১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভোট সামনে রেখে রাউজানে হল আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মহড়া

গত বছরের ৫ অগাস্টের পর থেকে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় কমপক্ষে ১৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Dec 2025, 08:06 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:19 PM

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বিষয়ক সচেতনতামূলক যৌথ মহড়া ও মত বিনিময় সভা হয়েছে। 

সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ থেকে রাউজান উপজেলা পর্যন্ত সড়কে গাড়িবহরের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত যৌথ মহড়া হয়। 

এরপর মত বিনিময় সভা হয় রাউজান সরকারি কলেজ মিলনায়তনে। সোমবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যৌথ মহড়া ও সভার বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানানো হয়। 

জেলা প্রশাসক এবং রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা মত বিনিময় সভায় বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হল একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা। যা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়-এটি বাংলাদেশের প্রতি আমাদের সম্মিলিত দায়বদ্ধতা। 

“আসন্ন নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতার পালাবদল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি আগামী একশ বছরের বাংলাদেশের রূপরেখা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোট।”

জাহিদুল ইসলাম বলেন, “এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ নির্ধারণ করবে তারা কী ধরনের বাংলাদেশ চায়। মানুষ আর রক্তপাত নয়- শান্তিতে বসবাস করতে চায়। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে ব্যক্তি নয়, শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। 

“বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করাই আমাদের লক্ষ্য। কোনো স্বার্থের কাছে যেন কেউ নিজের মেরুদণ্ড ও বিবেক বিক্রি না করেন। ভোট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি এই আহ্বানও জানাই। প্রশাসন কঠোর হতে চায় না, তবে পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে কঠোর হতে বাধ্য হবে।”

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, “কোনো অবস্থাতেই রাউজানে ভোটগ্রহণের পরিবেশে কেউ বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারবে না। নির্বাচন ঘিরে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, বালু সন্ত্রাসী ও অন্যান্য দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। 

“গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিষয়ে সতর্ক থেকে তথ্য যাচাই করে ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচনকালীন পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে।”

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বশির আহমেদ, রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম রাহাতুল ইসলাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। 

মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, রাউজান উপজেলায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৯৫টি ভোটকেন্দ্রে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। 

ভোটারদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সকল প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলেও সভায় জানানো হয়। 

গত বছরের ৫ অগাস্টের পর থেকে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় কমপক্ষে ১৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে কমপক্ষে সাতটি হত্যা রাজনৈতিক ও স্থানীয় আধিপত্যের জেরে ঘটেছে বলে পুলিশের ভাষ্য।

এছাড়া পারিবারিক কলহে তিনজন এবং অন্যান্য কারণে পাঁচজন খুন হয়েছেন।

গত মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের সে সময়ের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, “অপরাধ বিশ্লেষণ করে দেখেছি, রাউজানে ছয়টির মত গ্রুপ বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হচ্ছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ‘টার্গেট কিলার’বা ভাড়াটে খুনি হিসেবে কাজ করে।

অপরাধীরা তাদের অপরাধ ঢাকার জন্য ‘রাজনীতিকে আশ্রয় হিসেবে গ্রহণ করে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের হিসেবে রাউজানে হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে সাতটি আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। বাকি নয়টি হত্যকাণ্ডের মধ্যে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, গরু চুরি করতে গিয়ে, পরকীয়ার জেরে, পারিবারিক বিরোধ ও মদপান করে পানিতে পড়ে মৃত্যুর মতো ঘটনাও আছে।