শেষ বলে ছক্কায় সুপারচার্জার্সের নায়ক বিপিএল মাতানো সেই ক্লার্ক
গত বিপিএলে চিটাগং কিংসের হয়ে নজরকাড়া গ্রাহাম ক্লার্ক এবার শেষ বলে ছক্কায় নর্দান সুপারচার্জার্সকে জেতালেন ইংল্যান্ডের ‘দা হান্ড্রেড’ টুর্নামেন্টে।
তিন বলে প্রয়োজন ছিল পাঁচ রানের। কিন্তু টানা দুই বলে রান নিতে পারলেন না গ্রাহাম ক্লার্ক। ম্যাচ জিততে তখন শেষ বলে ছক্কা ছাড়া আর উপায় নেই। বাঁহাতি পেসার টাইমাল মিলস রাউন্ড দা উইকেটে স্লোয়ার ডেলিভারি করলেন অফ স্টাম্পের বাইরে। স্লোয়ারটি ধরতে পেরে দারুণ টাইমিংয়ে লং অন দিয়ে উড়িয়ে দিলেন ক্লার্ক।
শট খেলেই ক্লার্ক বড় বড় করে তাকিয়ে রইলেন বলের দিকে। কোটর থেকে যেন বেরিয়ে আসছিল তার চোখ। বল সীমানা ছাড়াতেই ছুড়লেন তিনি হুঙ্কার। তাকে গিয়ে জড়িয়ে ধরলেন ক্রিজে সঙ্গী আদিল রাশিদ। বোলার মিলস অবশ্য বুঝে গিয়েছিলেন আগেই। তার দুহাত মাথায় উঠে গিয়েছিল ক্লার্ক শটটি খেলার পরই। পরে হতাশায় পিচেই শুয়ে পড়লেন মিলস। ক্লার্ক তখন মেতে উঠেছেন খ্যাপাটে উদযাপনে।
রোমাঞ্চকর ম্যাচে শেষ বলে ছক্কায় নর্দান সুপারচার্জার্সকে জিতিয়ে দেন ক্লার্ক। ইংল্যান্ডের ‘দা হান্ড্রেড’ টুর্নামেন্টে সাউদার্ন ব্রেভকে বুধবার হারায় তারা ৩ উইকেটে।
ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেটসহ ঘরোয়া ক্রিকেটের শীর্ষ পর্যায়ে ক্লার্ক খেলছেন ১০ বছর ধরেই। তবে বিশ্বক্রিকেটে তেমন পরিচিত কেউ তিনি নন। ৩২ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান বাংলাদেশের ক্রিকেটে বিশেষ পরিচিতি পান গত বিপিএল দিয়ে। চিটাগং কিংসের হয়ে ১৪ ম্যাচে ৪৩১ রান করে আসরের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান স্কোরার ছিলেন তিনি। করেছিলেন একটি সেঞ্চুরিও।
সাউথ্যাম্পটনে এই ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে সেমে দ্রুত তিন উইকেট হারানো সাউদার্ন ব্রেভ শেষ পর্যন্ত ১০০ বলে করতে পারে ১৩৯ রান। বিপিএল খেলে যাওয়া আরেক ক্রিকেটার লরি ইভান্স করেন ৩৪ বলে ৫৩, জেমস কোলস অপরাজিত থাকেন ৩৬ বলে ৩৯ করে। শেষ দিকে মাইকেল ব্রেসওয়েল করেন ১১ বলে ১৫।
সুপারচার্জার্সের নিউ জিল্যান্ডের পেসার জ্যাকব ডাফি নেন তিন উইকেট, তার স্বদেশি মিচেল স্যান্টনার দুটি।
ওই পুঁজি নিয়েই বেশ লড়াই করে সাউদার্ন ব্রেভ। সুপারচার্জার্স শুরুতেই হারায় অভিজ্ঞ দাভিদ মালানকে। পরে জ্যাক ক্রলি আউট হন ১৮ বলে ২৯ রান করে, হ্যারি ব্রুক করেন ১৬ বলে ২৪। মিচেল স্যান্টনার ফিরে যান ১৬ বলে ২৪ করে।
ক্লার্ক ও স্যান্টনারের দারুণ জুটিতে সহজ জয়ের পথেই ছিল সুপারচার্জার্স। শেষ ১০ বলে প্রয়োজন ছিল স্রেফ ১১ রানের। উইকেট বাকি তখনও পাঁচটি।
কিন্তু সাউদার্ন ব্রেভকে ম্যাচে ফেরান জফ্রা আর্চার। স্যান্টনারকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙার পর নতুন ব্যাটসম্যান টম লজকেও বিদায় করেন তিনি। পাঁচ বলে রান দেন মোটে একটি!
শেষ পাঁচ বলে তাই প্রয়োজন পড়ে ১০ রানের। মিলসের প্রথম বলে সিঙ্গল নেন আদিল রাশিদ। পরেরটি শাফল করে সুইপের মতো খেলে চার মারেন ক্লার্ক। এরপর আবার সুইপের চেষ্টায় তিনি ব্যাটে-বলে করতে পারেননি।
চতুর্থ বলটি ছিল বাইরে, ওয়াইড ভেবে ছেড়ে দেন ক্লার্ক। কিন্তু ওয়াইড হয়নি। তখন তিনি খলনায়ক হয়ে ওঠার দুয়ারে। কিন্তু শেষ বলে ছক্কার বীরত্বে হয়ে ওঠেন নায়ক। ২৪ বলে অপরাজিত ৩৮ রানের ইনিংসে ‘ম্যাচ হিরো’ (ম্যান অব দা ম্যাচ) পুরস্কার জিতে নেন তিনিই।
অথচ ডেভিড মিলার ফিট থাকলে হয়তো এই ম্যাচে সুযোগই পেতেন না ক্লার্ক!
