Published : 03 Mar 2026, 05:35 PM
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি আছে ভারতের। কিন্তু একই মাঠে বিশ্বকাপ সেমি-ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা তাদের ভিন্ন। একাধিকবার এখানে শেষ চারের ম্যাচ হেরেছে তারা। দেশটির কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান সুনিল গাভাস্কারের দৃঢ় বিশ্বাস, এবার সেই ভাগ্য বদলাবে স্বাগতিকরা।
চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনাল হবে ওয়াংখেড়েতে। আগামী বৃহস্পতিবার সেখানে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ভারত।
২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওয়াংখেড়েতেই শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ভারত। এর আগে-পরে এই মাঠে দুইবার বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে খেলে দুটিতেই হারে তারা।
ওয়াংখেড়েতে ১৯৮৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালেও ভারতের প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড। এবারের মতো সেটিও ছিল টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনাল। যেখানে স্বাগতিকদের ৩৫ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল ইংলিশরা। যদিও শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেনি তারা, ৭ রানে হেরে যায় অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই একবার ওয়াংখেড়েতে সেমি-ফাইনাল খেলেছিল ভারত। সেই ম্যাচের অভিজ্ঞতাও তাদের ভালো নয়। ২০১৬ আসরের ওই লড়াইয়ে তাদেরকে ৭ উইকেটে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মজার বিষয় হলো, ওই ম্যাচটিও ছিল টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনাল।
এবার মুম্বাইয়ের ঐতিহ্যবাহী এই মাঠে ভারতের আরেকটি সেমি-ফাইনালের আগে উঠছে পুরনো সেই হারগুলোর কথা। মুম্বাইয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গাভাস্কার বলেন, ইংল্যান্ডকে হারানোর পাশাপাশি শেষ পর্যন্ত শিরোপাও ধরে রাখবে ভারত।
“সেদিন একজন, কালকে আরেকজন বলছিল, ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কখনও নকআউট ম্যাচ হারেনি। কিন্তু গতকাল (রোববার) সেই রেকর্ড ভেঙে গেছে।”
“এটা নতুন যুগ, নতুন দল। ঠিক আছে, ভারতের ওয়াংখেড়েতে সেমি-ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা খুব একটা ভালো নয়। তবে আমি বিশ্বাস করি, শিরোপার জয়ের সামর্থ্য তাদের আছে।”
কোয়ার্টার-ফাইনালে রূপ নেওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সুপার এইটের শেষ ম্যাচটি জিতে সেমি-ফাইনালে জায়গা করে নেয় ভারত। রোমাঞ্চকর ম্যাচটির ফয়সালা হয় শেষ ওভারে। ইংল্যান্ড-ভারতের ম্যাচটিও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের হবে বলে মনে করছেন গাভাস্কার।
“আমার মনে হয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালের মতো এটা (ভারত-ইংল্যান্ড) আরেকটা রোমাঞ্চকর ম্যাচ হবে, কারণ দুই দলই সমান শক্তিশালী। দুই দলেরই ব্যাটিং, বোলিং সমানে-সমান। মিডল অর্ডার, ফিনিশার আছে। বোলিংয়ে বৈচিত্র্যও আছে।”
“টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দুই দলেরই ভালো অভিজ্ঞতা আছে। আইপিএল খেলা কয়েকজন ক্রিকেটার ইংল্যান্ড দলে আছে, তাই তারা ভারতের কন্ডিশনের সঙ্গে পরিচিত, এখানে খেলার চাপ সম্পর্কে তারা জানে। এটা অসাধারণ ম্যাচ হবে। কলকাতার গত ম্যাচের মতো, এই ম্যাচও ৪০তম ওভার পর্যন্ত গড়াবে।”