ইসলামী ব্যাংকের টাকা ‘আত্মসাতে’ এস আলমের বিরুদ্ধে ২ মামলা
মামলা দুটিতে এস আলমের স্বজন ও ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংক থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এবার চট্টগ্রামে আলোচিত শিল্প গ্রুপ এস আলমের চেয়ারম্যান সাইফুল আলমের (এস আলম) বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার দুদক চট্টগ্রামের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ১ এ মামলা দুটি দায়েরের তথ্য দিয়েছেন সংস্থার উপ পরিচালক সুবেল আহমেদ।
মামলা দুটিতে এস আলমের স্বজন, চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের কর্মকর্তা এবং ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
দুটি মামলার একটি করা হয়েছে ইসলামী ব্যাংক থেকে আদিল করপোরেশন নামে একটি কোম্পানিকে এক হাজার কোটি টাকার টাকার বেশি ঋণ দেওয়া এবং পরে তা এস আলম গ্রুপের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে।
অপর মামলা করা হয়েছে ইসলামী ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখায় একটি হিসাবে ৫২১ কোটি টাকার ‘অস্বাভাবিক’ লেনদেনের মাধ্যমে এস আলম গ্রুপের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অর্থ স্থানান্তর করে তা আত্মসাতের অভিযোগে।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ পরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক বাদী হয়ে করা মামলায় অভিযোগ, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস আলমের ভাগ্নে মোহাম্মদ মোস্তাইন বিল্লাহ আদিল তার প্রতিষ্ঠান আদিল করপোরেশনের নামে ২০১৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখায় চলতি হিসাব খোলেন। পরদিন ঋণের জন্য আবেদন করেন এবং তিন দিনের মাথায় ব্যাংক তা অনুমোদন করে।
এজাহারে বলা হয়, যোগ্যতা না থাকার পরও প্রতিষ্ঠানটিকে ‘বিশেষ বিনিয়োগ’ সুবিধার বিপরীতে ১০টি বিনিয়োগ সুবিধা (ঋণ) দেওয়া হয়। ২০১৭ সালে আদিল করপোরেশনের ঋণসীমা ৪০০ কোটি টাকা থাকলেও নিয়ম বহির্ভূতভাবে তা বাড়ানো হয়। সুদ ও আসলসহ বেড়ে এটির বর্তমান স্থিতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২১৭ কোটি ৪৫ কোটি টাকা।
এ মামলায় অভিযোগ করা হয়, ঋণ দেওয়ার পর ২০২২ সালের ৮ নভেম্বর থেকে পরের বছরের ২৯ অগাস্ট পর্যন্ত আদিল করপোরেনের হিসাব থেকে নাম সর্বস্ব নয়টি প্রতিষ্ঠানের হিসাবে এক হাজার ৭৭ কোটি ১১ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়। পরে এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন কোম্পানিতে স্থানান্তর করা হয়।
এ মামলায় ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ ৩১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অপরদিকে সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসানের করা মামলায় বলা হয়, অভিযোগের অনুসন্ধান করতে গিয়ে দুদক জানতে পারে, ইসলামী ব্যাংকে টপটেন নামে একটি হিসাব থেকে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ডেবিট ভাউচারের মাধ্যমে ৫২১ কোটি ৫২ লাখ টাকা এস আলম গ্রুপের কয়েকটি অয়েল মিলের হিসাবে জমা করার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়।
দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ১৯৪৭ এর ৫(২) এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলাগুলো করা হয়েছে।
