Published : 30 Aug 2026, 10:22 AM
দুই দলের রান তখন সমান। কিন্তু শেষ ওভারের প্রথম বলটিতেই রান আউট টড মার্ফি। জয়ের জন্য তখন ভিক্টোরিয়া একাডেমির রান লাগে একটি, উইকেটও বাকি একটি। ম্যাচ সুপার ওভারে নেওয়ার সম্ভাবনায় উজ্জীবিত বাংলাদেশ এইচপি দল। বোলার শামীম হোসেন রান দিলেন না পরের দুই বলেও। তবে চতুর্থ বলটিতে জায়গা বানিয়ে কাভার দিয়ে চার মেরে দিলেন লিয়াম ব্ল্যাকফোর্ড। নাটকীয়ভাবে জিতে ফাইনালে পৌঁছে গেল অস্ট্রেলিয়ার দলটি।
অস্ট্রেলিয়ার টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে ছোট রানে সেমি-ফাইনালে বড় রোমাঞ্চ উপহার দিয়ে ১ উইকেটের জয়ে ফাইনালে উঠল ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন একাডেমি। প্রাথমিক পর্বে দাপট দেখিয়ে ছয় ম্যাচের পাঁচটিতে জয়ী বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দল বিদায় নিল শেষ চার থেকেই।
ডারউইনে বাংলাদেশ এইচপি পরাজয়ের পথে এগিয়ে যায় মূলত ব্যাটিং ব্যর্থতার। উড়ন্ত সূচনার পরও পথ হারায় তারা। ১ উইকেটে ৪৯ রানে থাকা দল ২১ রানের মধ্যে হারিয়ে ফেলে আরও ছয় উইকেট। শেষ পর্যন্ত তারা গুটিয়ে যায় ১০১ রানে।
সেই পুঁজি নিয়েও দুর্দান্ত লড়াই করেন বোলার-ফিল্ডাররা। আবার জাদুকরি বোলিং উপহার দেন মোহাম্মদ রুবেল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুই বল বাকি রেখে জিতে যায় ভিক্টোরিয়া একাডেমি।
ব্যাটিংয়ের সময় পায়ে ক্র্যাম্প করায় পরে বোলিং করতে পারেননি পেসার আব্দুল গাফফার সাকলাইন। তিনি বোলিং করতে পারলে অন্যরকম কিছু হতেও পারত।
আসরজুড়ে চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সে নজরকাড়া রুবেল সেমি-ফাইনালে ১৫ রানে শিকার করেন ৩ উইকেট। অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের আসরে ৭ ম্যাচে এই রহস্য স্পিনারের শিকার ২৩ উইকেট, ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন ৫.৮২। টুর্নামেন্টে ১৩ উইকেটের বেশি নেই আর কোনো বোলারের।
ছোট পুঁজি নিয়ে দলকে লড়াইয়ের বিশ্বাস গড়ে দেন রুবেলই। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই তিনি বোল্ড করে দেন হ্যা ডিক্সনকে। পিচ করে আরও ভেতরে ঢোকা বলে কিছুই বুঝতে পারেননি বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
দ্বিতীয় উইকেটে টম রজার্স ও ক্যাম্পবেল কেলাওয়ে সাবধানী ব্যাটিংয়ে একটু জুটি গড়ে তোলেন। তবে পাওয়ার প্লে শেষে আক্রমণে এসে জুটি ভাঙেন শামীম। স্লগ করে উইকেট হারান রজার্স।
ছোট ছোট জুটিতে তবু এগিয়ে যায় ভিক্টোরিয়া একাডেমি। বাংলাদেশও চেষ্টা করে লড়াইয়ে টিকে থাকার। ইনিংসের সর্বোচ্চ ২৩ রান করা কেলাওয়েকে ফেরান শামীম। ২০ রানের জুটির পর আবু হায়দার বিদায় করেন ব্লেক ম্যাকডোনাল্ডকে। যদিও উইকেটটি লেখা উচিত রুবেলের নামের পাশে।
ছক্কা হয়ে যাবে বলেই মনে হচ্ছিল শটটি। কিন্তু সীমানায় অনেকটা লাফিয়ে বল মুঠোয় জমাম রুবেল। এরপর মাটিতে পা রেখে ভারসাম্য রক্ষা করেন অসাধারণ দক্ষতায়।
তার পরও বেশ ভালোভাবেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছিল ভিক্টোরিয়া। জয়ের জন্য যখন ২১ রান দরকার, তখনও উইকেট বাকি ৬টি। কিন্তু চিত্র বদলে দেন রুবেল। টানা দুই বলে তিনি বিদায় করেন উইল সাদাল্যান্ড ও স্যাম এলিয়টকে।
