Published : 20 Jan 2026, 09:42 AM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক দম্পতি চট্টগ্রামের দুটি আসনে প্রার্থী হয়েছেন, যাদের নির্বাচনি খরচের বড় অংশ যোগাচ্ছেন স্বজনরা।
ইনিসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের এ দুই প্রার্থী হলেন—মোহাম্মদ এমদাদুল হক ও সাবিনা খাতুন। তাদের মধ্যে এমদাদুল চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ আংশিক) আসন থেকে এবং তার স্ত্রী সাবিনা চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী, ডবলমুরিং ও হালিশহর) আসন থেকে লড়ছেন।
ইতিমধ্যে তাদের মনোনয়নপত্রও বৈধ হয়েছে। নির্বাচনে তারা দলীয় প্রতীক আপেল নিয়ে লড়বেন।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় পেশায় বেসরকারি চাকুরে এমদাদুল হক নির্বাচনে মোট ৮ লাখ ১ হাজার টাকা খরচ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে নিজ আয় থেকে খরচ করবেন ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
এর বাইরে আত্মীয় ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে ৩ লাখ ২১ হাজার টাকা নিয়ে তিনি খরচ করবেন। এমদাদুলকে তার দুলাভাই, দুই চাচাতো ভাই এবং চার ব্যক্তি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে দান হিসেবে এ টাকা দিচ্ছেন।
স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে, ১ কোটি ৩ লাখ ৮১ হাজার ৯০০ টাকা। এর মধ্যে স্থাবর সম্পত্তি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৪০০ টাকা এবং অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৮৭ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রার্থী এমদাদুলের স্ত্রী সাবিনা খাতুনও একজন বেসরকারি চাকুরে। তিনি নির্বাচনে মোট ৫ লাখ ১৫ হাজার টাকা খরচ করবেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
এর মধ্যে নিজের আয় থেকে খরচ করবেন ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এছাড়া তার দুই ভাই ও এক বোন স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে দিচ্ছেন এক লাখ ১০ হাজার টাকা এবং অপর এক শুভানুধ্যায়ী ২৫ হাজার টাকা দিচ্ছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।
স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে বেসরকারি চাকরিজীবী সাবিনার মোট সম্পদের পরিমাণ ৬৬ লাখ ৮৮হাজার ৬৪০টাকা। এর মধ্যে অস্থাবর সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য ৪৯ লাখ ৪১ হাজার ৬২৪ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ১৬ টাকা।
ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি এমদাদুল হক এবং তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন দলটির চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক। তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলীতে হলেও থাকেন নগরীর আগ্রাবাদ হাজীপাড়া এলাকাতে।
‘মানবতার রাষ্ট্র, মানবতার দুনিয়া এবং মানুষের মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে’ ইনসানিয়াত বিপ্লবের হয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন বলে তারা জানান এবং দুইজনই নির্বাচনে জয়লাভের ব্যাপারে আশাবাদী।
২০ জানুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষদিন। এরপরে প্রতীক বরাদ্দ শেষে প্রার্থীরা পুরোদমে নির্বাচনি প্রচারণায় নামবেন। এসময়ে প্রচারণা বন্ধ থাকলেও ইনসানিয়াত বিপ্লবের এ দুই প্রার্থী সামাজিক ও ব্যক্তিগতভাবে তাদের নির্বাচনি এলাকার মানুষদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করছেন বলে জানা গেছে।
মোহাম্মদ এমদাদুল হক চট্টগ্রাম মহানগরীর একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন, তার স্ত্রী সাবিনা খাতুনও নগরীতে অপর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
এমদাদুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা স্বামী-স্ত্রী একসাথে ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে দুটি আসনে নির্বাচন করছি। মানবতার জন্য কল্যাণকামী রাষ্ট্র তৈরির লক্ষ্য নিয়ে আমার দুইজন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আমরা একই আসন থেকে নির্বাচন করেছিলাম।”
ওই সময় দল নিবন্ধন না পাওয়ায় স্বতন্ত্রভাবে সিংহ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা ২৫ বছর ধরে একসাথে আছি, রাজনীতিও একই দলে করি। আমরা এ কাজ খুবই এনজয় করি। দুইজনই ইলেক্টেড হলে দেশের কল্যাণের জন্য কাজ করব।”
সারাদেশে ৪২টি আসনে ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের ৮টিতে দলটির প্রার্থী রয়েছে। ২০১০ সালে আত্মপ্রকাশ করা দলটি ২০১৩ সালে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে। নিবন্ধন না পেয়ে তাদের ৮ জন প্রার্থী ২০১৮ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে অংশ নেয়।
চট্টগ্রাম-৮ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯ জন। নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, ভোটার প্রতি ১০ টাকা হিসেবে এ আসনের একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ৫৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। আরপিওতে (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) বলা রয়েছে, নিবন্ধিত দল কোনো ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা অনুদান নিতে পারবেন।
আর কোনো প্রার্থীকে ৫০ হাজার বা তার বেশি টাকা নিতে হলে তা তাকে ব্যাংকের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে। সঙ্গে তাকে দাতার আয়কর রিটার্নের তথ্যও দাখিল করতে হবে।
চট্টগ্রাম-৮ আসন বোয়ালখালী উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৩ থেকে ৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ, জামায়াত ইসলামীর আবু নাছেরসহ মোট সাত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।
আর চট্টগ্রাম-১০ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪৪৩ জন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আল নোমান, জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালীসহ মোট ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।