সমালোচনার মুখেও ইংলিশদের দায়িত্বে থাকতে চান ম্যাককালাম
ইংল্যান্ডকে সামনে এগিয়ে নিতে নিজেকেই উপযুক্ত মনে করছেন নিউ জিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক।
অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ হারার পর ইংল্যান্ড দলে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু হয়ে গেছে নানা জল্পনা-কল্পনা। তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার আওয়াজও উঠছে। তবে ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে কাজ করে যেতে চান নিউ জিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক।
এবারের অ্যাশেজ শুরুর আগে অনেক স্বপ্ন বুনেছিল ইংল্যান্ড। প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। এটাকে ‘জীবনের সেরা সিরিজ’ বলেছিলেন ম্যাককালাম নিজেও। কিন্তু মাঠের লড়াই শুরুর পর ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে তাদের আশা। ১১ দিনেই প্রথম তিন টেস্টে হেরে গেছে দলটি।
চলমান এই ব্যর্থতায় ইংল্যান্ডের খেলার ধরন নিয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। ম্যাককালামকে বরখাস্ত করার কথাও বলছেন অনেকে। তবে এসব নিয়ে না ভাবার কথা আগেও বলেছেন ইংলিশ কোচ। অ্যাডিলেইডে হারার পর বললেন আরও একবার।
“এখানে আমার কাজটা দারুণ। বেশ আনন্দের। এই ছেলেদের নিয়ে সারা বিশ্বে ঘোরা, কিছু রোমাঞ্চকর ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করা এবং কিছু অর্জনের চেষ্টা করা… আমি চাকরি বাঁচানোর জন্য কিছু করি না। আমার কাজ হলো, ছেলেদের থেকে সেরাটা বের করে আনার চেষ্টা করা এবং তাদেরকে নিয়ে কিছু অর্জন করা।”
২০২৭ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে ম্যাককালামের। দায়িত্ব চালিয়ে যেতে চাইলেও, সেটা যে নিজের হাতে নেই ভালো করেই জানেন তিনি। আগামী গ্রীষ্মে তাকে এই দলের কোচ হিসেবে দেখা যাবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ম্যাককালাম বলেন, “আমি জানি না।”
“এটা আমার হাতে নেই, তাই নয় কি? আমি শুধু নিজের কাজ (ঠিকঠাক) করার চেষ্টা চালিয়ে যাবো…এই প্রশ্নগুলো অন্য কারো জন্য, আমার জন্য নয়।”
নিউ জিল্যান্ডের সাবেক ব্যাটসম্যান ম্যাককালাম ২০২২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর এবং অধিনায়ক বেন স্টোকসের হাত ধরে আগ্রাসী ঘরানার টেস্ট খেলা শুরু করে ইংল্যান্ড। ম্যাককালামের ডাক নাম ‘বাজ’ অবলম্বনে এটি নাম পেয়ে যায় ‘বাজবল।’
এই কৌশলে শুরুতে ভালোই করছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু পরে মুদ্রার উল্টো পিঠও দেখতে শুরু করে তারা। ২০২৪ সাল থেকে টেস্টে জয়ের (১২টি) থেকে বেশি ম্যাচ হেরেছে (১৩টি) ইংলিশরা। সব মিলিয়ে, ম্যাককালাম ও স্টোকসের সময়ে ৪৪ ম্যাচ খেলে তাদের জয় ২৫ টেস্টে, হার ১৭টিতে।
অ্যাশেজের আগে ইংলিশদের এই কৌশল নিয়েও হয় তুমুল আলোচনা। সেটা এখন রূপ নিয়েছে প্রবল সমালোচনায়। এই কৌশল বাদ দেওয়ার কথা বলছেন অনেকেই। তবে ম্যাককালাম আগেই বলেছেন, নিজেদের খেলার ধরন পরিবর্তন না করার কথা। এবার তিনি শোনালেন, তার সময়ে ইংল্যান্ড দলের উন্নতি কথা।
“অন্যান্য সিদ্ধান্তগুলো অন্যদের উপর নির্ভর করে। তবে আমার দৃষ্টিকোণ থেকে, আমি এই ছেলেদের সঙ্গে সময় উপভোগ করছি। আমার মনে হয়, যখন আমি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি, সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত আমরা কিছুটা উন্নতি করেছি। আমরা এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নই, তবে আমার মনে হয়, ক্রিকেট দল হিসেবে নিঃসন্দেহে উন্নতি করেছি। আমাদের একটি পরিচয় তৈরি হয়েছে। এখন শেষ দুটি টেস্টে সেই পরিচয় ঠিকঠাক দেখানোর এবং সেখান থেকে কিছু পাওয়ার সময়।”
অ্যাশেজ পুনরুদ্ধারের আশা শেষ হয়ে গেলেও একটি অপেক্ষার অবসান করার সুযোগ এখনও রয়েছে ইংল্যান্ডের। ২০১০-১১ মৌসুমের পর অস্ট্রেলিয়ায় কোনো টেস্ট জিততে পারেনি তারা। চলতি সিরিজে এখনও দুই ম্যাচ বাকি। তাই এখানে ১৮ টেস্টে জয়হীন যাত্রা শেষের সুযোগ তাদের সামনে।
মেলবোর্নে আগামী শুক্রবার শুরু বক্সিং ডে টেস্ট। সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচ শুরু ৪ জানুয়ারি, সিডনিতে।
