২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

পাহাড়তলী বধ্যভূমি সম্প্রসারণের ঘোষণা মেয়র রেজাউলের

“হীনস্বার্থে ভূমিখেকোরা জায়গা দখল করতে করতে পাহাড়তলী বধ্যভূমিকে সংকুচিত করে ফেলেছে,” বলেন তিনি।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Dec 2023, 10:33 PM

Updated : 14 Dec 2023, 10:33 PM

১৯৯৮ সালে প্রধানমন্ত্রী রায়েরবাজার ও পাহাড়তলী বধ্যভূমি রক্ষার নির্দেশ দেন। ১৯৯৯ সালে এই বধ্যভূমির স্মৃতি রক্ষার্থে সেময়ের সরকার জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেয়। এই প্রকল্পের জন্য ৯৮ লাখ টাকা বরাদ্দও দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে চারদলীয় জোট সরকার প্রকল্পটি বাতিল করলে বরাদ্দ করা সেই অর্থ ফেরত যায়। ওই সরকারের সে সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, মুনতাসির মামুন ও গাজী সালেহ উদ্দিনসহ কয়েকজন হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন করেন।

পাহাড়তলী বধ্যভূমির জমিতে ২০০৭ সালে একটি ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে বেসরকারি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, চট্টগ্রাম (ইউএসটিসি) কর্তৃপক্ষ। এর বিরুদ্ধে ২০১০ সালে আরেকটি রিট আবেদনে ওই ভবন নির্মাণে স্থগিতাদেশ দেয় আদালত।

২০১১ সালের ৬ জুন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়, তদন্ত শেষে পাহাড়তলী বধ্যভূমির স্থান নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য।

তরুণ প্রজন্মের কাছে শহীদ বুদ্ধিজীবী এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকাকে তুলে ধরতে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী বধ্যভূমি সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের দুপুরে এ বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন।

পরে ‍সন্ধ্যায় ওই বধ্যভূমিতে প্রদীপ প্রজ্বালন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন চট্টগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধারা। শ্রদ্ধা জানান বিভাগীয় কমিশনার তোফায়েল ইসলাম, জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান ও নগর পুলিশের কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়সহ অনেকে।

এরআগে বৃহস্পতিবার দুপুরে পাহাড়তলী বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৮ ডিসেম্বর এই বধ্যভূমিতে পাক হানাদার বাহিনীর নির্মমতায় প্রাণ হারানো শহিদদের লাশ দেখেছি। হীনস্বার্থে ভূমিখেকোরা জায়গা দখল করতে করতে পাহাড়তলী বধ্যভূমিকে সংকুচিত করে ফেলেছে। মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে চট্টগ্রামের বধ্যভূমির সম্প্রসারণ অত্যন্ত প্রয়োজন।

“একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তরুণদের জন্য মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন রক্ষার্থে বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সংস্কৃতিকর্মী, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে একটি কমিটি করব। কমিটির সুপারিশক্রমে পাহাড়তলী বধ্যভূমিকে সম্প্রসারিত করব।”

ওই কমিটির কাছে সাক্ষ্যদাতাদের বক্তব্য অনুসারে, ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ওই বধ্যভূমিতে গণহত্যা সংঘটিত হয়। প্রায় পৌনে ২ একর এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল মানুষের মাথার খুলি, কঙ্কাল ও হাড়গোড়। এর মধ্যে ১৯৭১ সালের ১০ নভেম্বর ‘পাহাড়তলি গণহত্যা’ সংঘটিত হয়। বাঙালিদের ধরে এনে হত্যা করা হয় বিহারিদের সহায়তায়।

প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীরা জানান, সেখানে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। যেখানে ইউএসটিসি ভবন নির্মাণ করেছে, সেখানেই ১৯৭১ সালের ১০ নভেম্বর হত্যাকাণ্ডের পর লাশ ফেলে রেখেছিল পাকিস্তানি বাহিনী।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০১৪ সালের ১১ মার্চে দেওয়া এক আদেশে এক দশমিক ৭৫ একর জমির সম্পূর্ণ অংশ পাহাড়তলী বধ্যভূমি বলে রায় দেওয়া হয়।

বধ্যভূমি হিসেবে চিহ্নিত জমির বেশিরভাগ বেসরকারি ইউনির্ভাসিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, চট্টগ্রামের (ইউএসটিসি) দখলে রয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন থেকে জমি অধিগ্রহণের জন্য অর্থের চাহিদাপত্র মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় ২০২০ সালে। এতে তখন প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছিল।