২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

আসালাঙ্কার দারুণ সেঞ্চুরির পর বৃষ্টির জয়

প্রথম ওয়ানডেতে চারিথ আসালাঙ্কার চমৎকার ইনিংসের পর দিলশান মাদুশানকার জোড়া উইকেটে জয়ের মঞ্চ তৈরি করে ফেলেছিল শ্রীলঙ্কা, কিন্তু জল ঢেলে দিল বৃষ্টি।

আসালাঙ্কার দারুণ সেঞ্চুরির পর বৃষ্টির জয়

চারিথ আসালাঙ্কা ক্যারিয়ারের তৃতীয় ওয়ানডে শতক পূর্ণ করেন ৯১ বলে।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Jan 2024, 11:28 PM

Updated : 06 Jan 2024, 11:31 PM

একটা পর্যায়ে আড়াইশ রানই শ্রীলঙ্কার জন্য মনে হচ্ছিল অনেক দূরের পথ। দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে দলকে সেখানে পৌনে তিনশর কাছাকাছি পুঁজি এনে দিলেন চারিথ আসালাঙ্কা। বোলিংয়ে দিলশান মাদুশানকার হাত ধরে শুরুতেই এলো জোড়া সাফল্য। লঙ্কানদের জয়ের মঞ্চ তখন প্রস্তুত। কিন্তু তাদের সব আশা ভেসে গেল বৃষ্টিতে।

কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শনিবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছে।

আসালাঙ্কার দারুণ ইনিংসে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে করে ২৭৩ রান।

পাঁচে নেমে ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৯৫ বলে ১০১ রানের ইনিংস খেলেন আসালাঙ্কা। চল্লিশ ছাড়ানো ইনিংস আসে অধিনায়ক কুসাল মেন্ডিস ও সাদিরা সামারাউইক্রামার ব্যাট থেকে।

লক্ষ্য তাড়ায় জিম্বাবুয়ে ৪ ওভারে ২ উইকেটে ১২ রান করার পর বৃষ্টি নামে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও আর খেলা শুরু করা যায়নি।

ভারতে অনুষ্ঠিত গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে ১০ দলের মধ্যে নবম স্থানে থাকে বিদায় নেওয়ার পর এই সংস্করণে শ্রীলঙ্কার প্রথম ম্যাচ ছিল এটি।

বিশ্বকাপের স্কোয়াড থেকে ব্যাপক পরিবর্তন এনে এই সিরিজের দল দেয় শ্রীলঙ্কা। তার আগে পাকাপাকিভাবে ওয়ানডের নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হয় মেন্ডিসের কাঁধে।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শ্রীলঙ্কার শুরুটা অবশ্য ভালো ছিল না। ম্যাচের পঞ্চম বলে রিচার্ড এনগারাভার বাড়তি বাউন্সে কিপারের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন আভিশকা ফার্নান্দো।

তিনে নেমে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন সামারাউইক্রামা। ব্লেসিং মুজারাবানিকে পরপর দুই চারে শুরু হয় তার যাত্রা। অন্য প্রান্তে মেন্ডিসও খেলেন দারুণ কিছু শট। জুটির পঞ্চাশ হয়ে যায় ৩৯ বলেই।

অতি আক্রমণাত্মক হতে গিয়েই বিপদ ডেকে আনেন সামারাউইক্রামা। শরীর থেকে বাইরের বলে ড্রাইভ করে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি, ৩১ বলে ৮ চারে করেন ৪১ রান।

৬৩ রানের জুটি ভাঙার পর তৃতীয় উইকেটে জানিথ লিয়ানাগের সঙ্গে ৪৮ রানের জুটিতে দলের স্কোর একশ পার করেন মেন্ডিস। তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে ফেরেন দুজনই।

অভিষিক্ত লিয়ানাগেকে (৩৪ বলে ২৪) ফিরিয়ে এই সংস্করণে প্রথম উইকেটের দেখা পান আরেক অভিষিক্ত ফারাজ আকরাম। ৪৮ বলে ৪৬ রান করে মেন্ডিস কাটা পড়েন রান আউটে।

এরপর বলতে গেলে দলকে একাই টানেন আসালাঙ্কা। সেহানা আরাচিগে, দাসুন শানাকা, মাহিশ থিকশানার কেউ ইনিংস টেনে নিতে পারেননি।

৪২তম ওভারে ২০৮ রানে ৭ উইকেট হারানো শ্রীলঙ্কা আড়াইশর আগেই থমকে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে যায়। সেখান থেকে আসালাঙ্কার ব্যাটে তারা পৌঁছে যায় পৌনে তিনশর কাছে।

৪৯তম ওভারে ৯৪ থেকে মুজারাবানিকে ছক্কায় উড়িয়ে ৯১ বলে তৃতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন আসালাঙ্কা। এই সংস্করণে সবশেষ তিন ইনিংসের মধ্যে তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি এটি। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছিলেন ১০৫ বলে ১০৮ রানের ইনিংস।

শেষ ওভারে রান আউটে থামে তার এবারের চমৎকার ইনিংসটি। অষ্টম উইকেটে আসালাঙ্কার সঙ্গে ৫২ রানের জুটির পথে ১৮ রান করেন পেসার দুশমন্থ চামিরা।

বোলিংয়ে শ্রীলঙ্কার প্রথম দুই ওভারই আসে মেডেন। এই সময়ে লেগ বাই থেকে কেবল ১ রান নিতে পারে জিম্বাবুয়ে।

তৃতীয় ওভারে ব্যাটে কোনো রান না দিয়ে জোড়া শিকার ধরেন মাদুশানকা। বাঁহাতি পেসারের বল স্টাম্পে টেনে আনেন টিনাশে কামুনহুকামউই। চার বল পর অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করে স্লিপে ধরা পড়েন অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন।

তখন ৫ রানে ২ উইকেট নেই জিম্বাবুয়ের। সেই ৫ রানই আবার ‘এক্সট্রা’ থেকে!

পরের ওভার শেষেই বৃষ্টিতে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। জিম্বাবুয়েও যেন হাফ ছেড়ে বাঁচে!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা: ৫০ ওভারে ২৭৩/৯ (আভিশকা ০, মেন্ডিস ৪৬, সামারাউইক্রামা ৪১, লিয়ানাগে ২৪, আসালঙ্কা ১০১, আরাচিগে ১১, শানাকা ৮, থিকশানা ১০, চামিরা ১৮, ভ্যান্ডারসাই ৩*, মাদুশানকা ৩*; এনগারাভা ৬.৪-১-৩৯-২, মুজারাবানি ১০-১-৬২-২, ফারাজ ১০-০-৫৮-২, মুফুদজা ১০-০-৩৭-০, রাজা ১০-০-৪১-১, বার্ল ৩.২-০-৩২-০)

জিম্বাবুয়ে: ৪ ওভারে ১২/২ (কাইটানো ১*, কামুনহুকামউই ০, আরভিন ০, শুম্বা ২*; মাদুশানকা ২-২-০-২, চামিরা ২-১-৩-০)

ফল: ম্যাচ পরিত্যক্ত

সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে প্রথমটির পর ০-০ সমতা