টাঙ্গাইলের কিশোরী উদ্ধার হল চট্টগ্রামে, গ্রেপ্তার ২

র‍্যাবের ভাষ্য, ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে চট্টগ্রামে আটকে রেখে ‘যৌন ব্যবসায় বাধ্য করার’ চেষ্টা ছিল গ্রেপ্তার দুজনের।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 7 August 2022, 10:03 AM
Updated : 7 August 2022, 10:03 AM

‘ভালো’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘পড়ানোর’ প্রলোভন দেখিয়ে টাঙ্গাইল থেকে এক কিশোরীকে চট্টগ্রামে এনে আটকে রাখার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

বন্দরনগরীর হালিশহর থানার ছোটপুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে শনিবার একটি বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রীর ‘মিথ্যা পরিচয়ে’ থাকা দুজনকে গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে।

র‌্যাব বলছে, ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে চট্টগ্রামে আটকে রেখে ‘যৌন ব্যবসায় বাধ্য করার’ চেষ্টা ছিল গ্রেপ্তার দুজনের।

গ্রেপ্তার দুজন জলেন সাদিয়া আক্তার রুনা (১৯) এবং মো. ফরিদ (২৮); তাদের মধ্যে রুনা টাঙ্গাইলের ঘাটাইল এলাকায় ওই কিশোরীর প্রতিবেশী। আর ফরিদের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায়।

ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই কিশোরীকে উদ্ধারের পর র‍্যাব জানতে পেরেছে, চট্টগ্রামে আনার পর ফরিদ তাকে একবার ‘ধর্ষণের চেষ্টাও’ করে।

র‌্যাব-৭ এর হাটহাজারী ক্যাম্পের কমান্ডার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, প্রতিবেশী হওয়ায় রুনার সঙ্গে ওই কিশোরীর এক ধরনের সখ্য ছিল। গত ৩১ অগাস্ট রুনা চট্টগ্রাম থেকে মেয়েটিকে ফোন করে বলেন, আরও দুজন ছাত্রী তার সঙ্গে একই জায়গায় থেকে পড়াশোনা করবে। এরপর ১ অগাস্ট ওই কিশোরী ঘাটাইল থেকে পালিয়ে চট্টগ্রামে চলে আসে।

“চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর ফরিদ তাকে বাস কাউন্টার থেকে ছোটপুলের বাসায় নিয়ে যায়। কিন্তু ওই বাসায় অন্য ছাত্রী বা আর কাউকে না দেখে কিশোরী প্রশ্ন তুললে ফরিদকে নিজের স্বামী হিসেবে পরিচয় দিয়ে রুনা তাকে শান্ত হতে বলেন।”

র‌্যাব কর্মকর্তা মাহফুজ বলেন, রুনা ও ফরিদ স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে গত ১ অগাস্ট ওই বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছানোর পর ওই কিশোরীর সঙ্গে থাকা টাকা পয়সা নিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন রুনা, যাতে সে পালাতে না পারে।

“গত ৩ অগাস্ট রাতে ফরিদ মেয়েটিকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করলে সেই কিশোরী বটি নিয়ে ধাওয়া দেয়, ফরিদ তখন পালিয়ে যায়।“

এদিকে মেয়ের সন্ধানে কিশোরীর বাবা ঘাটাইল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে তাকে উদ্ধারের খবর পেয়ে তিনি চট্টগ্রামে র‍্যাবের কাছেও আবেদন করেছেন বলে জানান মাহফুজুর রহমান।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক