মণ্ডপে ইসলামি গান: পূজা কমিটির নেতাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা
মামলায় অভিযোগ, পূজার অনুষ্ঠানে ‘ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য নষ্ট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশে’ গান দুটি পরিবেশন করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম নগরীর জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে ইসলামি সংগীত পরিবেশনের ঘটনায় সাতজনকে আসামি করে মামলা করেছে পূজা উদযাপন পরিষদ।
শুক্রবার নগরীর কোতোয়ালি থানায় মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের পূজা কমিটির অর্থ সম্পাদক সুকান্ত বিকাশ মহাজন মামলা দায়ের করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় আটক শহীদুল করিম (৪২) ও মো. নুরুল ইসলাম (৩৪) এবং পূজা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজল দত্তকেও আসামি করা হয়েছে।
অন্য আসামিরা হলেন- আব্দুল্লাহ ইকবাল (৩০), মো. মামুন (২৭), গোলাম মোস্তফা (৩৬) ও রনি (২৮)।
কোতোয়ালি থানার ওসি ফজলুল কাদের বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দণ্ডবিধির ২৯৫ (ক), ২৯৬ ও ২৯৮ (৩৪) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। মামলায় আটক দুইজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।”
এজাহারে বলা হয়, “পূজা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজল দত্তের কাছে ‘চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমির’ এক দল শিল্পী অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক গান করার আগ্রহ প্রকাশ করে। তার পরিপ্রেক্ষিতে সজল দত্তের সহায়তায় আসামিরা মঞ্চে উঠে ‘পূর্বপরিকল্পিতভাবে হিন্দু ধর্মের পূজার অনুষ্ঠানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য নষ্ট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার’ উদ্দেশ্যে দুটি গান পরিবেশন করে।
“এর মধ্যে একটি গানের ভাষায় শব্দ চয়নে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আসার কারণে পূজা কমিটির লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে গান পরিবেশন বন্ধ করে দেয়।”
এজাহারে বলা হয়, “গজলটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন দিক থেকে প্রতিক্রিয়া আসার কারণে অনুষ্ঠানে গোলযোগ সৃষ্টি হয়।”
ওই ঘটনার পর রাতে সড়কে বিক্ষোভ দেখান ক্ষুব্ধ সনাতন ধর্মালম্বীরা। সেখানে সেনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যা বাড়ানো হয়।
পরে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম মণ্ডপে গিয়ে বক্তব্য দেন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মামলা করার আশ্বাস দেন।
এরপর শুক্রবার সকালে শহীদুল করিম ও নুরুল ইসলাম নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায় পুলিশ।
নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ক্রাইম) রইছ উদ্দিন এক সংবাদ সম্মেল বলেন, “ইতোপূর্বে পূজা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজল দত্ত চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমির একদল শিল্পীকে ওই অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের অনুরোধ করেন। তার অনুরোধের প্রেক্ষিতে শিল্পী গোষ্ঠীর একদল সদস্য একটি ইসলামিক গজল ও একটি বাউল গান পরিবেশন করেন। পরিবেশন করা দুটি গানের মধ্যে একটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে।”
পুলিশের ওই বক্তব্যের পর শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি আশীষ ভট্টাচার্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের কাউকে না জানিয়ে সে (সজল দত্ত) ব্যক্তিগতভাবে এটা করেছে। এ ঘটনার পর আমরা সবাই হতাশ।”
ইসলামি শিল্পীদের দলটির গান করার কোনো শিডিউল ছিল না দাবি করে পূজা কমিটির সভাপতি বলেন, “প্রতিদিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ধর্মীয় গান ছাড়া অন্য কোনো গান হয় না। এটা আমাদের দীর্ঘ দিনের রীতি। অনুষ্ঠানের বিষয়টি আমাদের কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক মেনটেইন করেন।
“সেখানে জয়েন্ট সেক্রেটারির কোনো কাজ নেই। তিনি (সজল দত্ত) কেন ডেকেছেন সেটা আমরা অবগত নই। তিনি বিষয়টি আমাদের জানাননি, কোনো আলোচনাও হয়নি।”
আরও পড়ুন-
