বাংলাদেশ ক্রিকেটে হেম্পের নতুন অধ্যায়
গত সাড়ে তিন বছর নানা দায়িত্বে কাজ করার পর এবার বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন ভূমিকায় দেখা যাবে ডেভিড হেম্পকে।
গত প্রায় সাড়ে তিন বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে নানা দায়িত্ব পালন করেছেন ডেভিড হেম্প। এবার তাকে দেখা যাবে নতুন আরেকটি ভূমিকায়। বাংলাদেশ নারী জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করবেন বারমুডার সাবেক এই ব্যাটসম্যান।
সাম্প্রতিক সময়ে মেয়েদের দলের টানা ব্যর্থতার পথ ধরে কোচের পদে পরিবর্তন আনল বিসিবি। গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে কোচ হিসেবে কাজ করছিলেন সরওয়ার ইমরান। তবে দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে অভিজ্ঞ কোচদের একজন হলেও দলের পারফরম্যান্স ছিল ক্রমাগত পড়তির দিকে। সম্প্রতি এশিয়া কাপ ও পরে এশিয়ান গেমসে ব্যর্থতার পর তাকে আর দায়িত্বে রাখছে না বিসিবি। তার স্থলাভিষিক্ত হতে চলেছেন হেম্প।
হেম্পের সঙ্গে বিসিবির চুক্তি দুই বছরের। সামনের অস্ট্রেলিয়া সফর থেকেই শুরু হচ্ছে তার মেয়াদ। ব্রিজবেনে সরাসরি দলের সঙ্গে যোগ দেবেন তিনি।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে হেম্প এখন পরিচিত নাম। ২০২৩ সালের মে মাসে তাকে আনা হয় হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের প্রধান কোচ হিসেবে। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ছিল তার ওই চুক্তি। কিন্তু ২০২৩ সালেই জাতীয় দলের নিউ জিল্যান্ড সফরের কোচিং স্টাফে রাখা হয় তাকে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচই করে নেওয়া হয় তাকে। এসব দায়িত্বের ফাঁকে নারী জাতীয় দলেও ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজ করেন কিছুদিন।
নারী ক্রিকেটে তার কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে আরও। পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন ২০২০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত। এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় মেলবোর্ন স্টার্স ও ভিক্টোরিয়ার মেয়েদের দলেও কাজ করেছেন তিনি। ৫৫ বছর বয়সী সাবেক ক্রিকেটার ইউকে-কোয়ালিফাইড লেভেল-৪ কোচ।
খেলোয়াড়ি জীবনে ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্ল্যামরগন ও ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে হেম্পের রয়েছে সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার। ইংল্যান্ডের হয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করছিলেন তিনি। ১৯৯৫ সালে ইংল্যান্ড ‘এ’ বাংলাদেশ সফরেও এসেছিলেন।
তবে ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে কখনও জায়গা করে নিতে পারেননি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার তেষ্টা মেটাতে পরে বেছে নেন জন্মভূমি বারমুডাকেই। বারমুডার হয়ে ২২টি ওয়ানডে ও ২টি টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা আছে তার, খেলেছেন ২০০৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে। সব মিলিয়ে আড়াইশর বেশি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে রান করেছেন ১৫ হাজারের বেশি।
দিশা হারানো বাংলাদেশ দলকে পথে ফেরানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এখন তিনি শুরু করতে যাচ্ছেন আরেকটি অধ্যায়।
অস্ট্রেলিয়াতে তিনটি একদিনের ম্যাচ খেলবে নিগার সুলতানার দল। সিরিজ শুরু আগামী ৯ অক্টোবর।
