০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

‘এটা ক্রিকেট নয়, শুধু ব্যাটিং’, বোলারদের জন্য গাম্ভিরের সহানুভূতি

ক্রিকেটে ব্যাট-বলের ভারসাম্যপূর্ণ লড়াই হওয়া উচিত বলে মনে করেন ভারতের প্রধান কোচ।

‘এটা ক্রিকেট নয়, শুধু ব্যাটিং’, বোলারদের জন্য গাম্ভিরের সহানুভূতি

ভারতের প্রধান কোচ গৌতাম গাম্ভির। ছবি: আইসিসি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Oct 2026, 04:26 PM

Updated : 01 Oct 2026, 04:26 PM

ওয়ানডে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের কীর্তি গড়েও যেন স্বস্তি পাচ্ছেন না গৌতাম গাম্ভির। ৮০০ রানের ম্যাচকে ক্রিকেট মনে করেন না ভারতের প্রধান কোচ। তার মতে, এমন উইকেট বোলারদের জন্য একদমই অন্যায্য।

গুয়াহাটিতে বুধবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জন ক্যাম্পবেল, শেই হোপ ও আমির জাঙ্গুর সেঞ্চুরির সৌজন্যে ৪০৫ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই সংস্করণে যা তাদের প্রথম চারশ।

বিশাল এই রান যেন স্রেফ তুড়ি বাজিয়েই পেরিয়ে যায় ভারত। ৮ উইকেটে জিতে যায় তারা ৩৯ বল বাকি রেখে। ১৩৩ বলে ২২৩ রানের রেকর্ডময় অপরাজিত ইনিংস খেলেন শুবমান গিল, সেঞ্চুরি করেন রোহিত শার্মা।

ওয়ানডেতে এর আগে চারশ রান তাড়া করে জয়ের নজির দেখা গেছে কেবল একবার। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার ৪৩৪ রান পেরিয়ে অবিশ্বাস্য জয় পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

রান উৎসবের ম্যাচটি জিতে সিরিজও নিশ্চিত করে ফেলেছে ভারত। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে এনিয়ে টানা ১৪টি ওয়ানডে সিরিজ জিতল তারা। একটি প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টানা এত সিরিজ জয়ের কীর্তি নেই কারো।

অসংখ্য রেকর্ড-কীর্তির ম্যাচ শেষে বোলারদের জন্য সহানুভূতি ঝরল গাম্ভিরের কণ্ঠে।

“ব্যাট-বলের মধ্যে আরেকটু প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা উচিত। কারণ আমরা ক্রিকেটের কথা বলি- কিন্তু এটা ক্রিকেট নয়, এটা শুধুই ব্যাটিং। ভাবুন তো, এমন উইকেটে একজন তরুণ বোলার বল করছে, প্রতিপক্ষ ৪০০ রান করছে, এরপর আমরাও ৪০০ রান তাড়া করে ফেলছি।

“রেকর্ডের দিক থেকে এটা অসাধারণ, দর্শকদের জন্য অবিশ্বাস্য, সম্প্রচারকারীদের জন্যও দুর্দান্ত ম্যাচ। কিন্তু একজন প্রকৃত ক্রিকেটপ্রেমী ও কোচ হিসেবে বোলারদের প্রতিও আমার সহানুভূতি থাকতে হবে।”

৪৪ বছর বয়সী গাম্ভীর বলেন, এমন উইকেটে বোলারদের পারফরম্যান্স শুধু বোলিং ফিগার দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। কারণ উইকেট থেকে প্রায় কোনো সহায়তাই না পেলে বোলারদের পক্ষে ভালো করা কঠিন।

“এমন উইকেটে বোলিং করা বোলারদের জন্য মোটেও ন্যায্য নয়। তাই বোলারদেরও কিছু সুবিধা দিতে হবে, যাতে অন্তত এমন কিছু থাকে, যেটা নিয়ে তারা কাজ করতে পারে।

“বোলারদের ওপর কঠোর হওয়া যাবে না। কারণ অনেক সময় তাদের বোলিং ফিগার এমন হয় যে, সংখ্যাগুলো দেখে যতটা খারাপ মনে হয়, আসলে তারা ততটা খারাপ বোলিং করেনি।”

গাম্ভিরের মতে, আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটে ফিল্ডিংয়ের কড়াকড়ি, দুটি নতুন বল এবং ক্রমশ আগ্রাসী হতে থাকা ব্যাটিংয়ের কারণে বোলাররা এমনিতেই চাপে থাকেন। তাই ভারসাম্যপূর্ণ পিচ তৈরি করা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।