রানের বন্যা বইয়ে সেরার লড়াইয়ে মেকিয়ান

আইসিসির জুলাই মাসের সেরা হওয়ার লড়াইয়ে মেকিয়ানের সঙ্গে আছেন জনি বেয়ারস্টো ও প্রবাথ জয়াসুরিয়া।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 August 2022, 01:15 PM
Updated : 3 August 2022, 01:15 PM

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম চার ম্যাচেই পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস, সেঞ্চুরি যেখানে টানা দুই ইনিংসে। ক্যারিয়ারের শুরুতে চমক জাগানিয়া এই পারফরম্যান্স গুস্তাভ মেকিয়ানকে এনে দিতে পারে দারুণ এক স্বীকৃতি। জুলাইয়ের ‘আইসিসি প্লেয়ার অব দা মান্থ’-এর সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন ফ্রান্সের তরুণ এই ব্যাটসম্যান।

গত মাসের সেরা হওয়ার লড়াইয়ে মেকিয়ানের সঙ্গে আছেন ইংল্যান্ডের জনি বেয়ারস্টো ও শ্রীলঙ্কার প্রবাথ জয়াসুরিয়া।

নারী ক্রিকেটে জুলাইয়ের সেরার লড়াইয়ে জায়গা পেয়েছেন ইংল্যান্ডের ন্যাট সিভার, এমা ল্যাম্ব ও ভারতের রেনুকা সিং।

গত মাসের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে বুধবার সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকাদের নাম প্রকাশ করে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা।

জনি বেয়ারস্টো

আইসিসির জুন মাসের সেরার পুরস্কার জয়ী বেয়ারস্টো তিন সংস্করণে দারুণ ফর্ম ধরে রেখেছেন। গত মাসে ভারতের বিপক্ষে এজবাস্টন টেস্টে ইংল্যান্ডের দারুণ জয়ে দুই ইনিংসেই তিনি উপহার দেন সেঞ্চুরি। পরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ফিফটি করেন একটি। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে খেলেন ৫৩ বলে ৯০ রানের বিস্ফোরক ইনিংস।

প্রবাথ জয়াসুরিয়া

গত মাসে টেস্ট ক্রিকেটে পা রেখেই আলো ঝলমলে পারফরম্যান্সে নিজেকে মেলে ধরেন জয়াসুরিয়া। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে অভিষেক হয় তার। ৩০ বছর বয়সে টেস্ট ক্যাপ পেয়ে দুই ইনিংসে নেন ৬টি করে উইকেট। গড়েন অভিষেকে কোনো বাঁহাতি স্পিনারের সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড।

এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে নেন ৫ উইকেট। ১৪৫ বছরের টেস্ট ইতিহাসে প্রথম বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে ক্যারিয়ারের প্রথম তিন ইনিংসের প্রতিটিতেই অন্তত পাঁচ উইকেট নেওয়ার অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি। ওই ম্যাচে তার প্রাপ্তি ছিল ৯টি।

পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট জয়ে তিনি নেন ৮ উইকেট। এখন পর্যন্ত তিন টেস্টে ২০.৩৭ গড়ে তার উইকেট ২৯টি।

গুস্তাভ মেকিয়ান

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে আলোচনা জন্ম দিয়েছেন ১৮ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান।

২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইউরোপিয়ান উপ-আঞ্চলিক বাছাইপর্বের টুর্নামেন্টে গত সপ্তাহে অভিষেক হয় তার। প্রথম ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে খেলেন ৫৪ বলে ৭৬ রানের ইনিংস, স্বীকৃত ক্রিকেটেই সেটি তার প্রথম ম্যাচ।

পরের দুই ম্যাচেই তিনি করেন সেঞ্চুরি- সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৬১ বলে করেন ১০৯, নরওয়ের বিপক্ষে ৫৩ বলে ১০১।

পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরির কীর্তি তার, এই সংস্করণে ক্যারিয়ারের প্রথম তিন ইনিংসে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ডও। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরিতে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে শতকের রেকর্ডও গড়েন তিনি।

চতুর্থ ম্যাচে এস্তোনিয়ার বিপক্ষেও ঝড়ে তুলে মেকিয়ান খেলেন ৫১ বলে ৮৭ রানের ইনিংস। টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিয়ারের প্রথম চার ম্যাচেই পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলা প্রথম ব্যাটসম্যান তিনি। পরের ম্যাচে অবশ্য থেমে যান দুই অঙ্ক ছোঁয়ার আগে।

এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে ৭৫.৪০ গড়ে তার রান ৩৭৭। স্ট্রাইক রেট ১৬৪.৬২। মাস সেরা হওয়ার লড়াইয়ে ফেভারিট তিনি।

নারী ক্রিকেট

এমা ল্যাম্ব

টপ অর্ডারে ইংল্যান্ডের বড় ভরসা এখন ল্যাম্ব। গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩-০ তে হোয়াইটওয়াশ করা ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে তিনি করেন সেঞ্চুরি, ১০২। পরের দুই ম্যাচে খেলেন ৬৭ ও ৬৫ রানের ইনিংস। ৭৮ গড়ে ২৩৪ রান করে সিরিজের সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন তিনিই। এছাড়া শেষ ম্যাচে হাত ঘুরিয়ে উইকেটও নেন ৩টি।

ন্যাট সিভার

টানা দ্বিতীয় ও চার মাসের মধ্যে তৃতীয়বার মাস সেরার লড়াইয়ে জায়গা পেয়েছেন সিভার। এতেই পরিষ্কার, কতটা ছন্দে আছেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩-০ তে জেতা ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দুই সিরিজেই তিনি ব্যাটে-বলে বড় অবদান রাখেন। প্রথম ওয়ানডেতে বল হাতে ৫৯ রানে ৪ উইকেট নেওয়ার পর ৩৬ বলে খেলেন ৫৫ রানের ঝড়ো ইনিংস। ফিফটি করেন পরের ম্যাচেও।

রেনুকা সিং

গত মাসে বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্সে প্রথমবার মাস সেরার লড়াইয়ে জায়গা করে নিয়েছেন ভারতের এই ডানহাতি পেসার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩-০ তে জেতা ওয়ানডে সিরিজে ৭ উইকেট নিয়ে তিনি ছিলেন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। এরপর কমনওয়েলথ গেমসে প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দিতে ১৮ রানে নেন ৪ উইকেট। যদিও ম্যাচটি হেরে যায় তার দল।

২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে আইসিসি মাস সেরা ক্রিকেটারের স্বীকৃতি দেওয়া শুরু করে। আইসিসির ভোটিং একাডেমি ও ক্রিকেট সমর্থকদের যৌথ ভোটে নির্বাচন করা হয় মাসের সেরা দুই ক্রিকেটার। ভোটিং একাডেমিতে আছেন জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া সাংবাদিক, সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকাররা। তারা ভোট দেন ই-মেইলে, আইসিসির নিবন্ধিত সমর্থকদের ভোট দিতে হয় আইসিসির ওয়েবসাইটে।

সেরার রায়ে ভোটিং একাডেমির ভোট বিবেচনায় নেওয়া হয় শতকরা ৯০ ভাগ, সমর্থকদের ভোট বাকি ১০ ভাগ।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক