২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

শ্রেয়াসের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে উইন্ডিজকে উড়িয়ে সিরিজে এগিয়ে ভারত

খুনে ব্যাটিংয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন ভারত অধিনায়ক, বড় জয় পেল তার দল।

শ্রেয়াসের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে উইন্ডিজকে উড়িয়ে সিরিজে এগিয়ে ভারত

শ্রেয়াস আইয়ারের সেঞ্চুরি উদযাপন।ছবি: ইন্ডিয়ান ক্রিকেট টিম ফেইসবুক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Oct 2026, 10:53 PM

Updated : 07 Oct 2026, 12:27 AM

ভারতের জয়ের জন্য প্রয়োজন তখন ৭ রান, আর শ্রেয়াস আইয়ারের সেঞ্চুরির জন্য দরকার ৫। স্পিনার রস্টন চেইসের ঝুলিয়ে দেওয়া বলটিকে লং-অনের ওপর দিয়ে বিশাল ছক্কায় উড়িয়ে মাইলফলক স্পর্শ করলেন ভারত অধিনায়ক। পরের বলেই ম্যাচের সমাপ্তি।

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে পাত্তাই পেল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৮ উইকেটের জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল ভারত।

লখনৌতে মঙ্গলবার ক্যারিবিয়ানরা পাঁচ বল বাকি থাকতে অলআউট হয় ১৭১ রানে। সেই রান ভারত টপকে যায় ৩২ বল হাতে রেখেই।

১০ চার ও ছয় ছক্কায় ৪৩ বলে ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন শ্রেয়াস। ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরিতে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন তিনিই।

এই সংস্করণে সেঞ্চুরি করা ভারতের তৃতীয় অধিনায়ক শ্রেয়াস, তবে এর মধ্যে রান তাড়ায় তিনিই প্রথম। রান তাড়ায় আগের সর্বোচ্চ ছিল ভিরাট কোহলির অপরাজিত ৯৪, ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষেই ২০১৯ সালে।

ভারতের অধিনায়ক হিসেবে তিনটি সেঞ্চুরি আছে রোহিত শার্মার, একটি সুরিয়াকুমার ইয়াদাভের।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলেন দুজন। ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে অপরাজিত ১৬২ রানের ম্যাচ জয়ী ইনিংস খেলা অধিনায়ক শেই হোপ এবার টি-টোয়েন্টিতে করেন ৩৭ বলে ৫২।

পাঁচ নম্বরে নেমে ৩৪ বলে ৫৬ রান করেন শেরফেন রাদারফোর্ড। সফরকারীদের আর কেউ ১৫ ছাড়াতে পারেননি।

দারুণ বোলিং করেন ভারতের স্পিনাররা। তিন স্পিনার মিলে নেন ৭ উইকেট। অভিষেকে অফ স্পিনে ৩১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দলের সফলতম বোলার নামান ধীর।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ঝড়ো শুরুর ইঙ্গিত দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম চার ওভারে তারা করে বিনা উইকেটে ৩৬ রান। কিন্তু পরের দুই ওভারে হারায় ৩ উইকেট।

অভিষিক্ত কামিল পুরানকে ১২ রানে বিদায় করেন পেসার আর্শদিপ সিং। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে কোনো রান না দিয়ে রভম্যান পাওয়েলের উইকেট নেন বাঁহাতি স্পিনার আকসার প্যাটেল। এই ওভারেই রান আউটে ফেরেন শিমরন হেটমায়ার।

বিনা উইকেটে ৩৮ থেকে সফরকারীদের স্কোর হয়ে যায় ৩ উইকেটে ৪৪।

সেখান থেকে চতুর্থ উইকেটে ইনিংস সেরা ৬৩ রানের জুটিতে দলকে টানেন হোপ ও রাদারফোর্ড। কিন্তু হোপের বিদায়ে এই জুটি ভাঙার সঙ্গে আরও একবার ধস নামে তাদের ব্যাটিংয়ে।

একপর্যায়ে ৩ উইকেটে ১০৭ থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর হয়ে যায় ৮ উইকেটে ১৩৫!

চেইস, ম্যাথু ফোর্ডরা দাঁড়াতেই পারেননি। দলটি ১৭১ পর্যন্ত যেতে পারে মূলত রাদারফোর্ড ও আকিল হোসেনের ৩৬ রানের নবম উইকেট জুটির সৌজন্যে।

উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য খুব একটা সহজ ছিল না। নতুন বলে আকিল ও চেইস কিছুটা গ্রিপ ও টার্ন আদায় করে নেন; তারা প্রথম চার ওভারের মধ্যে ভারতের দুই ওপেনার সাঞ্জু স্যামসন ও আভিশেক শার্মাকে ফিরিয়ে লড়াই জমিয়ে তোলার ইঙ্গিত দেন।

কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাফল্য শেষ ওখানেই। ক্রিজে এসে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করেন শ্রেয়াস। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন ইশান কিষান। কিছুটা স্বভাববিরুদ্ধ ধীরস্থির ব্যাটিং করেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। অপর প্রান্তে তাণ্ডব চালান অধিনায়ক।

২৮ বলে পঞ্চাশে পা রাখেন শ্রেয়াস। পরের ১৪ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ফেলেন তিনি। পূর্ণ সদস্য দলগুলোর অধিনায়কদের মধ্যে শ্রেয়াসের (৪২) চেয়ে কম বলে সেঞ্চুরি আছে কেবল রোহিত শার্মা (৩৫) ও সিকান্দার রাজার (৩৩)।

শ্রেয়াসের সঙ্গে ৬৮ বলে অবিচ্ছিন্ন ১৩৭ রানের জুটিতে কিষানের অবদান ২৭ বলে ৩৭।

আগামী শুক্রবার দ্বিতীয় ম্যাচ হবে রাঁচিতে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৯.১ ওভারে ১৭১ (হোপ ৫২, পুরান ১২, হেটমায়ার ৫, পাওয়েল ০, রাদারফোর্ড ৫৬, চেইস ৫, শেফার্ড ৭, ফোর্ড ২, স্প্রিঙ্গার ৯, আকিল ১৫, শামার ০*; আর্শদিপ ৪-০-৩৪-১, মায়াঙ্ক ৪-০-৪০-১, আকসার ৩.১-১-২৬-২, কুলদিপ ৪-০-৩৩-২, নামান ৪-০-৩১-৩)

ভারত: ১৪.৪ ওভারে ১৭২/২ (স্যামসন ১১, আভিশেক ২১, কিষান ৩৭*, শ্রেয়াস ১০২*; ফোর্ড ২-০-৩৯-০, আকিল ৪-০-৩৭-১, চেইস ৩.৪-০-৩৭-১, শামার ২-০-২৩-০, শেফার্ড ২-০-২৪-০, স্প্রিঙ্গার ১-০-১২-০)

ফল: ভারত ৮ উইকেটে জয়ী

সিরিজ: ৫ ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে ভারত

ম্যান অব দা ম্যাচ: শ্রেয়াস আইয়ার