‘অনলাইনে গুজব প্রতিরোধে সবার অংশগ্রহণ জরুরি’
“সমাজে যারা ইনফ্লুয়েন্সার আছেন, তাদের ভূমিকাও দরকার৷ ফ্রি ল্যান্সারদেরও আমরা সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করেছি।”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তি রোধে সরকারের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবার অংশগ্রহণ জরুরি বলে মত এসেছে চট্টগ্রামের এক মতবিনিময় সভায়।
শনিবার নগরীর মোটেল সৈকতে শুক্রবার ওই সভায় শিক্ষাবিদ, গবেষক, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সাদি উর রহিম জাদিদ বলেন, “গুজব সারা বিশ্বেই একটা প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়। অনেক আগে থেকেই এটা আছে। দেশের নগর এলাকায় সাক্ষরতা বেশি হলেও অন্য এলাকায় কম। তাই গুজব নিয়ন্ত্রণ কঠিন।”
গুজব প্রতিরোধে সরকার একদম তৃণমূল থেকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ নিয়ে কমিটি গঠন করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এরপরও পুরোপুরি এ ধরনের ঘটনা থামানো যায়নি। আসলে প্রতিরোধমূলক নয় প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধে অংশীজনদের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট।
ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট অবসরপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত এম. হুমায়ুন কবির বলেন, “বিবর্তনশীল সমাজে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি করছে। একটা প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে যাদের জীবনের সাথে ওতপ্রতোভাবে জড়িত প্রযুক্তি। অনেক চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। যা প্রচলিত মূল্যবোধ, প্রতিষ্ঠান ও জীবন পদ্ধতিকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করে দিচ্ছে।
“সমাজের মাল্টিপ্লায়ারদের এ বিষয়ে সচেতন করতে চাই। যাতে সুযোগগুলোকে আমরা গ্রহণ করতে পারি। চট্টগ্রাম, খুলনা ও রংপুরে পাইলট প্রকল্প করছি। ডিজিটালাইজেশনে সরকার অনেক উদ্যোগ নিয়েছে, অনেক আইন করেছে। যাদের জন্য করছে তারা কতটা উপকৃত হচ্ছে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিনবোধী ভিক্ষু বলেন, “মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে। একে অন্যের প্রতি সম্মান, আন্তরিকতা ও বিশ্বাস থাকতে হবে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে কী করব, সেটা ঠিক করতে হবে।”
মূল্যবোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে অধ্যক্ষ সৈয়দ মো. আবু ছালেহ বলেন, “ভুল তথ্য দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে অপরাধ। কেউ ভুল তথ্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার দায় ভুল তথ্য প্রচারকারীকে নিতে হবে।”
দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এ আয়োজনে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের গবেষণা সহকারী ইফতেখার হাসান।
