Published : 18 Oct 2025, 08:25 PM
চট্টগ্রামের প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামের নতুন উপজেলার সঙ্গে ১১ নম্বর সুয়াবিল ইউনিয়ন এবং নাজিরহাট পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডকে যুক্ত না করার দাবি উঠেছে।
শনিবার নগরীর জিইসি মোড়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘সুয়াবিল অধিকার সংরক্ষণ ফোরম’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এই দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও সুয়াবিল গ্রামের বাসিন্দা অধ্যাপক মনজুরুল কিবরীয়া বলেন, “প্রশাসনিক বিকেন্দ্রিকরণের লক্ষ্যে নতুন উপজেলা বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।
“কিন্তু একটি কুচক্রী মহল এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আইনি জটিলতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সুয়াবিল ইউনিয়ন ও নাজিরহাট পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ডকে প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সঙ্গে সংযোজনের প্রস্তাব করেছে।”
এতে বৃহত্তর সুয়াবিল ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ উদ্বেগ, ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রস্তাবিত উপজেলার সঙ্গে সুয়াবিল ইউনিয়ন ও নাজিরহাট পৌরসভার অংশ বিশেষকে সংযোজন কারণে কারণে প্রচলিত আইন ও জনস্বার্থবিরোধী।”
২০২১ ও ২০২৩ সালে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ২০২৩ সালের ২৪ সেপেটম্বর চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা জানিয়ে অধ্যাপক মনজুরুল কিবরীয়া বলেন, “এসব প্রতিবেদনের কোথাও সুয়াবিল ইউনিয়ন ও নাজিরহাট পৌরসভার তিন ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত ছিল না এবং অন্তর্ভুক্তির জন্য জনগণেরও কোনো দাবি ছিল না।
“বৃহত্তর সুয়াবিল ইউনিয়ন হতে প্রস্তাবিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। অথচ ফটিকছড়ি উপজেলা সদরের দূরত্ব মাত্র সাড়ে চার কিলোমিটার। প্রস্তাবিত উপজেলা বাস্তবায়ন হলে এই এলাকার মানুষকে ৪ কিলোমিটারের বদলে ৪০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে সকল নাগরিক সেবা নিতে হবে।”
তাছাড়া অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও যানবাহনের অপ্রতুলতার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসেবার পরিবর্তে বৃহত্তর সুয়াবিল ইউনিয়নের অধিবাসীদের দুর্ভোগ আরও অনেকগুণ বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অধ্যাপক মনজুরুল কিবরীয়া বলেন, “প্রস্তাবিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সঙ্গে পৌরসভার অংশকে যুক্ত করা হলে দ্বৈত প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হবে।
“এ ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকারি বিধিবদ্ধ আইন আছে। যাতে জনগণের মতামতের প্রাধান্য ও গণশুনানির ব্যবস্থা করা হয়। এ ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কোনো গণশুনানি না করে সুয়াবিল এলাকার জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ এর পরিচালক রকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, “ফটিকছড়ির আয়তন ফেনী জেলা থেকেও বড়। এখানে তিনটি উপজেলা বাস্তবায়নের দাবি বহু আগের। সরকার উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের কিছু ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা নামে আলাদা উপজেলা প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যা অত্যন্ত আনন্দের।
“তবে অবশ্যই সেই উপজেলার সদর দপ্তর হতে হবে যৌক্তিক হিসাবে নারায়ণহাটের আশেপাশে। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আবারও ভুজপুরে উপজেলা নিয়ে যাওয়ার জন্য দক্ষিণ ফটিকছড়ির সুয়াবিল ইউনিয়ন ও নাজিরহাট পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডকে সংযুক্ত করা হচ্ছে।”
উত্তর ফটিকছড়ি নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ওসমান গণি মজুমদার বলেন, “ফটিকছড়িকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে। উল্লেখিত প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে ফটিকছড়িতে আগুন জ্বলবে। উত্তর ফটিকছড়ির আয়তন পুরো উপজেলার অর্ধেক। পৌণে দুই লাখ ভোটারের ভাগ্য নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলা হলে ফটিকছড়িসহ চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ির যোগাযোগ অচল হয়ে যেতে পারে।”
সুয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এস এম শফিউল আলম, বৃহত্তর সুয়াবিল অধিকার ফোরামের ডা. এস এম ফরিদ, আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইসমাইল গনি, সুয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মনসুর আলী সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।