এরপর ভিক্টোরিয়াকে চেপে ধরেন রিপন মন্ডল ও রকিবুল হাসান। উইকেটও পড়তে থাকে একটির পর একটি। এর মধ্যে জোরাল অনেক আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। কখনও একটুর জন্য ব্যাটের কানা স্পর্শ করেনি বল। কখনও ব্যাটের কানায় লেগে আসে বাউন্ডারি বা সিঙ্গল। লড়াই চলে শেষ পর্যন্ত। কিন্তু ওই পুঁজি নিয়ে শেল রক্ষা আর হয়নি। একপ্রান্ত আগলে দলকে জিতিয়ে দেন ব্ল্যাকফোর্ড।
ম্যাচের শেষের মতো শুরুটাও ছিল বেশ নাটকীয়। প্রথম বলেই স্লগ করে থার্ডম্যানে সহজ ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান হাবিবুর রহমান সোহান। তার সঙ্গী জিসান আলম দারুণ এক ফ্লিক শটে ছক্কা মারেন ওই ওভারেই। প্রথম ওভার থেকে আসে ১৩ রান।
শুরুতে বেঁচে গেলেও খুব বেশি সময় টিকতে পারেননি সোহান। তৃতীয় ওভারে সাদারল্যান্ডের লেংথ বলে পুল করার চেষ্টায় কিপারের হাতে ধরা পড়েন তিনি ৫ বলে ৩ রান করে।
স্বীকৃত ক্রিকেটে বাংলাদেশের দ্রুততম ফিফটি ও সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যানের জন্য এই টুর্নামেন্ট কাটল ব্যর্থতায়। ৭ ইনিংসে তার রান ৮৫, স্ট্রাইক রেট ১১১.৮৪।
নতুন ব্যাটসম্যান আরিফুল ইসলাম প্রথম বলেই একটু জায়গা বানিয়ে দৃষ্টিনন্দন শটে ছক্কা মারেন এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে। পরের ওভারে তিনি চার মারেন তিনটি।
৪ ওভারে ৪৬ তুলে ফেলে বাংলাদেশ এইচপি।
উল্টো যাত্রার শুরু পরের ওভার থেকে। নিস্তরঙ্গ পাঁচটি ডেলিভারির পর শেষ বলে হাঁটুগেড়ে ফ্লিক-পুলের মিশেলে নিজের প্রিয় শটটি খেলেন আরিফুল। কিন্তু ধরা পড়েন সীমানায় (১০ বলে ১৯)।
পরের ওভারেই জোড়া ধাক্কা। অনেকটা সোহানের মতো করেই আউট হন জিসান (২০ বলে ৩০)। পরের বলেই স্টাম্পের বাইরে খোঁচা মেরে কিপারের হাতে ধরা পড়েন ইরফান শুক্কুর। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে অবশ্য বেশ নাখোস দেখা যায় বাংলাদেশ এইচপি অধিনায়ককে।
উইকেট পতনের সেই ধারা পরেও চলতে থাকে। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট স্পিনার টড মার্ফির অফ স্টাম্পের বাইরের বল লেগ সাইডে স্লগ করে আউট সাব্বির রহমান (৮ বলে ৫)। বেশ বাইরের বল তাড়া করে আউট শামীম হোসেন (৭ বলে ৮)। ফ্লিক করে সীমানায় ক্যাচ দেন রকিবুল হাসান (০)।
দুই পেস বোলিং অলরাউন্ডার আবু হায়দার (১৮ বলে ১০) ও সাকলাইন (১০ বলে ৬)। শেষ দিকে রিপন মণ্ডল ও রুবেলের দুটি বাউন্ডারিতে কোনোরকমে একশ পার হয় দল।
ওই পুঁজি নিয়ে লড়াই হলো, ম্যাচ জেতা হলো না।
বাংলাদেশ এইচপি: ২০ ওভারে ১৪৩/৯ (সোহান ৩, জিসান ৩০, আরিফুল ১৯ সাব্বির ৫, ইরফান ০, শামীম ৮, রকিবুল ০, সাকলাইন ১০, আবু হায়দার ১২, রিপন ৬, রুবেল ৪*; হোকস্ট্রা ২-০-১৪-২, এলিয়ট ৩.১-০-১৪-২, সাদারল্যান্ড ৪-০-১৭-৪, সাইমন্স ২-০-১৭-০, মার্ফি ৩-০-১৪-২, স্টো ৩-০-১৩-০)।
ভিক্টোরিয়া একাডেমি: ১৯.৫ ওভারে ১০৫/৯ (রজার্স ১৮, ডিকসন ০, কেলাওয়ে ২৩, ম্যাকডোনাল্ড ১৫, সাদারল্যান্ড ১৬, ব্ল্যাকফোর্ড ১৯*, এলিয়ট ০, সাইমন্স ৬, হোকস্ট্রা ১, মার্ফি ১, স্টো ; রুবেল ৪-০-১৫-৩, আবু হায়দার ৪-০-৩০-১, রিপন ৪-২-১৬-১, শামীম ৩.৪-০-১৮-২, রকিবুল ৪-০-২৪-১)।
ফল: ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন একাডেমি ১ উইকেটে জয়ী।