হারমানপ্রিত নেতৃত্ব ছাড়ার দিনেই ভারতের নতুন অধিনায়ক মান্ধানা
সব সংস্করণের জন্য ভারতের নারী দলের অধিনায়ক হলেন স্টাইলিশ এই ব্যাটার।
হারমানপ্রিত কৌর অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর, নতুন অধিনায়ক বেছে নিতে বেশি সময় নিল না ভারত। অনুমিতভাবে ভারতের নারী দলের নেতৃত্ব পেলেন স্মৃতি মান্ধানা।
৩৭ বছর বয়সি হারমানপ্রিত প্রায় এক দশকের নেতৃত্বের পথচলার ইতি টানার ঘোষণা দেন মঙ্গলবার সকালে। রাতে ৩০ বছর বয়সি মান্ধানাকে সব সংস্করণের অধিনায়ক করার কথা জানায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।
হারমানপ্রিতের অধিনায়কত্বের বড় একটা অংশে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন মান্ধানা। ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে নানা সময়ে ১৮ টি-টোয়েন্টি ও চারটি ওয়ানডেতে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতাও আছে স্টাইলিশ এই ব্যাটারের।
গত কয়েক মাসে নেতৃত্বের প্রশ্নে তিনি বারবারই বলেছেন, নিজেকে প্রস্তুত মনে করছেন এই দায়িত্বের জন্য। উইমেন’স প্রিমিয়ার লিগে (নারী আইপিএল) তার নেতৃত্বে টানা দুবার শিরোপা জিতেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।
মান্ধানাকে মনে করা হয় এই সময়ে বিশ্বের সেরা ব্যাটার। গত সেপ্টেম্বরে মিতালি রাজকে ছাড়িয়ে নারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব সংস্করণ মিলিয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন তিনি। নারী ক্রিকেটে তার ১৮টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরিও সর্বোচ্চ। এছাড়া তিনিই প্রথম ভারতীয় নারী, যিনি সব সংস্করণেই সেঞ্চুরি করেছেন।
অধিনায়ক হিসেবে মান্ধানার প্রথম চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সীমিত ওভারের সিরিজ, যা ১৬ অক্টোবর রায়পুরে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি দিয়ে। এই সিরিজের দল নির্বাচনের জন্য আমিতা শার্মার নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটির মঙ্গলবারের বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন মান্ধানা।
অধিনায়কত্ব পাওয়াকে ‘বিশেষ সম্মান’ হিসেবে দেখছেন মান্ধানা। নিজের নতুন দায়িত্বের শুরুতে পূর্বসূরি হারমানপ্রিতের অবদানের কথাও স্মরণ করেছেন তিনি।
“হারমানপ্রিতের অবদান এবং অধিনায়ক হিসেবে বছরের পর বছর ধরে তার ভূমিকার কথাও স্বীকার করতে চাই আমি। তিনি খুবই নিষ্ঠার সঙ্গে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং আমাদের যাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছেন।
“এই ভূমিকার সঙ্গে যে দায়িত্ব জড়িয়ে আছে, তা আমি বুঝি। দলের সঙ্গে কাজ করতে, কাজের মাধ্যমে নতুন কিছু শিখতে এবং ভারতীয় ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য আমি উন্মুখ হয়ে আছি।”
হারমানপ্রিতের নেতৃত্বে সম্প্রতি এশিয়া কাপের শিরোপা পুনরুদ্ধারের পর, এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের সোনার পদক ধরে রাখে ভারত। এরপর হারমানপ্রিত, মান্ধানা ও কোচ অমল মজুমদারের সঙ্গে গুয়াহাটিতে সোমবার আলোচনায় বসেন ভারতীয় বোর্ডের সচিব দেবাজিৎ সাইকিয়া। সেখানে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় উইমেন’স চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকস সামনে রেখে দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর খবর, হারমানপ্রিতকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত ছিল নির্বাচক কমিটি। তবে বোর্ড কর্তার সঙ্গে বৈঠকের পরদিন নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন হারমানপ্রিত নিজেই।
