বিএনপির সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা নেই: নাছির
টানা ১৪ বছর ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পেরেছে, বলেছেন চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র।
বিএনপির সঙ্গে জনগণের চাওয়া-পাওয়ার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন।
সোমবার বিকালে বোয়ালখালীতে আদর কমিউনিটি সেন্টারে চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী নোমান আল মাহমুদের সমর্থনে গণসংযোগকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাছির বলেন, “নির্বাচন নিয়ে এখন বিএনপি-জামাত যে মিথ্যাচার করছে তা গণতান্ত্রিক আচরণ নয়। তারাই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নষ্ট করেছে। তাই এদের সাথে জনগণের চাওয়া-পাওয়ার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
“আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়া পূরণ করেছে। এ কারণে আওয়ামী লীগ ধারাবাহিকভাবে তিন দফায় ক্ষমতায়… একটানা ১৪ বছর ক্ষমতায় থাকায় আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে উন্নয়নের অভিযাত্রা ও মানুষের কল্যাণের জন্য সবচাইতে বেশি অবদান রাখতে পেরেছে।”
নাছির বলেন, “ভোট ও ভাতের অধিকার যারা হরণ করতে চায়, তারা কখনও জনবান্ধব নয়। তারা চায় যেকোনোভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে। এভাবে তারা সাধারণ জনগণকে জিম্মি করে রাখে এবং জোরপূর্বক ক্ষমতার লাগাম ধরে রাখতে অপচেষ্টা চালায়।
“আমরা এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে লড়াই করছি। আমরা একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ।”
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “চট্টগ্রাম- ৮ আসনের উপনির্বাচনকে যাতে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে, সে ব্যাপারে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। এই নির্বাচনটি আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছি।
“কারণ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হলে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তা প্রভাব ফেলবে। প্রহসনমূলক নির্বাচন তারাই করেছে। কেননা এই দলটি জনগণ সাধারণ মানুষের কাতার থেকে নয় ক্যান্টনমেন্টে জন্ম নিয়েছে।”
দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, “নির্বাচনে যাতে ভোটারদের আশানুরূপ উপস্থিতি থাকে সে জন্য ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদেরকে ভোট কেন্দ্রে আনতে হবে। কারণ একটি মহল ছলে বলে কৌশলে ভোট কেন্দ্রে যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে আসতে না পারে সেই কুমতলব করছে।”
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা ও নগরীর পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও ও বায়েজিদ বোস্তামী থানার আংশিক এলাকা নিয়ে চট্টগ্রাম-৮ আসন।
২০১৮ সালে মহাজোটের শরিক হিসেবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ নেতা মইন উদ্দিন খান বাদল এ আসনে নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর তার মৃত্যু হলে প্রথম দফা উপনির্বাচনের প্রয়োজন পড়ে।
পরে বছরের ১৩ জানুয়ারি উপনির্বাচনে মোছলেম উদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্য হন। গত ৬ ফেব্রুয়ারি তারও মৃত্যু হলে সংসদের মেয়াদের প্রায় এক বছরেরও কম সময় বাকি থাকতেই দ্বিতীয় দফায় নির্বাচনের প্রয়োজন পড়ে।
এ প্রেক্ষিতে আগামী ২৭ এপ্রিল উপনির্বাচনের সিদ্ধান্ত জানায় নির্বাচন কমিশন। ইভিএমে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন নগর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ।
এদিনের গণসংযোগে অংশ নিয়ে নোমান বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে আমার নির্বাচনী এলাকায় যে সমস্যাগুলো রয়েছে তা সমাধানে আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো।
“এই সংসদের মেয়াদ আর মাত্র ৯ মাস। আমি নির্বাচিত হলে যতটুকু সম্ভব এলাকাবাসীকে সেবা প্রদানে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করব।”
বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রাজার সঞ্চালনায় নগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা শফর আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, তিমির বরণ চৌধুরী, বোরহান উদ্দিন, জহিরুল ইসলাম জহুর, মো. ঈছা, কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, শৈবাল দাশ সুমন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
