অপরাজিত ৪০০ রানে ভারতীয় ব্যাটসম্যানের ইতিহাস
রাঞ্জি ট্রফিতে ম্যারাথন ইনিংসটি খেলেন চিন্ময় সুতার।
রাঞ্জি ট্রফিতে অভিষেকে এক রানের জন্য সেঞ্চুরি না পাওয়া চিন্ময় সুতার এবার নাম লেখালেন ইতিহাসের পাতায়। প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় ম্যাচে উপহার দিলেন অপরাজিত ৪০০ রানের ইনিংস! এই সংস্করণে ‘কোয়াড্রপল সেঞ্চুরি’ করা ভারতের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান তিনি।
ভারতের প্রথম শ্রেণির ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্ট রাঞ্জিতে নাগাল্যান্ডের বিপক্ষে ঠিক ৪০০ রান করে অপরাজিত থাকেন সুতার। মিজোরামের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের ৫১৭ বলের ম্যারাথন ইনিংসটি সাজানো সাত ছক্কা ও ৪৬ চারে।
রাঞ্জি ট্রফিতে ৭৮ বছর পর দেখা গেল কোনো কোয়াড্রপল সেঞ্চুরি। ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে কাথিয়াওয়ারের বিপক্ষে মহারাষ্ট্রের হয়ে অপরাজিত ৪৪৩ রান করে রেকর্ডটি এখনও বিবি নিম্বালকারের।
সবমিলিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কোয়াড্রপল সেঞ্চুরি করা দশম ব্যাটসম্যান সুতার। এই সংস্করণে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসের বিশ্ব রেকর্ডটি ব্রায়ান লারার। ১৯৯৪ সালে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে ডারহামের বিপক্ষে অপরাজিত ৫০১ রানের ইনিংস খেলেন ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি।
এই তালিকায় আরও আছেন হানিফ মোহাম্মাদ, ডন ব্র্যাডম্যানের মতো কিংবদন্তিরা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে একাধিকবার চারশ ছোঁয়া ইনিংস খেলার কীর্তি আছে কেবল দুইজন, লারা ও অস্ট্রেলিয়া বিল পন্সফোর্ডের।
সোভিমায় সোমবার নামের পাশে ১৮০ রান নিয়ে ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেন সুতার। তার রান যখন ২৩১ তখন ক্রিজে আসেন মিজোরামের শেষ ব্যাটসম্যান লালরেমপুইয়া।
৩৯২ রানে অপরাজিত থেকে চা বিরতিতে যান সুতার। ১৫৫তম ওভারের প্রথম বলে ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান ৪০০ ছোঁয়ার পর ৯ উইকেটে ৫৮১ রানে ইনিংস ঘোষণা করে দেয় মিজোরাম।
দশম উইকেটে লালরেমপুইয়ার সঙ্গে ১৯০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন সুতার। রাঞ্জি ট্রফির ইতিহাসে দশম উইকেটে যা তৃতীয় সর্বোচ্চ। এই জুটির চেয়ে ৪৩ রান বেশি করে সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ডটি ধরে রেখেছেন আজায় শার্মা ও মানিন্দার সিং। ১৯৯১-৯২ মৌসুমে মুম্বাইয়ের বিপক্ষে দিল্লির হয়ে দশম উইকেটে ২৩৩ রানের জুটি গড়েন তারা। ওই জুটিতে আজায়ের অবদান ছিল ২৫৯ এবং মানিন্দারের ৭৮ রান।
স্থানীয় লিগগুলোতে ভালো পারফরম্যান্স করে এ বছরের শুরুতে ঘরোয়া লিস্ট ‘এ’ প্রতিযোগিতা ভিজায় হাজারে ট্রফিতে মুম্বাইয়ের হয়ে খেলেন সুতার। গত জুনে মুম্বাই টি-টোয়েন্টি লিগে এমএসসি মারাঠা রয়্যালসকে শিরোপা ধরে রাখতে সাহায্য করেন তিনি। টুর্নামেন্টের শেষ দিকে টানা দুই ম্যাচে ফিফটি করেন, ছয় ইনিংসে ২১২ রান করে শেষ করেন আসর।
২০২৬-২৭ মৌসুম শুরুর আগে মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (এমসিএ) কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র নিয়ে মিজোরামে যোগ দেন সুতার। গত সপ্তাহে মৌসুমের প্রথম ম্যাচে মনিপুরের বিপক্ষে রাঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক হয় তার। ম্যাচটির প্রথম ইনিংসে ৩৫ রান করেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৯ রানে আউট হয়ে যান ২৯ বছর বয়সি ক্রিকেটার।
