ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণে ২০০৫ অ্যাশেজ জয়ী দলের ছায়া দেখছেন ট্রেসকোথিক
বর্তমান সময়ের আর্চার-টাংদের সঙ্গে হার্মিসন-ফ্লিন্টফদের তুলনা ‘যৌক্তিক’ মনে করেন মার্কাস ট্রেসকোথিক।
জফ্রা আর্চার, জশ টাং, গাস অ্যাটকিনসন ও অলি রবিনসনকে নিয়ে গড়া ইংল্যান্ডের বর্তমান পেস আক্রমণে ২০০৫ সালের অ্যাশেজজয়ী পেস চতুষ্টয়ের ছায়া দেখছেন মার্কাস ট্রেসকোথিক। স্টিভেন হার্মিসন, অ্যান্ড্রু ফ্লিন্টফদের সঙ্গে আর্চার-টাংদের তুলনাকে যৌক্তিক মনে করছেন দলটির অন্তর্বর্তীকালীন কোচ।
অধিনায়ক ও পেস বোলিং অলরাউন্ডার বেন স্টোকসের অবসরের পর, পাকিস্তানের বিপক্ষে সবশেষ দুই টেস্টে বিশেষজ্ঞ চার পেসার নিয়ে খেলেছে ইংল্যান্ড। আর্চার, রবিনসন, অ্যাটকিনসন ও টাংয়ের দারুণ বোলিংয়ে দুই ম্যাচই জিতে সিরিজ জয়ও নিশ্চিত করে ফেলেছে স্বাগতিকরা।
বর্তমান দলের চার পেসারের স্কিলের বৈচিত্র্যের সঙ্গে ২১ বছর আগের পেস গ্রেটদের মিল দেখেন ট্রেসকোথিক। ইংল্যান্ডের ওই দলের পেস আক্রমণে হার্মিসন, ফ্লিন্টফের সঙ্গে ছিলেন ম্যাথু হগার্ড, সাইমন জোন্স। ২০০৫ সালে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের ২-১ ব্যবধানে অ্যাশেজ জয়ের পথে তারা রেখেছিলেন বড় ভূমিকা।
দুই দশক আগে অ্যাশেজজয়ী ইংল্যান্ডের ওই দলের সদস্য ছিলেন ট্রেসকোথিক। টেস্ট দলের নতুন কোচ স্টিভেন ফ্লেমিংয়ের অনুপস্থিতিতে এখন ইংলিশদের কোচের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তার কোচিংয়ে ২০২৪ সালের পর টেস্ট সিরিজ জিতল দলটি।
পাকিস্তানের বিপক্ষে হেডিংলি ও লর্ডসে দলের জয়ে বড় অবদান রাখা পেস আক্রমণকে প্রশংসা করেছেন ট্রেসকোথিক।
“আমাদের দলে সত্যিই অসাধারণ প্রতিভা রয়েছে। যদি ২০০৫ সালের দিকে তাকান এবং হার্মি, ফ্রেড, সাইমন ও হগার্ডের সঙ্গে বর্তমান পেসারদের যে ধরনের তুলনা করা যায়, সেটা খুব সহজেই করতে পারবেন।
“এই মুহূর্তে আমাদের চারজন পেসার ম্যাচ খেলার মতো পুরোপুরি প্রস্তুত- এটা আমি উপভোগ করছি। এর বাইরে আরও কয়েকজন বোলার আছে, যাদের আমরা প্রস্তুত করে তুলছি।”
স্টোকস ও সাবেক প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সময়ে ইংল্যান্ড গতিময় বোলারদের ওপর জোর দিত। সেখানে দুই বছরের বেশি সময় পর টেস্ট ক্রিকেটে রবিনসনের প্রত্যাবর্তন দলটির পেস আক্রমণকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করেছে বলে মনে করছেন সাবেক ওপেনার ট্রেসকোথিক।
“বর্তমানে আমরা যা করার চেষ্টা করছি তাতে দারুণ বৈচিত্র্য রয়েছে। আমাদের তিনজন বোলার ঘণ্টায় ৯২ মাইল গতিতে বল করতে পারে। আমরা যা করতে চাইছি, সে জন্য অস্ত্রভাণ্ডারে এমন বোলার থাকা এবং আক্রমণে এমন শক্তি থাকা সত্যিই দারুণ।
“তারা যত বেশি একসঙ্গে খেলবে এবং অভিজ্ঞ হয়ে উঠবে, দল ঠিক যেভাবে তাদের চায় সেভাবেই বিষয়গুলো মানিয়ে নিতে পারবে।
২০০৫ সালের অ্যাশেজজয়ী ইংল্যান্ডের ওই দলের অধিনায়ক ছিলেন মাইকেল ভন। ‘দা টেলিগ্রাফে’ সোমবার এক কলামে তিনি লেখেন, বর্তমান পেস আক্রমণকে তার সময়ের বোলারদের সঙ্গে তুলনা করা যাবে, যদি তারা বড় কোনো সিরিজ জেতে।
“এটা নিশ্চিত যে, তাদের দারুণ বিশেষ কিছু করার সামর্থ্য আছে এবং আগামী গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডের হয়ে অ্যাশেজ পুনরুদ্ধার করতে পারে।”
আগামী বুধবার এজবাস্টনে শুরু ইংল্যান্ড-পাকিস্তানের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট।
