১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বয়স ৩৯ পেরিয়ে টেস্টে প্রথমবার সিরিজ-সেরা মুশফিক

২১ বছরের ক্যারিয়ারে প্রথমবার টেস্ট ক্রিকেটে ম্যান অব দা সিরিজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 May 2026, 05:01 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:39 PM

পুরস্কারটি পেতে পারতেন তাইজুল ইসলাম। পেতে পারতেন নাহিদ রানাও। বিবেচনায় থাকার মতো নাম আছে আরও দু-একটি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যান অব দা সিরিজের স্বীকৃতিটি পেলেন মুশফিকুর রহিম। এই ৩৯ বছর বয়সে, ক্যারিয়ারের শেষ বেলায় এসে তার ক্যারিয়ারে যোগ হলো একটি ‘প্রথম।’

তার টেস্ট ক্যারিয়ারের বয়স ২১ বছর পূর্ণ হবে ছয় দিন পর। বাংলাদেশর হয়ে ১০০ টেস্ট খেলা একমাত্র ক্রিকেটার তিনি। টেস্টে সবচেয়ে বেশি রান ও সেঞ্চুরিসহ অনেক রেকর্ড তার। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, টেস্টে ম্যান অব দা সিরিজ হলেন তিনি এই প্রথমবার।

মিরপুরে প্রথম টেস্টে তার ব্যাট থেকে আসে ৭১ ও ২২ রান। সিলেটে প্রথম ইনিংসে আউট হন ২৩ রানে। পরের ইনিংসে উপহার দেন ১৩৭ রানের ইনিংস। 

দুই দল মিলিয়ে সিরিজের সর্বোচ্চ ২৫৩ রান তার, গড় ৬৩.২৫। 

এক সিরিজে এর চেয়ে বেশি রান করেছেন তিনি আরও তিনবার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০২২ সালের সিরিজে করেছেন ৩০৩, গত বছরের সিরিজে ২৭৩। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০১৮ সালের সিরিজে করেছিলেন ২৭০। কিন্তু সেরার স্বীকৃতি পেলেন এবার।

১০২ টেস্ট খেলা ক্রিকেটার অবশ্য উচ্ছ্বসিত দলের অর্জন নিয়েই। ম্যাচের প্রেক্ষাপটে নিজের সেঞ্চুরির চেয়ে এগিয়ে রাখছেন তিনি প্রথম ইনিংসের লিটনের শতরানকে।

“এটা সত্যিই অনেক বড় ব্যাপার, ছেলেদের এটি (সিরিজ জয়) প্রাপ্য ছিল। গত ২-৩ বছর ধরে ওরা যেভাবে খেলছে, বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে, সত্যিই দারুণ।”

“(তার সেঞ্চুরিই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিয়েছিল কি না] সত্যি বলতে, প্রথম ইনিংসে লিটনের সেঞ্চুরিটি ছিল অসাধারণ এবং সেটাই আমাদের খেলায় টিকিয়ে রেখেছিল। ড্রেসিং রুমের মনোবল ছিল তুঙ্গে এবং আমরা লিটনের জন্যও খেলতে চেয়েছিলাম।”

প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের লিড পাওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে করে ৩৯০ রান। তবে মুশফিক বললেন, আরেকটু বেশি রানের ইচ্ছে তাদের ছিল।

“উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো ছিল, তাই আমাদের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল, অন্তত ৪০০ ৪৫০-এর বেশি রান করা, কারণ জানতাম এটা পঞ্চম দিনের সেই গতানুগতিক উইকেট হবে না। বোলাররা সত্যিই তাদের মৌলিক বিষয়গুলো মেনে চলেছে এবং এর সমস্ত কৃতিত্ব তাদেরই প্রাপ্য।”

এত পথ পেরিয়ে, এত পোড় খেয়েও টিকে থাকা এবং পারফর্ম করার প্রেরণার কথাও শোনালেন তিনি।

“সত্যি বলতে, বেঁচে আছি এবং দেশের হয়ে খেলছি (এটিই প্রেরণা)। কেউ যদি দেশের হয়ে খেলতে চায়, সেটি সহজে হয় না। কঠোর পরিশ্রম করতে হয়, কোনো কিছুর যোগ্য হতে হয় এবং মাঠে নেমে সেই পরিশ্রমটুকু করতে হয়। আমি জীবন উপভোগ করছি।”