খালেদের অধারাবাহিকতাই বোলিং কোচের কাছে ‘শক্তি’
আলগা ডেলিভারি করে এই পেসার যেমন চাপ কমিয়ে দিতে পারেন, তেমনি পরের মূহূর্তেই দুর্দান্ত ডেলিভারিতে চমকে দিতে পারেন ব্যাটসম্যানকে।
এক-দুই করে ১০টি টেস্ট খেলে ফেললেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ। নির্ভরতা হতে পারলেন কতটুকু? অ্যালান ডোনাল্ড অবশ্য নির্ভরতার চেয়ে বেশি রোমাঞ্চিত খালেদের বোলিংয়ে থাকা চমকের উপাদানে। এই পেসারের বোলিং যেমন কখনও কখনও একটু এলোমেলো ও অননুমেয়, এটিই ব্যাটসম্যানদের অপ্রস্তুত করে তোলে বলে মনে করেন বাংলাদেশের বোলিং কোচ।
বাংলাদেশের টেস্ট দলে এখন নিয়মিত মুখ খালেদ। একাদশেও মোটামুটি সুযোগ পাচ্ছেন নিয়মিত। ক্যারিয়ারের শুরুটা তার যদিও ছিল হতাশার। প্রথম দুই টেস্টে তো উইকেটের মুখই দেখেননি। গত বছর পর্যন্ত তিন টেস্টে উইকেট ছিল স্রেফ একটি।
বাংলাদেশের আগের বোলিং কোচ ওটিস গিবসনের সঙ্গে অবশ্য নিবিড়ভাবে কাজ করছিলেন তিনি। সেটির সুফল মিলতে থাকে এই বছর থেকে। সেই ধারাবাহিকতায় অ্যালান ডোনাল্ড বোলিং কোচ হয়ে আসার পর খালেদকে দেখা যায় ভিন্ন রূপে। এই বছর ৭ টেস্টে তার শিকার ২০টি। সবশেষ ৩ টেস্টেই নিয়েছেন ১২ উইকেট।
তবে উন্নতির ছাপ অনেকটা রাখতে পারলেও এখনও যথেষ্ট পরিশীলিত ও গোছানো নয় তার বোলিং। ছন্দে থাকলে তিনি বেশ ভালো, কিন্তু অনেক সময় ছন্দ পেতেই ভুগতে থাকেন। প্রায়ই দেখা যায়, নতুন স্পেলের শুরুতেই লেগ স্টাম্পের বাইরে বল করে বসেন। দারুণ একটি ডেলিভারির পরই আলগা কোনো ডেলিভারিতে চাপ হালকা করে দেন। পরমুহূর্তেই অবশ্য আবার দুর্দান্ত ডেলিভারিকে ব্যাটসম্যানকে বিপাকে ফেলতে পারেন।
এমনিতে এটা খুব আদর্শ কিছু হওয়ার কথা নয়। তবে এখানেই ব্যতিক্রমী কিছুর ছাপ দেখছেন ডোনাল্ড। মিরপুর টেস্ট শুরুর আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের বোলিং কোচ বললেন, খালেদকে নিয়ে অনিশ্চয়তাই অনেক সময় ব্যাটসম্যানদের বিপাকে ফেলে দেয়।
“খালেদকে নিয়ে আমার ইতিবাচক ভাবনার ব্যাপারটিই হলো তার এই অননুমেয় বোলিং। দুর্দান্ত কোনো ডেলিভারি সে করতে পারে, আবার পরের বলটিই লেগ স্টাম্পের বাইরে করে ফেলতে পারে। এটিই তার শক্তি।”
ভয়ঙ্কর কোনো ডেলিভারির পর আলগা ডেলিভারিও যে কখনও কখনও কার্যকর হয়ে ওঠে, সেটিই মনে করিয়ে দিয়েছেন ডোনাল্ড। খালেদের উন্নতির জায়গা যে অনেক আছে, সেটি অবশ্য বলছেন তিনি। তবে ৩০ বছর বয়সী পেসারের শেখার তাড়নাতেই উন্নতির ছবি দেখছেন বোলিং কোচ।
“সে এখনও শিখছে। ভুল তো করতেই পারে। যারা ভুল করে, তাদের পছন্দ করি আমি। খালেদের ভেতরটা ঠিকঠাক আছে, জীবনীশক্তি দারুণ। শক্তপোক্ত একটা ছেলে, যে শিখতে চায়। প্রতিটি দিনই নানা প্রশ্ন করে। এখানে আমি ভুল ধরতে পারি না। ওদের কাছ থেকে এটাই আমি চাই।”
“আমি এখানে আছি ওদের কাঁধ থেকে বোঝা নামিয়ে দিতে, যাতে ওরা মুক্ত হয়ে উপভোগ করতে পারে। আগ্রাসী হতে পারে। খালেদ যদি লেগ স্টাম্পের বাইরে বল করে বিরাট কোহলিকে আউট করতে পারে, আমার কাছে ওই ডেলিভারিই দুর্দান্ত। খালেদকে নিয়ে আমার দুর্ভাবনা নেই। সে শিখতে চায় এবং সফল হতে চায়।”
