রেকর্ড ব্যবধানে শ্রীলঙ্কাকে গুঁড়িয়ে ভারতের আবার সোনালি হাসি
শ্রীলঙ্কাকে ব্যাটে-বলে বিধ্বস্ত করে এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের সোনার পদক ধরে রাখল ভারত।
এশিয়া কাপ ফাইনাল থেকে এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের ফাইনাল। ৯ দিনের ব্যবধানে ভারতীয় দল হয়ে উঠল যেন আরও দাপুটে, আরও অদম্য। বিধ্বংসী ব্যাটিং আর ক্ষুরধার বোলিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে বিধ্বস্ত করে হারমানপ্রিত কৌরের দল ধরে রাখল সোনার পদক।
এশিয়ান গেমনের নারী ক্রিকেটের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানে হারাল ভারত।
জাপানের আইচির নিশিনে ভারতকে আরও একবার বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেন স্মৃতি মান্ধানা ও শেফালি ভার্মা। পরে রিচা ঘোষের তাণ্ডবে ২০ ওভারে তোলে তারা ২১৬ রান। বোলিংয়ে ব্যর্থ শ্রীলঙ্কা ব্যাটিংয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে ৬৯ রানেই।
নারী টি-টোয়েন্টিতে ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয় এটি, শ্রীলঙ্কার এটি সবচেয়ে বড় পরাজয়।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়েছিল ভারত।
এই অঞ্চলের অবিসংবাদিত সেরা দলটি এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটে দুইবার অংশ নিয়ে দুটিতেই পেল সেরা সাফল্য।
কোরোগি স্পোর্টস পার্কে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে ভারত। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা দুই ওপেনারের ঝড়ে খেই হারায় লঙ্কান বোলাররা। প্রথম ওভারে দুটি চার মেরে শুরু করেন মান্ধানা। পরের ওভারে ছক্কা মারেন টানা দুই বলে। অসাধারণ ফর্মে থাকা শেফালি তো আর স্রেফ দর্শক থাকতে পারেন না! তিনিও শুরু করেন আক্রমণ। পাওয়ার প্লেতে রান আসে ৬৭।
পাওয়ার প্লে শেষেও এগিয়ে যান দুজন। ৩০ বলে ফিফটি করেন মান্ধানা।
১০ ওভারে ৯৯ রান তুলে ভাঙে দুজনের দুজনের জুটি। রিভার্স সুইপ খেলে শেফালি আউট হন ২৯ বলে ৪৮ করে।
এই ইনিংসের পথে এক পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে বেশি রানের বিশ্বরেকর্ড গড়েন শেফালি। এক বছরে ছক্কার রেকর্ড তো করেছেন তিনি আগেই। এই ম্যাচের তিন ছক্কায় তা সমৃদ্ধ করেন আরও।
টি-টোয়েন্টিতে প্রথম জুটি হিসেবে চার হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করে মান্ধানা ও শেফালির জুটি। আর কোনো জুটিতে ৩ হাজার রানও নেই।
শেফালির বিদায়ের পর একটু কমে আসে রানের গতি। অধিনায়ক হারমানপ্রিত ফেরেন ১৭ বলে ১৯ রান করে।
মান্ধানার সামনে ছিল শতরানের হাতছানি। তবে ছক্কার চেষ্টায় আউট হয়ে যান ৪৫ বলে ৭৯ রান করে। তার ইনিংসে ছক্কা ছিল ৭টি।
তখন মনে হচ্ছিল, দুইশ রান ছোঁয়া কঠিন হবে ভারতের। কিন্তু মারকুটে ইনিংসে দলকে দুইশ ছাড়িয়ে আরও এগিয়ে নিয়ে যান রিচা। ২২ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন এই কিপার-ব্যাটার।
ভারতের এই ২১৬ রান এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটের দলীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর এটি। এই ইনিংসের ১৩ ছক্কাও তাদের সর্বোচ্চ।
এই রান তাড়ায় লড়াই কিছুটা জমাতে হলে চামারি আতাপাত্তুকে আবির্ভুত হতে হতো নিজের সেরা চেহারায়। শুরুটা ভালোই করেছিলেন লঙ্কান অধিনায়ক। কিন্তু আরেকপ্রান্তে ছিল ব্যাটারদের আসা-যাওয়া। আতাপাত্তুও আউট হয়ে যান ২১ বলে ২৯ করে।
দলের আর কোনো ব্যাটার উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেননি। চার ওভারের বেশি থাকতে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। গত এশিয়ান গেমসেও ভারতের কাছে হেরে রুপা পেয়েছিল লঙ্কানরা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২০ ওভারে ২১৬/৩ (মান্ধানা ৭৯, শেফালি ৪৮, হারমানপ্রিত ১৯, রিচা ৪৯*, ফুলমালি ৭*; সুগান্দিকা ৪-০-৩৭-১, মিথালি ৩-০-৪২-০, আতাপাত্তু ২-০-২৭-০, কাভিন্দি ৩-০-৪০-০, কাভিশা ৪-০-৩৫-১, চামুদি ৪-০-৩৪-১)।
শ্রীলঙ্কা : ১৫.৪ ওভারে ৬৯ (আতাপাত্তু ২৯, ইমেশা ৩, হাসিনি ০, কাভিশা ১১, হার্শিথা ০, হানসিমা ১, কৌশিনি ১৪, কাভিন্দি ২, সুদান্দিকা ২, মিথালি ০, চামুদি ০*; ক্রান্তি ২-০-১১-০, নান্দিনি ২-০-২৩-০, শেফালি ২-০-৩-২, দীপ্তি ৪-১-৬-৩, শ্রেয়াঙ্কা ১.৪-০-৯-২, শ্রী চারানি ৪-০-১৩-২)।
