বিশ্বকাপ নিয়ে কোহলির সঙ্গে ‘কথা হয় না’ রোহিতের
ভারতীয় তারকা ওপেনারের মতে, ভিরাট কোহলিকে বিশ্বকাপের গুরুত্ব মনে করিয়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
ভারতের ওয়ানডে দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দুই ক্রিকেটার ভিরাট কোহলি ও রোহিত শার্মা। এরই মধ্যে চারটি বিশ্বকাপ খেলে ফেলেছেন কোহলি, রোহিত তিনটি। এই মঞ্চে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব কতটা, জানেন দুজনই। তাই আগামী বছরের বিশ্বকাপ সামনে রেখে কোহলিকে কিছু বোঝানোর প্রয়োজন দেখছেন না রোহিত। ভারতীয় তারকা ওপেনার বলেছেন, এ নিয়ে তাদের মধ্যে আলাদা করে কোনো আলোচনাও হয় না।
টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিকে বিদায় বলে দিয়ে ভারতের হয়ে এখন কেবল ওয়ানডে খেলছেন রোহিত ও কোহলি। ২০২৭ সালের বিশ্বকাপই যে তার শেষ, এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন কোহলি। এ নিয়ে এখনও কিছু না বলেননি রোহিত।
২০১১ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতা ভারত দলের সদস্য ছিলেন কোহলি। কিন্তু রোহিত এখনও সেই স্বাদ পাননি। ২০২৩ আসরে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেরে হৃদয় ভাঙে তার ও ভারতের।
সবকিছু ঠিক থাকলে, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় আগামী বছরের অক্টোবর-নভেম্বরের বিশ্বকাপেও দেখা যেতে পারে রোহিত ও কোহলিকে। এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজে খেলছেন তারা। দ্বিতীয় ম্যাচের আগে জিওস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৩৯ বছর বয়সী রোহিত বলেন, কোহলির সঙ্গে কেবল দলের জন্য ভালো করা নিয়ে কথা হয়।
“সে বহু বছর ধরে খেলছে। ২০২৭ বিশ্বকাপ হোক কিংবা ২০২৩ বিশ্বকাপ- তাকে কোনো কিছু বুঝিয়ে দেওয়ার দরকার নেই। বিশ্বকাপ হলো বিশ্বকাপ। আর আমি নিশ্চিত, যারা দলে থাকবে, তারা সবাই বিশ্বকাপের গুরুত্ব বোঝে, বিশেষ করে কোহলি। আমি বলতে চাচ্ছি, এই দলে যে সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ খেলেছে, আমার মনে হয় সে। হ্যাঁ, তার ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য। অন্তত এই দলে, হ্যাঁ।
“৫০ ওভারের বিশ্বকাপের কথা বললে, সে ২০১১, ২০১৫, ২০১৯ ও ২০২৩- চারটি বিশ্বকাপ খেলেছে। এবার তার পঞ্চম বিশ্বকাপ হবে। তাই স্বাভাবিকভাবেই সে সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ খেলেছে এবং এই টুর্নামেন্টের গুরুত্বও সে জানে। এ নিয়ে আমাদের মধ্যে আলাদা করে কোনো আলোচনা হয় না। আমাদের আলোচনা থাকে কীভাবে আমরা ভালো করতে পারি, সেটি নিয়ে।”
একসঙ্গে ব্যাটিং করার সময় ৩৮ ছুঁইছুঁই কোহলির সঙ্গে নিজের রসায়ন কেমন, সেটাও তুলে ধরেন রোহিত।
“আমরা যখন একসঙ্গে ব্যাটিং করি, তখন আলোচনা করি কাকে আক্রমণ করব, কার বলে সিঙ্গল নেব এবং কী করা উচিত। কখনো কখনো আমার পায়ে সমস্যা হলে তাকে বলি, ‘ভাই, একটু সাবধানে দৌড়াও, আমার পায়ে কিছু একটা হচ্ছে।’
“এভাবেই সে বিষয়গুলো বোঝে। এ ধরনের কথাবার্তা চলতেই থাকে। তাই ব্যাপারটা বেশ উপভোগ্য। আমরা যখন খেলা শুরু করেছিলাম, তখন যেমন ছিলাম, এখনো তেমনই আছি। মাঠে নিজেদের প্রকাশ করার ধরনে অবশ্য আমরা দুজন আলাদা। তবে এর বাইরে দলের জন্য আমাদের লক্ষ্য ও চিন্তাভাবনা প্রায় একই- আমাদের ম্যাচ জিততে হবে। বিশ্বকাপ জিততে হবে, টুর্নামেন্ট জিততে হবে, সিরিজ জিততে হবে এবং দলের জন্য ভালো করতে হবে। কাদের কীভাবে সাহায্য করতে পারি, সেটিও ভাবি। এই জায়গায় আমাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।”
