Published : 02 Aug 2026, 10:27 PM
সরকারি দলের ছাত্রসংগঠনের ‘একক আধিপত্যের প্রবণতা’ এবং বর্তমান ক্ষমতাসীনদের মধ্যে ‘স্বৈরাচারী প্রবণতা’ তৈরি হওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে সবাইকে আহ্বান করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরও এখনো সংস্কার ও বিচার নিশ্চিত হয়নি মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ দাবি করেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার না হলে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা ফিরে আসবে।”
রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সমাজবিজ্ঞান অডিটোরিয়ামে জাতীয় ছাত্রশক্তি আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: প্রতিরোধ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ বলেন, “২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেভাবে নির্যাতন ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন, ভবিষ্যতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে এখান থেকেই প্রথম প্রতিরোধ গড়ে উঠবে বলে আমি বিশ্বাস করি। বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও কথা বলার সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা বহু মানুষের আত্মত্যাগের ফল। এই অর্জন ধরে রাখতে হবে।”
জুলাই অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আন্দোলনটি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নেতৃত্বে সংঘটিত হলেও ৫ অগাস্টের পর রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকার কারণে অনেক লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। সে সময় ক্ষমতার কেন্দ্র নিয়ে সমঝোতা হয়েছে এবং রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তনের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে।”
এ সময় রাষ্ট্রপতি নিয়োগসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ‘দলীয়করণের’ সমালোচনা করে তিনি যোগ্যতার ভিত্তিতে এসব পদে নিয়োগের দাবি তোলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষক নিয়োগ, ছাত্র সংসদ নির্বাচন, সহাবস্থান, একাডেমিক পাঠ্যক্রম ও কর্মসংস্থানের মত বিষয়গুলো এখন ছাত্ররাজনীতির প্রধান এজেন্ডা হওয়া উচিত। কোটা আন্দোলনের মূল প্রেরণাও ছিল কর্মসংস্থান।”
বিশ্ববিদ্যালয়কে ফ্যাসিবাদমুক্ত রাখতে এবং অতীতে সুবিধাভোগী হয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের চেষ্টা প্রতিহত করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান নাহিদ। জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাস, স্মৃতি ও রাজনৈতিক চেতনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষণ এবং চর্চার তাগিদ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোজাম্মেল হক, বায়োকেমিস্ট্রি ও মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক রেজওয়ানুল হক এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ সোহাইব।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার ও আলী আহসান জুনায়েদ। এছাড়া জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মহির আলম এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান তালাত মাহমুদ রাফি উপস্থিত ছিলেন।