চট্টগ্রামে দুর্গাপুরের মেয়রের পিএসকে ‘অপহরণ’ চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৫

বাসটিতে ওঠার জন্য সড়কে কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি করা হয়। পরে তুলাতলীতে ১০/১২ জন পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাসটিতে উঠে পড়েন।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 August 2022, 01:33 PM
Updated : 4 August 2022, 01:33 PM

কক্সবাজার থেকে ফেরার পথে বাস থেকে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের পৌর মেয়রের ব্যক্তিগত সহকারীকে চট্টগ্রামে ‘অপহরণের’ চেষ্টা যাত্রীদের বাধায় ভেস্তে যায়; পরে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মেয়রের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) সাগর খান (২০) ও সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাসটি বুধবার রাতে নগরীর বাকলিয়া থানার তুলাতলী এলাকায় পৌঁছলে পুলিশ পরিচয়ে একটি দল তল্লাশির নামে উঠে পড়ে।

এসময় তারা সাগরকে জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে তার সঙ্গীদের বাধার মুখে পড়ে। ওই সময় হাতেনাতে একজনকে আটক করে। পরে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন বাকলিয়া থানার ওসি আব্দুর রহিম।

গ্রেপ্তাররা হলেন- আলী আকবর (২৪), শহীদুল ইসলাম শাহীন (২৫), মো. রবিন (২৫), মো. আরাফাত (২২) ও মো. মিনহাজ (২১)। তাদের মধ্যে আকবরকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন মেয়রের সফর সঙ্গীরা।

ওসি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, এসময় বাসে থাকা অন্য যাত্রীরা আকবরকে হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। আশেপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে কয়েক জনকে শনাক্ত করা হয়। রাতেই বাকলিয়ার বিভিন্ন এলাকা ও কর্ণফুলী থানার মইজ্জ্যার টেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান ওসি।

গত ৩০ জুলাই পরিবারের সদস্য এবং কিছু অনুসারী নিয়ে কক্সবাজার সফরে গিয়েছিলেন নেত্রকোণার দুর্গাপুরের মেয়র আলাউদ্দিন আলাল। বুধবার রাতে নেত্রকোনা ফেরার পথে বাকলিয়া তুলাতলী এলাকায় বাস থেকে তার ব্যক্তিগত সহকারী সাগর খানকে (২০) অপহরণের চেষ্টা করা হয়।

ওসি রহিম জানান, যে বাস থেকে সাগরকে অপহরণ চেষ্টা হয়েছে সে বাসে মেয়রের অনুসারীরা ছিলেন। বাসের সামনে নিজের পরিবারসহ ব্যক্তিগত গাড়িতে ছিলেন পৌর মেয়র আলাউদ্দিন।

অপহরণ চেষ্টাকারীরা বাসটিতে ওঠার জন্য সড়কে কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি করে জানিয়ে তিনি বলেন, তুলাতলী এলাকায় ১০/১২ জন যুবক নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাসটিতে উঠে পড়েন। এসময় তারা কয়েকজনের ব্যাগে তল্লাশি চালানোর পর সাগরের খোঁজ জানতে চান।

“মেয়রের পিএস নিজের পরিচয় দেওয়ার পরপরই তাকে কলার ধরে টেনে বাস থেকে নামিয়ে ফেলা হয়। এসময় সাগরের চিৎকারে বাসে থাকা অন্য যাত্রীরা আকবরকে ধরে ফেলেন। ঠিক ওই সময় দায়িত্ব শেষ করে বাসায় ফেরার পথে এক পুলিশ সদস্য বিষয়টি দেখতে পেয়ে সেখানে দাঁড়ান।“

ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সাগরকে উদ্ধার করে আকবরকে থানায় নিয়ে আসেন। পরে মেয়র ও তার সফরসঙ্গীদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর ভোরে তারা চট্গ্রাম ছাড়েন।

তিনি জানান, গ্রেপ্তার পাঁচজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন এক ‘বড় ভাইয়ের’ নির্দেশে তারা সাগরকে অপহরণের চেষ্টা করেছিলেন।

“তাদের ওই বড় ভাই জানিয়েছে সাগর নামে একজনের কাছ থেকে তিনি টাকা পাবেন। ওই টাকা উদ্ধারের জন্য মূলত ‘অপহরণের’ চেষ্টা করেছেন,“ যোগ করেন ওসি রহিম।

সংশ্লিষ্টদের বরাতে পুলিশ জানায়, পৌর মেয়র আলাউদ্দিনের সঙ্গে বালু মহাল ইজারা ও ঠিকাদারি নিয়ে অপর এক স্থানীয় নেতার সঙ্গে বিরোধ হয়েছিল। সে বিরোধের জেরে সাগরকে চট্টগ্রামে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছিল।

অপহরণকারীদের একটি অংশ বাসটি কক্সবাজার থেকে নজরদারি করছিলেন। বাসটি চট্টগ্রামে আসার পর তারা সেটিকে আটকে সাগরকে অপহরণের চেষ্টা করে।

বাকলিয়ার ওসি রহিম বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমরা অনেক কিছু শুনেছি। কোনটাকেই একমাত্র কারণ হিসেবে বিবেচনায় আনছি না। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে মামলার তদন্ত করা হবে।“

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক