১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সাহিবজাদার সেঞ্চুরি ও রেকর্ড জুটিতে জয়ের পরও হতাশ পাকিস্তান

দাসুন শানাকা ও পাভান রাত্নায়েকের চমৎকার দুটি ইনিংসে হৃদয় ভাঙল পাকিস্তানের।

সাহিবজাদার সেঞ্চুরি ও রেকর্ড জুটিতে জয়ের পরও হতাশ পাকিস্তান
শেষটা জয়ে হলেও হতাশাই সঙ্গী পাকিস্তানের। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Feb 2026, 11:45 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:03 PM

বাঁচা-মরার ম্যাচে পাকিস্তানকে টানলেন সাহিবজাদা ফারহান। প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কোনো আসরে করলেন দুটি সেঞ্চুরি। এক আসরে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও গড়লেন তিনি। ফাখার জামানের সঙ্গে রেকর্ড জুটিতে দলকে এনে দিলেন বড় সংগ্রহ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিতলও পাকিস্তান, তবুও লক্ষ্য পূরণ হলো না তাদের!

সুপার এইটে নিজেদের শেষ ম্যাচে ৫ রানে জিতল পাকিস্তান। ২১২ রানের সংগ্রহ গড়ে শ্রীলঙ্কাকে ২০৭ রানে থামাল সালমান আলি আগার দল। 

তবে রান রেটে নিউ জিল্যান্ডকে পেছনে ফেলতে পারল না পাকিস্তান। মিচেল স্যান্টনারের দলকে টপকে যেতে শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ কিংবা এর কমে থামাতে হতো তাদের। 

পাল্লেকেল্লেতে শনিবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সাহিবজাদা ও ফাখারের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পায় পাকিস্তান। 

পঞ্চম ওভারে আসে জুটির পঞ্চাশ, পাওয়ার প্লেতে ৬৪। একই ছন্দে এগিয়ে গিয়ে দশম ওভারে স্পর্শ করে একশ।

৩২ বলে পঞ্চাশে পৌঁছান সাহিবজাদা, ২৭ বলে ফাখার। ৮৪ বলে তাদের জুটি স্পর্শ করে দেড়শ। 

ষোড়শ ওভারে ফাখারের বিদায়ে ভাঙে ১৭৬ রানের জুটি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে উদ্বোধনী জুটিতে এটাই সর্বোচ্চ। চলতি আসরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে নিউ জিল্যান্ডের টিম সাইফার্ট ও ফিন অ্যালেনের ১৭৫ ছিল আগের সেরা। 

৪২ বলে চারটি ছক্কা ও নয়টি চারে ৮৪ রান করেন ফাখার। তার বিদায় দিয়ে ধস নামে পাকিস্তানের ইনিংসে। শেষ ৪.২ ওভারে ৩৬ রার যোগ করতে ৮ উইকেট হারায় তারা!

শেষ ওভারে তিন অঙ্ক ছুঁয়ে বিদায় নেন সাহিবজাদা। ৬০ বলে খেলা তার ১০০ রানের ইনিংস গড়া পাঁচ ছক্কা ও নয় চারে। এর আগে নামিবিয়ার বিপক্ষেও ১০০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। 

আসরে ৩৮৩ রান করলেন সাহিবজাদা। ভাঙলেন এক আসরে ভিরাট কোহলির গড়া সর্বোচ্চ ৩১৯ রানের রেকর্ড। 

টানা তিন ম্যাচে হারা শ্রীলঙ্কার শুরুটা ভালো হয়নি। দ্বিতীয় ওভারে পাথুম নিসাঙ্কাকে বিদায় করেন নাসিম শাহ। ঝড়ের আভাস দেওয়া কামিল মিশারা ও চারিথ আসালাঙ্কাকে থামানোর পর কামিন্দু মেন্ডিসকে দ্রুত ফেরান আবরার আহমেদ। 

একাদশ ওভারে ৯৪ রানে শ্রীলঙ্কা চার উইকেট হারালে জেগে ওঠে পাকিস্তানের আশা। জানিথ লিয়ানাগের দ্রুত বিদায়ে আরেকটু আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে সালমানের দল। 

কিন্তু পাভান রাত্নায়েকে ও দাসুন শানাকার পাল্টা আক্রমণে সব হিসাব উল্টে যায়। ষোড়শ ওভারের পঞ্চম বলে শ্রীলঙ্কা ১৪৭ ছাড়িয়ে যেতেই শেষ হয়ে যায় পাকিস্তানের আশা।

১৮তম ওভারে রাত্নায়েকের বিদায়ে ভাঙে ৩৩ বল স্থায়ী ৬১ রানের জুটি। রাত্নায়েকে তিন ছক্কা ও চারটি চারে ৩৭ বলে করেন ৫৮ রান।

শেষের দিকে বোলারদের উপর চড়াও হয়ে অভাবনীয় জয়ের আশা জাগান শানাকা। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ২৮ রান। শাহিন শাহ আফ্রিদির প্রথম চার বলে একটি চার ও টানা তিনটি ছক্কায় ২২ রান নেন লঙ্কান অধিনায়ক। কিন্তু শেষ ২ বলে ৬ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেননি তিনি, নিতে পারেননি আর কোনো রান।

৩১ বলে আট ছক্কা ও দুই চার ৭৬ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলে হতাশা নিয়ে ফেরেন শানাকা। একই অবস্থা পাকিস্তানেরও। জিতেও কোনো উদযাপন ছাড়াই মাঠ ছাড়েন সালমান, আফ্রিদিরা। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান: ২০ ওভারে ২১২/৮ (সাহিবজাদা ১০০, ফাখার ৮৪, নাফে ২, শাদাব, ৭, নাওয়াজ ০, সালমান ০, উসমান ৮*, আফ্রিদি ৪, নাসিম ১, আবরার ০*; মাদুশাঙ্কা ৪-০-৩৩-৩, চামিরা ৪-০-৪৮-১, থিকশানা ৪-০-৩৫-০, শানাকা ৪-০-৪২-২, ওয়েল্লালাগে ৩-০-৩৭-০, লিয়ানাগে ১-০-১৪-০)

শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ২০৭/৬ (নিসাঙ্কা ৩, মিশারা ২৬, আসালাঙ্কা ২৫, রাত্নায়েকে ৫৮, কামিন্দু ৩, লিয়ানাগে ৫, শানাকা ৭৬*, ওয়েল্লালাগে ২*; আফ্রিদি ৪-০-৪৮-১, নাসিম ৪-০-৩৬-১, আবরার ৪-০-২৩-৩, তারিক ৪-০-৪৩-০, নাওয়াজ ২-০-২১-১, শাদাব ২-০-৩৩-০)

ফল: পাকিস্তান ৫ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: সাহিবজাদা ফারহান