০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটারই হারিয়ে গেছে’, সুরিয়াভানশিকে নিয়ে কাপিল দেব

ভারতীয় বিস্ময় বালকের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিনোদ কাম্বলির উদাহরণ টানেন বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় অধিনায়ক।

‘অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটারই হারিয়ে গেছে’, সুরিয়াভানশিকে নিয়ে কাপিল দেব

বৈভাব সুরিয়াভানশি ও কাপিল দেব। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Oct 2026, 11:02 PM

Updated : 08 Oct 2026, 11:02 PM

সম্ভাবনার ডালি সাজিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন বিনোদ কাম্বলি। সেই সময় তাকে মনে করা হচ্ছিল ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ। কিন্তু অল্প সময়েই থমকে যায় তার ক্যারিয়ার। সাবেক এই ব্যাটসম্যানের উদাহরণ টেনে বৈভাব সুরিয়াভানশিকে সময় দিতে বললেন কাপিল দেব। বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় অধিনায়ক সতর্ক করে বললেন, ক্রিকেটে অনেকে অসাধারণ প্রতিভাবান হয়েও টিকে থাকতে পারেনি।

ভারতীয় ক্রিকেট তো বটেই, বিশ্ব ক্রিকেটেই এখন আলোচিত নাম সুরিয়াভানশি। মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিশ্বের তারকা বোলারদের যেভাবে তিনি তুলাধুনা করছেন, তাতে তার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকাটা স্বাভাবিক।

বয়সভিত্তিক ক্রিকেট, আইপিএল, ভারতের ইমার্জিং দল ও ‘এ’ দলের হয়ে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে চলেছেন সুরিয়াভানশি। পেয়ে গেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদও। ভারতের জার্সিতে ছয়টি টি-টোয়েন্টি খেলে দুই ফিফটিতে করেছেন ১৯৩ রান, স্ট্রাইক রেট ১৮৯.২১।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে আলাপকালে কাপিলের কাছে জানতে চাওয়া হয়, সুরিয়াভানশির ভবিষ্যৎ কেমন দেখছেন তিনি।

“(তার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কিছু বলা) তাড়াতাড়ি হয়ে যায়। তার সামর্থ্য আছে? অবশ্যই। কিন্তু ক্রিকেটে এমন অনেকেই এসেছে, যাদের অনেক প্রতিভা ছিল, পরে হারিয়ে গেছে।”

এরপরই বিনোদ কাম্বলির উদাহরণ তুলে ধরেন ভারতের ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কাপিল।

“বিনোদ কাম্বলির কথা ভাবুন। তার ব্যাপারে আমরা কী বলব?”

ভারতীয় ক্রিকেটে কাম্বলির পথচলাই এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে সবচেয়ে মানানসই। সাচিন টেন্ডুলকার ও বিনোদ কাম্বলি ছিলেন শৈশবের বন্ধু। মুম্বাইয়ের স্কুল ক্রিকেটে একবার ৬৬৪ রানের জুটি গড়ে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিলেন তারা।

টেন্ডুলকারের দুই বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় কাম্বলির, ১৯৯১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে। টেস্ট ক্রিকেটে তার পথচলা শুরু হয় ১৯৯৩ সালে। দ্বিতীয় ম্যাচে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। পরের দুই ম্যাচে উপহার দেন দুটি ডাবল সেঞ্চুরি।

একটা পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ারই অপেক্ষা করছে কাম্বলির সামনে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি।

টেন্ডুলকার নিজেকে ক্রিকেটের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যানদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলেও, কাম্বলির টেস্ট ক্যারিয়ার থেমে যায় মাত্র ১৭ ম্যাচে। এই সংস্করণে তার সবশেষ ম্যাচ ছিল ১৯৯৫ সালে।

চার সেঞ্চুরিতে টেস্টে কাম্বলির রান এক হাজার ৮৪। ব্যাটিং গড় চমৎকার, ৫৪.২০। ওয়ানডেতে কিছুটা দীর্ঘ সময় খেলেন তিনি। ৯ বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ১০৪ ম্যাচ খেলে দুটি সেঞ্চুরিতে দুই হাজার ৪৭৭ রান করেন মিডল অর্ডার এই ব্যাটসম্যান। ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে ভারতের প্রতিনিধিত্বও করেন তিনি।

সুরিয়াভানশি যে প্রতিভাবান, সেটা নিয়ে কোনো সংশয় নেই কাপিলের। তবে দুই-তিন বছর পর এই ক্রিকেটার কোন অবস্থায় থাকেন, সেটা দেখতে চান তিনি।

“বৈভাবের বয়স এখন ১৫ বছর। তাকে আরও তিন বছর সময় দিন, তারপর না হয় আমরা কথা বলব।

“যখন তার জীবনযাপন বদলে যাবে, তখন তার চিন্তাভাবনাতেও পরিবর্তন আসবে। আগামী দুই বছর পর সে বিষয়গুলোকে কীভাবে সামলায়, সেটি তখনই বোঝা যাবে। তার পারফরম্যান্সের দিকে তাকানোর চেয়ে এটিই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”