১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় কোটা আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ

আন্দোলনকারীদের পাশে অবস্থান নিয়ে হাত তালি দিয়ে তাদের উৎসাহ যোগান বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Jul 2024, 06:21 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:08 AM

‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ করেছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা।

সারা দেশে ছাত্র-জনতার ওপর ‘হামলা, হত্যা, মামলার’ প্রতিবাদে আন্দোলনকারীরা বুধবার ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি ঘোষণা করে।

এদিন বেলা পৌনে ১২টা থেকে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আদালত এলাকার আইনজীবী ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন তারা। পরবর্তীতে আইনজীবীদের অনুরোধে বেলা ৩টার দিকে আদালত এলাকা থেকে সরে যান।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার চট্টগ্রামের আদালত এলাকায় বেলা ১১টা থেকেই জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। আদালত এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য। তারা অনেককে তল্লাশিও করছিলেন।

আইনজীবী ভবনের সামনে বিক্ষোভের আগে কোর্ট বিল্ডিং সড়কের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। বিএনপি-জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাদের আদালত প্রাঙ্গনের দিকে নিয়ে আসেন পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে। সেখানে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরাও অবস্থান নিলে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়।

আদালত এলাকায় হাজারো আন্দোলনকারী বিক্ষোভ দেখান। শিক্ষানবীশ আইনজীবীরাও তাদের সঙ্গে যুক্ত হন। আন্দোলনকারীদের হাত তালি দিয়ে তাদের উৎসাহ যোগান বিএনপি-জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা। আন্দোলনকারীদের সমর্থন দেওয়া আইনজীবীরা তাদের পানি, কলা, রুটির ব্যবস্থাও করেন।

দোয়েল ভবন ও এনেক্স ভবনের সামনে চার রাস্তার মোড়ে আন্দোলনকারীরা স্লোগান দিতে থাকলে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এসময় বিএনপি-জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা হাতে হাত ধরে দুই পক্ষের মাঝে অবস্থান নেন। বেলা ২টার দিকে আওয়ামীপন্থি আরও আইনজীবী জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকলে দুই পক্ষের জুনিয়র আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে আওয়ামীলীগ ও বিএনপন্থি সিনিয়র আইনজীবীরা উভয়পক্ষ থেকে থামিয়ে দিয়ে আন্দোলনকারীদের সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন।

আন্দোলনকারীরা মূল আদালত ভবনের চত্বরে যেতে না পারলেও তাদের কর্মসূচির কারণে বিচারপ্রার্থী লোকজনকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। যানবাহন চলাচল করতে না পারায় অনেককেই পায়ে হেঁটে আদালতে যেতে হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) এএএম হুমায়ুন কবির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আন্দোলনকারীরা আদালতের ভবন এলাকায় উঠেনি। তারা সড়কে অবস্থান নিয়েছিল। যে কারণে আদালতের দাপ্তরিক ও বিচারিক কাজে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

“কারাগার থেকে আসামি আদালতে আনা হয় সকালে। আন্দোলনকারীরা জড় হয়েছিল ১১টার পর, যার কারণে কারগারের আসামি আনা নেওয়ায় কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি।”

এছাড়া বিভিন্ন থানা থেকে যেসব আসামি আনা হয়, তাদের কাউকে সকালে ১১টার আগে এবং কিছু আসামিকে বেলা ৩টার পর আদালতে নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

কোতোয়ালি থানার ওসি কেএম ওবায়দুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আন্দোলকারীরা মূল আদালত ভবনের কাছে যেতে পারেনি। তারা আইনজীবী ভবনের সামনে বসেই স্লোগান দিয়েছিল। সেখানে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থেকে পরে নিজেরাই চলে যায়।”