কী করলে কী হবে: বাংলাদেশের চাওয়া জয় ও প্রোটিয়াদের হার
গাণিতিকভাবে ১ নম্বর গ্রুপ থেকে চার দলের সামনে সুযোগ আছে সেমি-ফাইনালে যাওয়ার।
বৃষ্টির দাপট, ম্যাচ ভেসে যাওয়া, সঙ্গে শক্তিতে পিছিয়ে থাকা দলগুলোর অঘটন- সব মিলিয়ে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দারুণ উপভোগ্য হয়ে উঠেছে। সুপার টুয়েলভের দুই গ্রুপেই আর কেবল একটি করে রাউন্ড বাকি; কিন্তু এখনও সেমি-ফাইনালের টিকেট পায়নি কোনো দল।
আগামী তিন দিনে মাঠে গড়াবে শেষ রাউন্ডের ছয়টি ম্যাচ। যেখানে ১০ দলের সামনে সুযোগ আছে শেষ চারে যাওয়ার।
১ নম্বর গ্রুপ: শীর্ষ দুইয়ের লড়াইয়ে ৫টি দল
শেষ রাউন্ডে মুখোমুখি হবে নিউ জিল্যান্ড-আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া-আফগানিস্তান ও ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা।
নিউ জিল্যান্ড:
• ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার সমান ৫ পয়েন্ট এবং রান রেটে সবার চেয়ে এগিয়ে শীর্ষে থাকায় আয়ারল্যান্ডকে হারালেই মূলত সেমি-ফাইনালের টিকেট পাবে নিউ জিল্যান্ড। তবে, অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় অস্ট্রেলিয়া যদি আফগানিস্তানের বিপক্ষে বিশাল বড় কোনো ব্যবধানে জিতে রান রেটে নিউ জিল্যান্ডকে ছাড়িয়ে যায় এবং ইংল্যান্ড বড় জয়ে তাদেরকে ছাড়িয়ে যায়, তাহলে জিতেও বাদ পড়তে পারে কিউইরা।
নিউ জিল্যান্ড রান রেট +২.২৩৩, ইংল্যান্ডের রান রেট +০.৫৪৭, অস্ট্রেলিয়ার -০.৩০৪।
• কম ব্যবধানে হারলেও সুযোগ থাকবে নিউ জিল্যান্ডের, তবে নির্ভর করতে হবে অন্য ম্যাচের ফলাফলের ওপর। সেক্ষেত্রে অবশ্যই ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে হারতে হবে এবং তখন এই তিন দলেরই পয়েন্ট থাকবে সমান ৫। বিবেচনায় আসবে রান রেট। সেক্ষেত্রে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে শেষ চারে যাবে শ্রীলঙ্কা।
ইংল্যান্ড:
• ইংল্যান্ডের সমীকরণটাও অনেকটা নিউ জিল্যান্ডের মতো। অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে রান রেটে এগিয়ে দুই নম্বরে আছে তারা। তাই নিজেদের ম্যাচে জিতলে এবং অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে রান রেট ভালো থাকলে সেমির টিকেট পাবে জস বাটলারের দল।
• হারলেও কাগজে কলমে সুযোগ থাকবে ইংল্যান্ডের। তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই নিউ জিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে হারতে হবে।
এই হিসেবে তখন শ্রীলঙ্কা ৬ পয়েন্ট নিয়ে উঠে যাবে সেমি-ফাইনালে। আর ইংল্যান্ড, নিউ জিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও আয়ারল্যান্ডের পয়েন্ট হবে সমান ৫। বিবেচনায় আসবে রান রেট।
অস্ট্রেলিয়া:
• অস্ট্রেলিয়াকে অবশ্যই জিততে হবে এবং প্রার্থনা করতে হবে যেন নিউ জিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড তাদের নিজ নিজ ম্যাচে হারে।
পয়েন্ট টেবিলে আপাতত শীর্ষে থাকা তিন দলই যদি হেরে যায় তাহলে, শ্রীলঙ্কা গ্রুপ সেরা হয়ে উঠবে সেমি-ফাইনালে। তখন দ্বিতীয় সেরার লড়াইটা হবে ইংল্যান্ড, নিউ জিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যে। তাদের পয়েন্ট হবে সমান ৫, ফলে বিবেচনায় আসবে রান রেট।
