Published : 22 Aug 2026, 07:06 PM
সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।
এসব দাবির পাশাপাশি ফেরদৌস স্টিল শিপ ইয়ার্ডের ঘটনায় নিহত ও আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, আহতদের চিকিৎসা ব্যয় মালিকপক্ষ নির্বাহ করা, নিহতদের পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন এবং জাহাজ ভাঙা শিল্পে নূন্যতম মজুরি ২২ হাজার টাকার গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিও জানিয়েছে শ্রমিকদের বিভিন্ন সংগঠনের এই মোর্চা।
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্কপের চট্টগ্রাম শাখা এ দাবি জানায়।
গেল ১৪ অগাস্ট সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিতে বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণে নয় শ্রমিকের মৃত্যু হয়। পরে গত বুধবার আহত আরেক শ্রমিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এ ঘটনায় গঠিত সরকারি দুটি তদন্ত কমিটি ও একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও দায়ীদের শনাক্ত করতে কাজ করছে।
স্কপের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন জোটের চট্টগ্রাম জেলার যুগ্ম সমন্বয়ক রবিউল হক শিমুল।
স্কপ বলেছে, “পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে শ্রমিকরা ইয়ার্ডে কাজ করতে আসেন। কর্মক্ষেত্রে একজন শ্রমিকের মৃত্যুও মেনে নেওয়া যায় না। নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার সম্পূর্ণ দায় মালিকপক্ষের।
“আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে শ্রমিকের জীবনের ঝুঁকি নিরসনের দায়িত্ব সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।”
বিগত বছরগুলোতে একটি শিপ ইয়ার্ডে একসঙ্গে এত শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেনি তুলে ধরে স্কপ নেতা শিমুল বলেন, দুঃখজনক হল যে হংকং কনভেনশন বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক হওয়ার এক বছর পর সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় মালিকপক্ষ দায় এড়াতে পারে না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, যেখানে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকার কথা সেখানে সকাল ৯টায় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত শ্রমিকদের হাসপাতালে আনা হয় বেলা ১২টার পর। বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত শ্রমিকরা ছুটে বেরিয়ে এলেও সামান্য অক্সিজেন সাপোর্ট তাদের দেওয়া হয়নি।
একাধিক সরকারি দপ্তর কিভাবে জাহাজটি কাটার অনুমতি দিয়েছিল, এ প্রশ্ন তুলে স্কপের এই নেতা বলেন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তে তা জানা যাবে।
“এক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তি, কর্মকর্তা ও দপ্তরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।”
একই সঙ্গে শিপ ইয়ার্ডগুলোতে নিরাপদ কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয়বাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, “শুক্রবার তারা ইয়ার্ড খুলতেই পারে না। হাই কোর্টের একটা নির্দেশ আছে রাতে এবং শুক্রবার ইয়ার্ড চালাতে পারবে না। তারা শুক্রবারে কাজ চালিয়েছে এবং সকাল সাড়ে ৮টায় দুর্ঘটনা ঘটেছে।
“এটা একটা ফৌজদারি অপরাধ। এটার বিরুদ্ধে লেবার ইন্সপেক্টর ডিপার্টমেন্ট মামলা করতে পারে।”
ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে ক্ষতিপূরণটাই বড়, তারা মামলায় যেতে চান না মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমরা অনেক উৎসাহিত করেছি। কিন্তু না ওরা কেউ মামলায় যেতে চায় না। প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ চাপ আছে।”
সংবাদ সম্মেলনে ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি), চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি তপন দত্ত বলেন, “এটা যদি বারবার হতে থাকে ইলিশ মাছ ধ্বংসকারী, প্রকৃতি পরিবেশ ধ্বংসকারী এই ইয়ার্ডের প্রয়োজনীয়তা বাংলাদেশে আছে কিনা সেটাও আমি প্রশ্ন তুলি।
“বড়জোর ১০ হাজার কর্মসংস্থান হয় এখানে। দেড় লক্ষ জেলে কক্সবাজার থেকে মীরসরাই পর্যন্ত বাস করে। এদের জালে ইলিশ এখন নাই। কদাচিৎ পড়ে। কিছু মালিকের মুনাফার যন্ত্র হিসেবে আছে এই শিল্প। একটা মালিকেরও কোনোদিন শাস্তি হয়েছে?”
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্কপের যুগ্ম আহ্বায়ক এস কে খোদা তোতন এবং মো. খোরশেদ আলম।