Published : 10 Aug 2026, 02:08 PM
অস্ট্রেলিয়ান টেস্ট গ্রীষ্ম মানেই টইটম্বুর উত্তেজনা, বারুদের গন্ধ আর আগুনের আঁচ। পাশাপাশি উৎসবের আবহও। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট সংস্কৃতির মূল অংশই এসব। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে এবার সেই দৃশ্যপট দেখছেন না অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। এই ভেন্যুই যে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট আঙিনায় অনেকটা অচেনা! ডারউইনে অন্যরকম আবহ চোখে পড়ল অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তির।
বছরের এই সময়টায় সাধারণত দেশের মাঠে টেস্ট খেলে না অস্ট্রেলিয়া। সেখানকার ক্রীড়াঙ্গন এখনও মূলত ডুবে আছে তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবলে, যেটিকে তারা বলে থাকেন ফুটি। প্রায় দেড়শ বছরের টেস্ট ইতিহাসে প্রথমবার অগাস্ট মাসে ঘরের মাঠে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে তারা।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটি মূলত সূচিতে ছিল আগামী বছরের মার্চে। সেক্ষেত্রে মূল ভেন্যুগুলোতেই হয়তো খেলার সুযোগ মিলত। তবে টেস্ট ক্রিকেটের দেড়শ বছর পূর্তি উপলক্ষে মার্চে মেলবোর্নে বিশেষ এক টেস্ট খেলবে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ তাই এগিয়ে আনা হয়েছে সাত মাস।
মূল ভেন্যুগুলো এখন মূলত ব্যস্ত ফুটিতে। আবহাওয়াও পুরোপুরি ক্রিকেট উপযোগী নয়। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ভরসা তাই নর্দান টেরিটরির ডারউইন। অস্ট্রেলিয়ার ক্রান্তীয় অঞ্চল এটি, অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এটি এখন অনেক উষ্ণ।
তবে টেস্ট ক্রিকেট তো দূরের কথা, ডারউইনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটই হয় কদাচিৎ। স্রেফ দুটি টেস্ট ম্যাচ হয়েছে এখানে। প্রথমটি ২০০৩ সালের জুলাইয়ে খেলেছিল বাংলাদেশই, পরের বছরের জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কা।
অস্ট্রেলিয়ার প্রথাগত টেস্ট সংস্কৃতির অংশ নয় বলে এখানকার চিত্রও আলাদা, ফক্সস্পোর্টসকে বললেন গিলক্রিস্ট। এমনকি অস্ট্রেলিয়া দলের জন্যও এটি আলাদা।
“ঐতিহ্যবাহী গ্রীষ্মকালীন টেস্ট ম্যাচগুলোর মতো এখানে তেমন ফোকাস আর জাঁকজমক নেই। এখানে পরিবেশটা কিছুটা বেশি স্বচ্ছন্দ। এটা বেশ সতেজ। আমার যতদূর মনে পড়ে, এটা নতুন ও ভিন্ন।
কিন্তু টেস্ট ম্যাচের জন্য ব্যাপারটি হলো, পারিপার্শ্বিক দৃশ্যপটে একটি পরিবর্তন এবং অন্যান্য ভেন্যুর সঙ্গে যে অভ্যস্ততা থাকে, তা থেকে এটি আলাদা। আমার মনে হয়, এই সতেজতার আবহ দলের ভেতর সত্যিই উত্তেজনাপূর্ণ অনুভূতি বয়ে আনতে পারে।”
‘যতদূর মনে পড়ে’ বলে হয়তো গিলক্রিস্ট ফিরে গেলেন ২৩ বছর আগের সেই টেস্ট ম্যাচে। ২০০৩ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটিতে খেলেছিলেন তিনি। সেবার সিরিজের প্রথম টেস্ট ছিল ডারউইনে, পরেরটি কেয়ার্নসে। সেই সিরিজের স্মৃতি কিছুটা মনে করলেন কিংবদন্তি এই কিপার-ব্যাটার।
“বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইনের টেস্ট ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলাম, কেয়ার্নসে ব্যাটিংয়ে যাওয়া হয়নি। ছেলেরা সেখানে বেশ ভালো ব্যাট করেছিল।”
সেবার ডারউইনে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৯৭ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর, অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ঘোষণা করে ৭ উইকেটে ৪০৭ রানে। সেঞ্চুরি করেন ড্যারেন লিমান ও অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ, সাতে নেমে স্বভাবজাত ব্যাটিংয়ে ৪৭ বলে ৪৩ গিলক্রিস্ট।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ শেষ হয় ১৭৮ রানে। ইনিংস ও ১৩২ রানে জেতে অস্ট্রেলিয়া।
পরের টেস্টে কেয়ার্নসে প্রথম দিনে বাংলাদেশের রান এক পর্যায়ে ছিল ১ উইকেটে ১৫৫। পরে ইনিংস শেষ হয় ২৯৫ রানে। এবার অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানরা প্রবলভাবে ভোগায় বাংলাদেশি বোলারদের। আরেকটি সেঞ্চুরিতে লিমান করেন ১৭৭, ওয়াহ এবার অপরাজিত থাকেন ১৫৬ রানে, সেঞ্চুরি করেন মার্টিন লাভও।
লাভের শতরানের পরই ৪ উইকেটে ৫৫৬ রানে ইনিংস ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া। সাত নম্বরে নামার অপেক্ষায় থাকা গিলক্রিস্ট সুযোগ পাননি ব্যাটিংয়ের। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশকে ১৬৩ রানে মুড়িয়ে ওয়াহর দল জিতে যায় ইনিংস ও ৯৮ রানে।
এবারও প্রথম টেস্ট ডারউইনে হলেও, পরেরটি ম্যাকাইতে।