শ্রীলঙ্কা:
• লঙ্কানদের সামনে জয়ের বিকল্প নেই এবং একই সঙ্গে তাদের প্রার্থনা করতে হবে নিউ জিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে অন্তত একটি দল তাদের ম্যাচে হারে।
আয়ারল্যান্ড:
• আইরিশদের সামনে সেমির সমীকরণটা পাহাড় টপকানোর চেয়ে কঠিন বলা যায়। তাদের পয়েন্ট মাত্র ৩।
তাই নিজেদের ম্যাচে শুধু বিশাল বড় ব্যবধানে জিতলেই হবে না, পক্ষে আসতে হবে অন্য সব ম্যাচের ফল। যেমন: ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে হারতে অনেক বড় ব্যবধানে।
আফগানিস্তান:
• ৪ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে আগেই শেষ চারের লড়াই থেকে ছিটকে গেছে আফগানরা।
২ নম্বর গ্রুপ: দুটি স্থানের জন্য লড়াইয়ে ৫ দল
গ্রুপ পর্বের শেষ দিনে মুখোমুখি হবে, দক্ষিণ আফ্রিকা-নেদারল্যান্ডস, বাংলাদেশ-পাকিস্তান ও ভারত-জিম্বাবুয়ে
ভারত:
• ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকায় দলটির সামনে সহজ সমীরকরণ; জিতলেই উঠবে সেমি-ফাইনালে।
• রোহিত শর্মার দলের সামনে হারলেও সুযোগ থাকবে। সেক্ষেত্রে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানের মধ্যে অন্তত একটি দলকে হারতে হবে।
• আবার বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচটি কোনো কারণে পরিত্যক্ত হলে নিজেদের ম্যাচে হেরেও শেষ চারে উঠে যাবে ভারত।
দক্ষিণ আফ্রিকা:
• অন্য ম্যাচের উপর ভরসা না করে পরের ধাপের টিকেট পেতে জিততেই হবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে।
• হারলেও সুযোগ থাকবে; তবে নির্ভর করতে হবে ভাগ্য ও অন্য ম্যাচের ফলের ওপর। যেমন: ভারত যেন অনেক বড় ব্যবধানে না হারে এবং পাকিস্তান-বাংলাদেশ ম্যাচটি যেন পরিত্যক্ত হয়।
পাকিস্তান:
• বাবর আজমের দলের সামনে জয়ের বিকল্প নেই। আবার শুধু জিতলেই হবে না, নির্ভর করতে হবে অন্য ম্যাচের ফলের ওপর।
নিজেরা জিতলে এবং দক্ষিণ আফ্রিকা হারলেই লক্ষ্য পূরণ হবে পাকিস্তানের। আবার ভারত হারলে এবং দক্ষিণ আফ্রিকা জিতলে পরের ধাপের টিকেট পাবে পাকিস্তান ও প্রোটিয়ারা।
কারণ ভারতের চেয়ে রান রেটে ভালো অবস্থায় আছে পাকিস্তান।
বাংলাদেশ:
• সাকিব আল হাসানদের হিসাব অনেকটা পাকিস্তানের মতো। নিজেদের ম্যাচে জিততে তো হবেই, সঙ্গে প্রার্থনা করতে হবে যেন দক্ষিণ আফ্রিকা হারে।
আবার নিজেদের বড় জয়ের পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকা জিতলেও আশা থাকবে, তবে সেক্ষেত্রে ভারতকে হারতে হবে বড় ব্যবধানে। তখন বাংলাদেশ ও ভারতের পয়েন্ট হবে সমান ৬, বিবেচনায় আসবে রান রেট।
বাংলাদেশের রান রেট -১.২৭৬ আর ভারতের রান রেট +০.৭৩০।
জিম্বাবুয়ে:
• দলটির হিসাব কেবলই কাগজে কলমে এবং অনেক ‘যদি ও কিন্তুর’ ওপর নির্ভর করছে।
ভারতের বিপক্ষে তাদের জিততেই হবে, বড় ব্যবধানে। সঙ্গে প্রার্থনা করতে হবে যেন দক্ষিণ আফ্রিকা অনেক বড় ব্যবধানে হারে এবং পাকিস্তান-বাংলাদেশ ম্যাচ ভেস্তে যায়।
এতগুলো ‘যদি’ পক্ষে আসলে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের পয়েন্ট হবে সমান ৫ করে। তখন বিবেচনায় আসবে রান রেট।
নেদারল্যান্ডস:
• সেমি-ফাইনালের লড়াই থেকে আগেই ছিটকে গেছে তারা।
