চতুর্থবার ওয়ানডের বর্ষসেরা হয়ে কোহলির রেকর্ড, প্রথমবার সেরা আতাপাত্তু
পুরুষ ক্রিকেটে দুই সতীর্থ শুবমান গিল ও মোহাম্মদ শামি এবং নিউ জিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেলকে পেছনে ফেলেছেন ভারতের মহাতারকা।
সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ড, বিশ্বকাপের এক আসরে সবচেয়ে বেশি রানের কীর্তি- সব মিলিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে গত বছরটা স্বপ্নের মতো কেটেছে ভিরাট কোহলির। বছরজুড়ে দুর্দান্ত সব পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ার স্বীকৃতিও এবার পেয়েছেন তিনি। আইসিসির বর্ষসেরা পুরুষ ওয়ানডে ক্রিকেটারের পুরস্কার জিতেছেন ভারতের মহাতারকা।
এই নিয়ে চারবার ওয়ানডের বর্ষসেরা হলেন কোহলি। ছাড়িয়ে গেলেন তিনি তিনবার জয়ী এবি ডি ভিলিয়ার্সকে।
মেয়েদের বর্ষসেরা হয়েছেন শ্রীলঙ্কার চামারি আতাপাত্তু। তিনি এই স্বীকৃতি পেলেন প্রথমবার।
সেরার লড়াইয়ে কোহলি হারিয়েছেন দুই সতীর্থ শুবমান গিল ও মোহাম্মদ শামির সঙ্গে নিউ জিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেলকে। আতাপাত্তু পেছনে ফেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশলে গার্ডনার, ইংল্যান্ডের ন্যাট সিভার ব্রান্ট ও নিউ জিল্যান্ডের অ্যামেলিয়া কারকে।
ভিরাট কোহলি
২০২৩ সালে ওয়ানডেতে দারুণ ধারাবাহিক ছিলেন কোহলি। ২৭ ম্যাচের ২৪ ইনিংসে ব্যাটিং করে তার গড় ছিল ৭২.৪৭। রান করেন এই সময়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এক হাজার ৩৭৭। বছরে তার ৬ সেঞ্চুরির চেয়ে বেশি করতে পারেননি আর কেউ, সঙ্গে ফিফটি ৮টি।
বছরের শুরুটা হয় তার সেঞ্চুরি দিয়ে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করেন ১১৩ রান। এক ম্যাচ পর লঙ্কানদের বিপক্ষেই খেলেন ১৬৬ রানের অপরাজিত ইনিংস।
কোহলির সেরা সময়টা কাটে ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে। যেখানে নতুন ইতিহাস গড়েন ভারতের সাবেক অধিনায়ক। সেমি-ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে শতকসহ আসরে তিন সেঞ্চুরিতে ৯৫.৬২ গড়ে তিনি করেন ৭৬৫ রান। এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এক আসরে এটিই সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।
বিশ্বকাপের মাঝেই ওয়ানডে ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৫০ সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন কোহলি। ছাড়িয়ে যান তার পূর্বসূরি কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান সাচিন টেন্ডুলকারের ৪৯ সেঞ্চুরির কীর্তি। অর্জনে ভরা বছরের জন্য এবারের সেরার সম্মাননাও উঠল ৩৫ বছর বয়সী কোহলির হাতে।
চামারি আতাপাত্তু
ওয়ানডেতে গত বছরটা দুর্দান্ত কাটে মেয়েদের ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কান তারকা আতাপাত্তুর। এই সংস্করণে ৮ ম্যাচে দুই সেঞ্চুরিতে ৪১৫ রান করেন তিনি। ব্যাটিং গড় ৬৯.১৬ ও স্ট্রাইক রেট ১২৫.৩৭! বাঁহাতি স্পিনে একটি উইকেটও নেন।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ৪৭ রানের ইনিংস দিয়ে বছর শুরু করা আতাপাত্তু পরের ম্যাচে পান ফিফটির স্বাদ, করেন ৬৪ রান। ছন্দ ধরে রাখেন তিনি নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষেও; প্রথম ম্যাচেই খেলেন ১০৮ রানের অপরাজিত ইনিংস।
পরের ম্যাচে গোল্ডেন ডাকের তেতো স্বাদ পেলেও বাঁহাতি এই ব্যাটার ঘুরে দাঁড়াতে দেরি করেননি। গলে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে করেন ৮০ বলে অপরাজিত ১৪০ রান। গত বছর খেলা শেষ তিন ওয়ানডেতে অবশ্য সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি তিনি, তবে তা এই ক্রিকেটারকে বছরের সেরা হতে আটকাতে পারেনি।
