২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

চুয়েটে ৩৬ দিন পর ক্লাস শুরু কেবল একটি বিভাগে

একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরলেও সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

চুয়েটে ৩৬ দিন পর ক্লাস শুরু কেবল একটি বিভাগে

উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ডাকা শাটডাউন কর্মসূচির কারণে গেল ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে কোনো ক্লাস ও পরীক্ষা হয়নি। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরেছেন বুধবার।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 28 Oct 2026, 02:09 PM

Updated : 28 Oct 2026, 02:09 PM

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের ৩৬দিন পর ক্লাস শুরু হয়েছে।

তবে ১২টি বিভাগের মধ্যে ক্লাস হয়েছে কেবল নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে; বুধবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া ওই ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম।

বেশিরভাগ বিভাগে বৃহস্পতিবার ও অবশিষ্ট বিভাগগুলোতে রোববার থেকে ক্লাস শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, “আজকে কম সংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়েই ক্লাস হয়েছে। রুটিন অনুসারে আজ ল্যাব হওয়ার কথা থাকলেও সেটি হয়নি।”

এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গঠিত ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে।

সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে কমিটি। এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়। বেলা আড়াইটা থেকে ৩টা পর্যন্ত কর্মকর্তাদের এবং বেলা সাড়ে ৩টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।

একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরলেও সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

একইসঙ্গে নতুন উপাচার্যের প্রতি পূর্ণাঙ্গ অসহযোগ বজায় রেখেই শিক্ষার্থীদের স্বার্থে একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সংগঠনগুলো।

আন্দোলনের কারণে ২১ কর্মদিবস ক্লাস হয়নি। এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের পূর্ব নির্ধারিত ২৪টি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।

আগের উপাচার্যকে পুনবর্হালের দাবিতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। রোববার আন্দোলনের ৩৪তম দিনে এসে ক্লাসে ফেরার আগ্রহের কথা জানায় তারা।

ওইদিন সাধারণ সভা করে শিক্ষক সমিতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ‘প্রলম্বিত না করতে’ একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন এই তিন সংগঠন যৌথ সভা শেষে এক যুক্ত বিবৃতিতে ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

তবে নতুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্যের ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক যে কোন কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে পূর্বঘোষিত কর্মবিরতি ও সর্বাত্মক অসহযোগ কঠোরভাবে পালিত হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষক সমিতি।

পাশাপাশি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরাও জানিয়েছে, নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে ক্যাম্পাস ফের আন্দোলনে উত্তাল হবে। নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে এসে দায়িত্ব পালনের উদ্যোগ নিলে ফের শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা এবং ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনে ফিরে যাবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

গেল ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ক্যাম্পাসে দুর্গাপূজার ছুটি ছিল। রোববার থেকে কর্মদিবস শুরু হলেও চলমান আন্দোলনের কারণে মঙ্গলবার পর্যন্ত অচল ছিল চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

নিয়োগের ৫৬ দিনের মাথায় আগের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয় ২১ সেপ্টেম্বর।

এর প্রতিবাদে আগের উপাচার্যকে পুনবর্হালের দাবিতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করে শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি ঘোষণা করে শিক্ষক সমিতি এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতি।

আন্দোলন চলার মধ্যেই ২৪ সেপ্টেম্বর অনলাইনে উপাচার্য পদে যোগদান করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।

১২ অক্টোবর সকালে প্রথমবারের মত নিজ কার্যালয়ে যান উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সেদিন দুপুরে উপাচার্য ভবনে তালা দিলে তিনি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

পরদিন সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের সহায়তায় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়ে ক্যাম্পাস ছাড়েন উপাচার্য।

১৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অবস্থানকালে অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা করেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। সভায় ১৫ জন সিন্ডিকেট সদস্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ছয়জন।

ওই সভায় নেওয়া তিনটি সিদ্ধান্ত মধ্যে একটি ছিল- অচলাবস্থা নিরসনে ও অনতিবিলম্বে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে একটি ‘নিরপেক্ষ ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন’ কমিটি গঠনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি সুপারিশ পাঠানো।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা নিরসনে ১৮ অক্টোবর ছয় সদস্যের পরামর্শক কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তবে ওই কমিটিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক বা প্রতিনিধি নেই।

পুরনো খবর:

চুয়েট শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরছেন ৩৬ দিন পর