Published : 18 Aug 2024, 05:47 PM
নগরীসহ চট্টগ্রাম জেলাজুড়ে ধীরে ধীরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে; যেখানে এবার নগরীর চেয়ে উপজেলা পর্যায়ে প্রকোপ বেশি দেখা যাওয়ার তথ্য দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা।
তারা বলছেন, নগরীর চেয়ে এবার উপজেলায় ডেঙ্গু রোগী প্রায় তিনগুণ বেশি। এর মধ্যে লোহাগাড়া উপজেলার এমচরহাট বাজার ঘিরে সবচেয়ে বেশি রোগীর কথা জানা যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, “ওই এলাকা ঘিরে প্রকোপ বেশি, এটা সত্য। কারণ অনুসন্ধানে আমাদের কীটতত্ত্ববিদ সেখানে যাবেন।”
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের প্রথম ১৩ দিনে চট্টগ্রাম জেলায় ৭৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৫৬ জনই বিভিন্ন উপজেলার এবং ১৭ জন নগরীর বাসিন্দা।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৩ সালের জুলাই পর্যন্ত এ সংখ্যা ছিল ২৫।
বর্ষার শুরু থেকে বাড়ছে আক্রান্ত
এবার এখনও ২০২৩ সালের চেয়ে চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কম। তবে বর্ষার শুরু থেকে ডেঙ্গুর প্রবণতা বাড়তে দেখা যায়। পুরো জুনের তুলনায় জুলাইয়ের প্রথম ১৩ দিনে রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় দ্বিগুণ।
সিভিল সার্জন ডা. ইলিয়াছ বলছেন, আগের বছরের চেয়ে রোগী কম হওয়ায় সন্তুষ্ট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বরং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ১৩ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় মোট ৮১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। অথচ পুরো জুনে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪১ জন।
আগের বছর পুরো জুলাইয়ে চট্টগ্রামে ২ হাজার ৩১১ জন এবং জুনে ২৮৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সে তুলনায় এবার আক্রান্তের হার অনেক কম।
ডেঙ্গু: চট্টগ্রামে মৃত্যুহার বেশি কেন
চলতি বছর জানুয়ারি থেকে মহানগর বাদে চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলায় ২৭১ ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে লোহাগাড়ায় সর্বোচ্চ ৬২ জন আক্রান্তের তথ্য দিয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়।
এমচরহাট বাজার ঘিরে আক্রান্ত বেশি
জুনে লোহাগাড়ার পুটিবিলা ইউনিয়নের এমচরহাট বাজার ঘিরে বসতবাড়িতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা যে কোনো বছরের তুলনায় খুবই বেশি বলে তথ্য আসছে।
পুটিবিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এমচরহাট বাজারের ৫০০ গজ দূরত্বের মধ্যে দোকানপাট, ঘরবাড়ি ও স্থাপনায় ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যায়, যেখানে পুরো উপজেলাতেও এত মানুষ আক্রান্ত হয়নি।
“উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং আমরা মিলে সবাইকে সচেতন করছি। এখন ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা একটু কমেছে।”
লোহাগাড়া স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হানিফ বলছেন, “সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়ার পর এমচরহাটে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমতে শুরু করেছে। তবে প্রকোপ কেন এবার বেশি, সেটি জানতে কাজ চলছে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে সেখানকার পরিস্থিতি জানতে চাইলে, তাদের কেউ কেউ বলেছেন, জুন থেকে জুলাইয়ের ১৩ তারিখ পর্যন্ত এমচরহাট ঘিরে প্রায় তিন শতাধিক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের বেশিরভাগই বাড়িতে অবস্থান করে এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ডা. হানিফ বলছেন, “এমচরহাট বাজার ঘিরে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি জেনে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। বাজারকে কেন্দ্র করে কয়েকটি ডোবা আছে। ময়লা-আবর্জনা জমেছিল কিছু জায়গায়।
“সেগুলো পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেওয়ার পর রোগীর সংখ্যা এখন কমতে শুরু করেছে। আজ (শনিবার) তিনজন ভর্তি আছেন।”
তিনি বলেন, তবে জুনে এমচরহাট বাজারের আশপাশের প্রায় প্রতি বাড়িতেই জ্বরে আক্রান্ত মানুষের তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। এখন পর্যন্ত শ’তিনেক মানুষ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন বলে তথ্য এসেছে। তাদের বেশির ভাগই বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
সিভিল সার্জন ডা. ইলিয়াছ বলছেন, “এমচরহাট ঘিরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি, এটা সত্য। তবে কোন প্রতিষ্ঠান বা বাজার ঘিরে ছড়াচ্ছে, ডেঙ্গুর বেলায় সেটি নির্দিষ্ট করে বলার সুযোগ নেই। নানা কারণে সেখানে প্রকোপ বেশি হতে পারে। কারণ জানতে আমাদের কীটতত্ত্ববিদ সেখানে যাবেন।”
জেলা কীটতত্ত্ববিদ এনতেজার ফেরদাওছ বলেন, “একটি এলাকা ঘিরে এত ডেঙ্গু রোগীর যে বিষয়টি বলা হচ্ছে, তা যাচাই করতে হবে। সেখানে বেশিরভাগ জ্বরাক্রান্ত মানুষ বেসরকারি হাসপাতালে গিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। টেস্টে তাদের ডেঙ্গু আক্রান্ত বলা হয়েছে কি না, অথবা টেস্ট না করিয়েই বলা হচ্ছে, সেসব আগে জানতে হবে।”