জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের সংস্কার শুরু মাস দেড়েকের মধ্যে: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবনটির মৌলিক কাঠামো ও মৌলিকত্ব অক্ষুণ্ন রেখেই সংস্কারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের সংস্কার কাজ আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
রোববার চট্টগ্রামের পুরাতন সার্কিট হাউসে জাদুঘর পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
ব্রিটিশ আমলে নির্মিত চট্টগ্রামের এই পুরাতন সার্কিট হাউজ ভবনে ১৯৮১ সালের ৩০ মে একদল সৈন্যের হাতে নিহত হন তখনকার রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরে ভবনটি জিয়া স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়।
চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকায় অবস্থিত জাদুঘরটি দীর্ঘদিন সংস্কারহীন থাকার পর গত বছরের ২ ডিসেম্বরের ভূমিকম্পে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভবনের কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ার পাশাপাশি পলেস্তারা খসে পড়ে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় এরপর জাদুঘরটি বন্ধ রাখা হয়।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাদুঘরটি পুনর্গঠনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞরা এসে মতামত দিয়েছেন এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরও তাদের পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।
তিনি বলেন, “ভবনটি খুবই পুরোনো এবং ঐতিহ্যগতভাবে এই ভবনটির গুরুত্ব থাকায় আরও অনেক বিশেষজ্ঞ যারা আছেন তাদের অনেকেরই মতামত নিতে হচ্ছে। আশা করি আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে কাজ শুরু হবে।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পুরোনো প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা হিসেবেই জাদুঘরটিকে দেখছে সরকার। তাই ভবনটির মৌলিক কাঠামো ও মৌলিকত্ব অক্ষুণ্ন রেখেই সংস্কারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “পুরোনো ঐতিহ্যগুলো থেকে আমাদের অনেক শিক্ষণীয় আছে।”
দীর্ঘদিন জাদুঘরটি অবহেলিত ছিল মন্তব্য করে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেন, “আগে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তাদের এ জাদুঘর নিয়ে রোষানল ছিল। দীর্ঘ ২০ বছর বলা যেতে পারে এটাকে একেবারেই অবহেলার দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে।”
জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, “দুঃখজনক হচ্ছে, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা কথা আমরা বললেও গণতান্ত্রিক যে রীতি সেগুলো আমরা অনুসরণ করি না। ফলে আমাদের এই মহান ব্যক্তির ক্ষেত্রেও এটার ব্যত্যয় ঘটেনি। তিনিও এই রোষানলে পড়েছিলেন।”
পুরনো খবর
