখাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, “সাম্প্রতিককালে দেশের কৃষক ও জনগণের পরিশ্রমের ফলে খাদ্য উৎপাদন ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এখানে রাষ্ট্রের সুদূরপ্রসারী নীতিমালা ভূমিকা রেখেছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব হয়েছে। বড় ধরনের সংকট না হলে এর ব্যত্যয় ঘটবে না।’’

খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, “খাদ্যের পর্যাপ্ততার পাশাপাশি সেই উৎপাদিত খাদ্য কত নিরাপদ তাও গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কারণে মানুষের কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হয়।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, “টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার দ্বিতীয় লক্ষ্য স্পষ্টভাবে ক্ষুধা নিরসনের কথা বলে, যা খাদ্য অধিকারের দাবিকে ন্যায্যতা দেয়। বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে সফলতার গল্প বলে। তারপরও সবার জন্য পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।”

খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার অগ্রগতি ঘটলেও সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে মন্তব্য করে নেপালের কৃষি ও জীবিকায়ন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সঞ্জীব কুমার কর্ণ বলেন, “নেপাল খাদ্যের অধিকারকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে সকল অংশীজনদের অন্তর্ভুক্ত করতে হলে কৃষি-খাদ্যব্যবস্থাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে।”

কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রমেশ সিং বলেন, ‘‘ব্রিটিশ উপনিবেশমুক্ত হওয়ার সময়কালে যেসব দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি হয়েছিল, তখন থেকেই সকলের জন্য খাদ্যের দাবি উত্থাপিত হতে থাকে। সরকারগুলো এ মৌলিক চাহিদা পূরণে সবসময় সমর্থ হয়নি।

“তবে বিগত এক দশকে বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো খাদ্য উৎপাদনে অনেকখানি অগ্রসর হয়েছে। তবে এটা ঠিক, এখনও এ উৎপাদনের সঠিক মূল্য ক্ষুদ্র উৎপাদকরা পান না।’’