২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯ আশ্বিন ১৪৩৩

একটি দলের ‘অভিনয়’ দেখতে দেখতে আমরা ‘অস্থির’: মীর শাহে আলম

তাদের কৃতজ্ঞতা বোধ ‘খুবই কম’, বলেন তিনি।

একটি দলের ‘অভিনয়’ দেখতে দেখতে আমরা ‘অস্থির’: মীর শাহে আলম

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 24 Sep 2026, 08:09 PM

Updated : 24 Sep 2026, 08:09 PM

বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, একটি দলের ‘অভিনয়’ দেখতে দেখতে তারা ‘অস্থির’ হয়ে গেছেন।

দলটির কৃতজ্ঞতা বোধ ‘খুবই কম’ বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য রাখছিলেন।

মীর শাহে আলম বলেন, “বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক দল আছে যারা ধর্মের ব্যবহার করে। এই অঞ্চলেও বেহেশতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ভোট নিয়েছিল।”

বিরোধীদলীয় নেতার নাম না নিয়ে তিনি বলেন, “উনি বন্যার মধ্যে এসেছিলেন। দেখেছি, পাঞ্জাবি খুলেছেন। মাঝে মাঝে গেঞ্জিও খুলেছেন। হাঁটু পানিতে নেমেছেন। এইটুকুই। কিন্তু কিছু দেননি। কিন্তু আপনাদের নেতা, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অভিনয় এবং নাটক করার জন্য এখানে আসেননি।”

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এখান থেকে কিছু দূরে উনি (প্রধানমন্ত্রী) এসেছিলেন। প্রোগ্রাম করেছেন। হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। একশটি নতুন ঘর উপহার দিয়েছেন। এবং দুইশ পরিবারের মাঝে চাল-ডাল-সাহায্য বিতরণ করেছেন।

“আমি একটু আগে পাঞ্জাবি খোলা যে ভদ্রলোকের কথা বললাম। ওনাকে আমরা টিভিতে দেখেছি, পকেট থেকে ৫০ টাকা আর একশ টাকা বের করে বাচ্চাদের হাতে দিয়েছেন। বন্যার মধ্যে বাড়ি থেকেই বের হতে পারতেছি না। এখন এই টাকা দিয়ে কী করব? দরকার ছিল খাদ্য, স্যালাইন, পানি।”

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “এই দলের অভিনয় দেখতে দেখতে আজকে আমরা অস্থির। কৃতজ্ঞতা বোধ খুবই কম। ৯১ সালে আমরা সাথে নিয়ে সরকার গঠন করেছিলাম। সেবার চট্টগ্রামসহ অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের ওপর ভর করে তারা দখল করেছিল।

“এরপরে তাদের নামের পিছনে আগে তো রাজাকার লেখা আছেই, সেই রাজাকার থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি দেওয়ার জন্যে আমাদের শ্রদ্ধেয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০১ সালে তাদের দুইজন নেতার গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়েছিলেন। ভুলে গেছেন। বেমালুম ভুলে গেছেন।”

তিনি বলেন, “আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। টু থার্ড মেজরিটি নিয়ে আমরা সরকার গঠন করেছি। আপনারা ভুলে গেছেন। ছয় মাসের মাথায় লং মার্চ করে হুমকি দেন, এক দফার আন্দোলন করে এই সরকারের পতন করবেন। এই সরকার হচ্ছে জনগণের সরকার।

“বিদ্যুৎ এবং জ্বালানির ঘাটতি এটা আমাদের সৃষ্টি নয়। উত্তরাধিকার সূত্রে আমরা পেয়েছি। আগের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলের এসমস্ত জটিলতা আমাদের ঘাড়ে এসেছে চেপেছে। আমাদের ক্ষমতা তো মাত্র সাত মাস। চেষ্টা করছি। যেখানে ব্যর্থ হয়েছি আমরা দুঃখ প্রকাশ করেছি। কারণ জনগণের সাথে আমাদের আত্মার সম্পর্ক।”

