নির্বাচন সাংবিধানিকভাবে, নির্দিষ্ট সময়েই: নাছির
“পাকিস্তানপন্থি বিএনপি-জামায়াতের স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার থাকতে পারে না।”
বিদেশি কোনো শক্তি বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন প্রভাবিত করতে পারবে না মন্তব্য করে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়েই হবে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের ৪৮তম বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস মঙ্গলবার নগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় একথা বলেন তিনি।
নাছির বলেন, “দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কে আসুক বা না আসুক, সেটা বড় কথা নয়। নির্বাচন সাংবিধানিকভাবে নির্দিষ্ট সময়েই হবে।
“কোনো বিদেশি শক্তি, যারা একাত্তরে পাকিস্তানের মদদদাতা ছিল এবং নানাভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অপঘাত করেছে, সেই সমস্ত দেশের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী স্বাধীন বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হবে না।”
নাছির বলেন, “পাকিস্তানপন্থি বিএনপি-জামায়াতের স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার থাকতে পারে না। জামায়াত তো সরাসরি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর প্রত্যক্ষ সাগরেদ ছিল।
“বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল তো প্রকাশ্যেই বলেছেন, পাকিস্তান আমলই ভালো ছিল। আত্মস্বীকৃত এই পাকিস্তানিরা বাংলাদেশে কীভাবে রাজনীতি করেন- সেটাই বড় প্রশ্ন।”
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সবচেয়ে বড় ‘বেনিফিশিয়ারি’ জিয়াউর রহমান মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, “তিনি চিহ্নিত খুনিদের বিদেশি দুতাবাসে পুনর্বাসন করে পুরস্কৃত করেছিলেন। কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে নাগরিকত্ব প্রদান করেন।”
জামায়াত ও বিএনপি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না বলেও দাবি করে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাছির।
সভায় নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেন, “একাত্তরের পরাজিত শক্তি এদেশকে আবার পাকিস্তান বানানোর লক্ষ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করলেও এদেশ পাকিস্তান হয়নি, হবেও না।
“বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উনার পিতার আরাধ্যের সোনার বাংলা বাস্তবায়নে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছেন।”
সভায় নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “হাজার বছরের বাংলাকে বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশে পরিণত করেছেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে যারা এই মহান অর্জন ধুলিস্যাৎ করে দিতে চেয়েছিল তাদের ধ্বংস অনিবার্য।”
নগর কমিটির প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন সহ সভাপতি নঈম উদ্দীন চৌধুরী, ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, খোরশেদ আলম সুজন, এম জহিরুল আলম দোভাষ ও আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান ও চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, চন্দন ধর, জালাল উদ্দীন ইকবাল, দিদারুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চু, কার্য নির্বাহী সদস্য সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, নিছার উদ্দীন আহমেদ মঞ্জু প্রমুখ।
এর আগে জাতীয় শোক দিবসে নগর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে নগরীর বড়পোল মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে আওয়ামী লীগ নেতারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
এদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. ইসমাইল খানসহ সব অনুষদের ডিন ও কর্মকর্তারা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার কক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ডা. দেলোয়ার হোসেন এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. ইসমাইল খান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ পরিচালক ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়ার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডিন অধ্যাপক ডা. সাহেনা আক্তার, অধ্যাপক ডা. মো. হাফিজুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনোয়ার উল হক, অধ্যাপক ডা. আকরাম পারভেজ চৌধুরী, বিআইটিআইডি এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সাখাওয়াত উল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার ডা. হাসিনা নাসরীন, উপ কলেজ পরিদর্শক ডা. আইরিন সুলতানা, বিআইটিআইডির সহযোগী অধ্যাপক ডা. মামুনুর রশীদ, সহকারী অধ্যাপক ডা. জাকির হোসেন।
অন্যদিকে উত্তর জেলা যুবলীগ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা এবং রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করে নগরীর দারুল ফজল মার্কেটের দলীয় কার্যালয় চত্বরে। আলোচনা সভাটি সহসভাপতি দীপক কান্তি দত্তের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. আতাউর রহমান।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী যুবলীগের সহ-সভাপতি মো. শহীদুল আলম, মো. নাছির হায়দার করিম বাবুল, মো. মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. এরশাদ হোসেন, মো.আব্দুল করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল বশর, শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন।
অন্যদিকে দামপাড়া পুলিশ লাইনে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ (সিএমপি) চিত্রাঙ্কন ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এই আয়োজনে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবন ও কর্মকে ছবির ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলে শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিএমপি কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়। উপস্থিত ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ফয়সাল মাহমুদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) এম এ মাসুদ; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) আ স ম মাহতাব উদ্দিন, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মো. আব্দুল ওয়ারীশ প্রমুখ।
‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তুমি মৃত্যুজ্ঞয়ী’ শিরোনামে জাতীয় শোক দিবস পালন করে নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ। নগরীর শিল্পকলা একাডেমিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ মাধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন চট্টগ্রাম নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি দেবাশীষ নাথ দেবু এবং সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজ।
