Published : 02 Apr 2026, 08:43 PM
ফিটনেস পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় আইপিএলে খেলার অনাপত্তিপত্র না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন শ্রীলঙ্কার পেসার নুয়ান থুশারা। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের (এসএলসি) বিরুদ্ধে কলম্বো জেলা আদালতে মামলা দায়ের করেছেন তিনি।
এবারের আইপিএল শুরুর আগের দিন গত ২৭ মার্চ ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো তাদের প্রতিবেদনে লিখেছিল, এসএলসির বাধ্যতামূলক ফিটনেস পরীক্ষায় উৎরাতে পারেননি থুশারা। ফলে আইপিএলের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যাঞ্জেলার্স বেঙ্গালুরু দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়নি তাকে।
ইএসপিএনক্রিকইনফো বৃহস্পতিবার লিখেছে, আইনি লড়াইয়ে থুশারা দাবি করেন, তার কেন্দ্রীয় চুক্তির মেয়াদ ৩১ মার্চ শেষ হওয়ার কথা ছিল এবং এরপর তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। অনাপত্তিপত্র না পাওয়াকে অযৌক্তিক এবং তার জীবিকার পথে বাধা মনে করছেন তিনি। থুশারার যুক্তিতে আইপিএল খেলতে না পারার কারণে আর্থিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় এসএলসি সভাপতি শাম্মি সিলভা, সচিব বান্দুলা দিসানায়েকে, কোষাধ্যক্ষ সুজিওয়া গোদালিয়াদ্দা ও প্রধান নির্বাহী অ্যাশলি ডি সিলভাকে বিবাদী করা হয়েছে। আগামী ৯ এপ্রিল শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। তবে একটি শুনানিতে মামলাটি নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। ফলে আইপিএলে আরও অন্তত দুই সপ্তাহ খেলতে পারবেন না থুশারা।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশের লিগে অংশগ্রহণের জন্য নিজ দেশের বোর্ডের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র নিতে হয়, কিন্তু এটি মঞ্জুর বা প্রত্যাখ্যান করার জন্য বোর্ডকে কোন নির্দিষ্ট মানদণ্ড ব্যবহার করতে হবে, সে সম্পর্কে কোনো উল্লেখ নেই। অনাপত্তিপত্র দেওয়ার শর্তগুলো প্রতিটি বোর্ডের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেয় আইসিসি। ফলে অনাপত্তিপত্র দেওয়ার জন্য নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নীতি অনুসরণ করে থাকে বোর্ডগুলো।
আইনি নথি দেখার দাবি করে ইএসপিএনক্রিকইনফো লিখেছে, এসএলসি গত ২৪ মার্চ থুশারাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিল যে, তাকে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হবে না। থুশারা দাবি করেছেন, সবশেষ প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আগে তিনি ১৫ ও ২৩ মার্চ মৌখিক ও লিখিতভাবে একাধিকবার অনাপত্তিপত্রের জন্য অনুরোধ করেছিলেন। যদিও ২৮ মার্চ তার পরবর্তী অনুরোধের বিষয়ে এসএলসি এখনও কোনো জবাব দেয়নি। তবে থুশারার দাবি, তাকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, অনাপত্তিপত্র দেওয়া হবে না।
এসএলসির যুক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তাদের নতুন বাধ্যতামূলক ফিটনেস শর্তাবলী। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বাজে পারফরম্যান্সের পর, সাবেক ফাস্ট বোলার প্রমোদ্য উইক্রামাসিংহের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি চালু করেছে এটি।
এসএলসির ফিটনেস টেস্টের পাঁচটি অংশ রয়েছে। এই পরীক্ষাগুলোর প্রতিটিতে একজন ক্রিকেটার সর্বোচ্চ ২৯ পয়েন্ট অর্জন করতে পারে। দলে জায়গা পাওয়ার জন্য বিবেচিত হতে খেলোয়াড়দের কমপক্ষে ১৭ পয়েন্ট পেতে হয়।
কদিন আগে এসএলসির প্রধান নির্বাহী অ্যাশলি ডি সিলভা জানান, ফিটনেস পরীক্ষায় পাস মার্ক ১৭ পাননি থুশারা।
থুশারার যুক্তি হলো, অতীতে অনাপত্তিপত্রের জন্য এই ধরনের ফিটনেসের শর্তগুলো পূর্বশর্ত ছিল না এবং তার বর্তমান ফিটনেস স্তর ক্যারিয়ার জুড়ে ধরে রাখা ফিটনেসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এর ভিত্তিতেই ২০২৪ ও ২০২৫ সালে তাকে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়েছিল।
সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার পেস বোলিং গ্রেট চামিন্দা ভাস এসএলসির সমালোচনা করে বলেছিলেন, বোর্ডের ফিটনেস নীতির এই আকস্মিক কঠোরতা ‘দুর্বল পরিকল্পনার’ ফল এবং এর জন্য ক্রিকেটারদের ভোগান্তি পোহানো উচিত নয়।
২০২৫ আইপিএলের নিলামে এক কোটি ৬০ লাখ রুপিতে থুশারাকে দলে নিয়েছিল বেঙ্গালুরু। এবারের আইপিএলের জন্য তাকে ধরে রাখে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।