বিরোধী জোটের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “১১ দলীয় জোট করছে না কয়েকটা দল। ফুটবল টিম। আমাদের সাথে খেলতে নামছে। ছয় মাস না যেতেই বলে এক দফা দাবি, পতন করে দেব। আমি তাদেরকে মনে করিয়ে দিতে চাই, আন্দোলনের অভিজ্ঞতা আপনাদের চাইতে আমাদের বেশি আছে।

“আমরা ২০ বছর জেল জুলুম নির্যাতন মামলা হুলিয়া সবকিছু করে আজকে এই জায়গায় এসেছি। ১৪ সালের পর তো আপনাদের খুঁজেই পাওয়া যায়নি। বট বাহিনী হয়ে ছিলেন। অভিনেতা হয়ে ছিলেন। গুপ্ত হয়ে ছিলেন। হঠাৎ আবির্ভাব হয়েছে। একটি বাচ্চাকাচ্চাদের রাজনৈতিক দলের ওপর ভর করে।”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “কিছু আসন নিয়ে বিরোধী দলের জায়গায় বসেছেন। চরিত্রের পরিবর্তন করতে পারেননি। সংসদে সুন্দর সুন্দর কথা বলেন। বাইরে গিয়ে উল্টাপাল্টা বলেন। এই গুপ্ত এবং ভণ্ডদের কাছ থেকে সাবধান থাকতে হবে।”

‘স্বৈরাচারের সাথে একটা লাইন আছে’

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির নেতাদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “আপনাদের প্রতি তরুণ প্রজন্মের একটা আশা আকাঙ্ক্ষা ছিল। যে তরুণ নেতৃত্ব দেশে একটা ভালো কিছু করবে। এজন্য আপনাদেরকে দুয়েক জায়গা থেকে নির্বাচিতও করেছে। কিন্তু আপনারা যে ভাষায় কথা বলেন, এটা রাজনৈতিক ভাষা নয়।

“রংপুর-বগুড়ার লংমার্চে, ঢাকা-চট্টগ্রামের লংমার্চে বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি এবং ওই যে আরেকটা কি পাটোয়ারী, এরা যে ভাষায় কথা বলে। বিশেষ করে আমাদের শ্রদ্ধেয় নেতা তারেক রহমানের ব্যাপারে ওই বয়সের বাচ্চাদের মুখ দিয়ে যখন শিষ্টাচার বহির্ভূত কথাবার্তা বের হয়।”

বিএনপির যাদের শরীরে এক ফোঁটা রক্ত আছে তাদের এসব মন্তব্য সহ্য করবার কথা নয় তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদেরকে ধৈর্য্য ধরতে বলা হয়েছে বলে, আমরা ধৈর্য্য ধরে আছি। আমরা যদি মনে করি, ২০৩১ পর্যন্ত এই রাজপথ বিএনপি দখল করে রাখবে আমরা তাই রাখতে পারি। সেই ক্ষমতা আছে।

“বিএনপিকে হুমকি দেবেন না। বিএনপি কারো হুমকিতে পরোয়া করে না। আজকে আপনারা যেটা করছেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশকে নতুন করে আমন্ত্রণ জানানোর চেষ্টা করছেন।”

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এনসিপির নাহিদ ইসলাম, হাসনাত, সার্জিস একসময় ছাত্রলীগ করত। অনেকে শিবির করত। আমাদের সন্দেহ হয়। আপনারা যেহেতু সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। ১১ দলীয় জোটে আছেন। আপনাদের সাথে ইন্ডিয়াতে স্বৈরাচার হাসিনার তো একটা লাইন আছেই।

“আর জামায়াত তো ৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সাথে আন্দোলন করেইছে। পুরানা ঘর করা লোক। এদের সাথে কিন্তু পুরাতন একটা সম্পর্ক আছে। সেই সম্পর্ক ভবিষ্যতেও জোড়া লাগতে পারে।”

বাহারচড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহাবুবের রহমান শামীম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ জকরিয়া, চট্টগ্রামের ডিসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো.ইদ্রিস মিয়া।