উদ্বোধনী ম্যাচের মতো ডি থ্রি টি-টোয়েন্টির ফাইনালও বরিশালে
নিলাম পরিচালনা করবেন ভারতের বিখ্যাত ধারাভাষ্যকার ও সঞ্চালক চারু শার্মা, টুর্নামেন্টের বেশিরভাগ ম্যাচ হবে বরিশালে।
নদ-নদী আর খালে ঘেরা বরিশালে এবার ক্রিকেট উৎসবের জোয়ার তোলার অপেক্ষায় বিসিবি। ডোমেস্টিক থ্রি (ডি থ্রি) ট্রফির টি-টোয়েন্টি ট্রফির উদ্বোধনী ও ফাইনালসহ বেশিরভাগ খেলা হবে বরিশালে। এর বাইরে মিরপুরে হবে কিছু ম্যাচ।
ডি থ্রি ট্রফির পথচলা শুরুর ঘোষণার সময়ই বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানিয়েছিলেন, বরিশালে আগামী ১৫ ডিসেম্বর শুরু হবে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। টুর্নামেন্ট শুরুর দেড় মাসেরও বেশি সময় আগে আসরের পূর্ণাঙ্গ সূচি ঘোষণা করল বোর্ড।
বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে লড়বে একমি ও ফরচুন। খেলা শুরু হবে দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে। একই মাঠে একই সময়ে আগামী ৩১ ডিসেম্বর শুরু হবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ।
ছয় দলের অংশগ্রহণ সব মিলিয়ে খেলা হবে মোট ১৯টি ম্যাচ। এর মধ্যে দেশের প্রধান ক্রিকেট ভেন্যু মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হবে সাতটি ম্যাচ। প্লে অফের চারটিসহ বাকি ১২ ম্যাচের আয়োজক বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাস স্টেডিয়াম।
টুর্নামেন্টে খেলা হবে মোট ১২ দিন। এর মধ্যে সাত দিন রাখা হয়েছে একাধিক ম্যাচ। সেসব দিনগুলোতে বেলা ১১টা ও দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে শুরু হবে খেলা। ব্যতিক্রম শুধু প্লে-অফের প্রথম দিন। বরিশালে এলিমিনেটর ম্যাচ শুরু বেলা ১১টায় আর প্রথম কোয়ালিফায়ার হবে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে।
টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে পরস্পরের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলবে সব দল। প্রথম পর্বের ১৫ ম্যাচ শেষে সেরা চার দল পাবে প্লে-অফের টিকিট। পরে এলিমিনেটর ও দুটি কোয়ালিফায়ার শেষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ খেলবে দুই দল।
ডি থ্রি ট্রফির জন্য এরই মধ্যে লটারির মাধ্যমে ছয় দল বেছে নিয়েছে নিজেদের আইকন ক্রিকেটার। এর বাইরে প্রথমবারের মতো 'ম্যানেজমেন্ট ড্রাফট' থেকে প্রধান কোচ, সহকারী কোচসহ টিম ম্যানেজমেন্টও সাজিয়ে ফেলেছে দলগুলি।
ব্লু স্টার তাদের আইকন হিসেবে বেছে নিয়েছে নুরুল হাসান সোহানকে, ওয়ালটনের আইকন মেহেদী হাসান মিরাজ, সেভেন রিংস সিমেন্টের মুশফিকুর রহিম, একমির মোসাদ্দেক হোসেন, ফরচুনের তাওহিদ হৃদয় এবং সিটিজেন ব্যাংকের আইকন মোহাম্মদ নাঈম শেখ।
এবার অপেক্ষা ক্রিকেটারদের নিলামের। সোমবার অভিনব এক নিলামের মধ্য দিয়ে ২৩ জনের স্কোয়াড সাজানোর সুযোগ পাবে দলগুলি। তবে ওই নিলামে থাকবে না পয়সার ঝনঝনানি। বরং দেখা যাবে পয়েন্টের ওড়াউড়ি।
ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম শ্রেণি, লিস্ট 'এ' ও টি-টোয়েন্টির ম্যাচ ফি যেহেতু পূর্ব নির্ধারিত, তাই ডি থ্রি ট্রফি খেলার জন্য ক্রিকেটাররা বাড়তি কোনো পারিশ্রমিক পাবেন না। ফলে ক্রিকেটারদের নিলামেও থাকবে না টাকার ভিত্তিতে দল পাওয়ার ব্যবস্থা।
এর বদলে পাঁচটি ভিন্ন ক্যাটেগরিতে আড়াইশর বেশি ক্রিকেটারকে রাখা হবে নিলামে। প্রতি ক্যাটেগরির জন্য থাকবে নির্দিষ্ট পয়েন্ট। দলগুলোকেও স্কোয়াড সাজানোর জন্য বেধে দেওয়া হবে নির্দিষ্টসংখ্যক পয়েন্ট। এই সীমার মধ্য থেকেই পয়েন্টের ডাকাডাকিতে স্কোয়াড সাজাবে ছয় দল।
বিপিএলের নিলামে অসামঞ্জস্য ও প্রাণহীনতা নিয়ে অতীতে অনেক অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডি থ্রি ট্রফিতে এবার নিলাম পরিচালনা করবেন ভারতের বিখ্যাত ধারাভাষ্যকার ও সঞ্চালক চারু শার্মা।
