Published : 07 Nov 2025, 10:34 PM
ক্রিকেটার জাহানারা আলমের অভিযোগের ব্যাপারে মুখ খুলেছেন মঞ্জুরুল ইসলাম। জাতীয় নারী দলের এই সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার বলেছেন, বিসিবির তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতে তিনি প্রস্তুত। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে সেখানেও নিজের কথা বলতে চান জাতীয় দলের সাবেক এই পেসার।
জাহানারা কিছু গুরুতর অভিযোগ করেন ফ্রিল্যান্স ক্রীড়া সাংবাদিক রিয়াসাদ আজিমের ইউটিউব চ্যানেলে একটি সাক্ষাৎকারে। নিউ জিল্যান্ডে ২০২২ বিশ্বকাপ চলার সময় নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল তাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়াও মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে নানা সময়ে যৌন হেনস্তা, মানসিক নির্যাতন ও প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বাজে আচরণ করার অভিযোগও তোলেন এই পেসার। একইরকম অভিযোগ করেছেন তিনি নারী ক্রিকেটের সাবেক ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধে, একসময় যিনি ছিলেন সাবেক বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের ব্যক্তিগত সহকারী। কথা বলার এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন জাহানারা।
সামাজিক মাধ্যমে শুক্রবার মঞ্জুরুল অভিযোগের ব্যাপারে এক পোস্টে লেখেন, তদন্ত কমিটিতে নিজের অবস্থান জানাবেন তিনি।
“বৃহস্পতিবার একটি ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাতীয় নারী দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম আমার বিরুদ্ধে কিছু গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। এরপর থেকে দেশ-বিদেশের সাংবাদিক ভাই-বোনেরা থেকে শুরু করে শুভাকাঙ্ক্ষী সবাই আমার বক্তব্য জানার চেষ্টা করছেন, যোগাযোগ করছেন। এই বিষয়ে আমার নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।”
“অভিযোগের পর বিসিবি জানিয়েছে, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সেই কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। বিসিবি ছাড়াও রাষ্ট্রীয়ভাবে যদি কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, আমি সেগুলো ফেস করব এবং আমার বক্তব্য তুলে ধরব।”
“এর আগে আমি এ বিষয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকছি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রকৃত সত্য সবার সামনে আসবে আশা করছি। সে সময় পর্যন্ত অনুমানবশত কোনো তথ্য প্রকাশ না করার জন্য সবার কাছে বিনীত অনুরোধ করছি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পর আমি সবার সঙ্গে কথা বলব।”
মঞ্জুরুল ও তৌহিদ ছাড়াও টিম ম্যানেজমেন্ট এবং বোর্ডের আরও কজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন জাহানারা। এসব নিয়ে নারী বিভাগের সেই সময়ের চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম চৌধুরিকে কয়েক দফায় জানালেও তিনি উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিয়ে সাময়িক সমাধান করেছেন বলে অভিযোগ জাহানারার। পাশাপাশি বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরীকে বিস্তারিত লিখিত জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান এই ক্রিকেটার।
জাহানারা দাবি করেন, আরও অনেক ক্রিকেটার নানাভাবে এসবের শিকার হলেও বিভিন্ন শঙ্কায় মুখ খোলেন না। প্রথম বিভাগের একজন ক্রিকেটারের যৌন হেনস্তার শিকার হওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
এই সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হওয়ার পর তোলপাড় পড়ে যায় দেশের ক্রিকেট আঙিনায় ও সামাজিক মাধ্যমে। পরে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বিবৃতি দিয়ে বিসিবি জানায়, ‘স্পর্শকাতর’ এই অভিযোগগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে যারা তাদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ জানাবে।
সব ক্রিকেটার ও সংশ্লিষ্ট সবার জন্য নিরাপদ, সম্মানজনক ও পেশাদার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিসিবি নিবেদিত বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। এই ধরনের ব্যাপারগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া ও তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানায় বোর্ড।
বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের শুরুর সময়ের সেনানীদের একজন জাহানারা। দীর্ঘদিন দেশের পেস আক্রমণ বলতে গেলে একাই টেনেছেন তিনি। দেশের হয়ে খেলেছেন তিনি ৫২ ওয়ানডে ও ৮৩ টি-টোয়েন্টি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের সফলতম পেসার তিনিই। নেতৃত্বও দিয়েছেন জাতীয় দলকে। বিদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলা বাংলাদেশের একমাত্র নারী ক্রিকেটার তিনিই।
৩২ বছর বয়সী পেসারকে সবশেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখা গেছে গত ডিসেম্বরে। এখন তিনি থিতু হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায়। সিডনিতে ক্লাব ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি কোচিং কোর্স করছেন।