১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

স্থির থাকছে না ব্যাটিং অর্ডার, আভাস দিলেন সালাউদ্দিন

দলের ভালোর জন্য যে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সেটি পালন করতে হবে। ভালো না লাগলে খেলার দরকার নেই- বললেন সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদিন।

স্থির থাকছে না ব্যাটিং অর্ডার, আভাস দিলেন সালাউদ্দিন
মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। ছবি: বিসিবি।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 May 2025, 09:16 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:42 PM

জাতীয় দলের ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে পরিষ্কার বার্তা দিলেন সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। দলের প্রয়োজন পড়লে ওপেনার হলেও পরের দিকে ব্যাটিং করার জন্য প্রস্তুত থাকতে বললেন দেশের অভিজ্ঞ কোচ। অন্যথায় জাতীয় দলে খেলার দরকার নেই বলে দিলেন তিনি। 

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তান সফরের জন্য ঘোষণা করা ১৬ জনের দলে ওপেনারের সংখ্যা ৪ জন। লিটন কুমার দাস, সৌম্য সরকার, পারভেজ হোসেন, তানজিদ হাসানের সঙ্গে নাজমুল হোসেন শান্তকেও বিবেচনায় রাখলে ওপেনারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে পাঁচে।

এদের মধ্যে সৌম্য, পারভেজ ও তানজিদ যে কোনো সংস্করণে সাধারণত ইনিংস সূচনা করে থাকেন। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে লিটনও এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ ম্যাচ ওপেনিংয়ে খেলেছেন। শান্ত অবশ্য কিছুটা ব্যতিক্রম। তবে বিশ ওভারের ঘরোয়া ক্রিকেটে তারও শুরুতে ব্যাটিং করার নজির বেশি।

মিরপুরে রোববার জাতীয় দলের অনুশীলন শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন উঠল, এই পাঁচ জনকেই ওপেনিংয়ের জন্য ভাবছে কিনা দল। উত্তরে দলের সবার জন্যই যেন পরিষ্কার বার্তা দিলেন সালাউদ্দিন। 

“আগে কে কোথায় ব্যাটিং করে এসেছে, এটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। দলের যদি মনে হয়, সাত নম্বরে খেলতে হবে, আপনি ওপেনার হলেও আপনার সেটা করতে হবে। দলের জন্য যেটা সবচেয়ে ভালো হবে, সেটাই করতে হবে।” 

“আমরা একটা সংস্কৃতি তৈরির চেষ্টা করছি, এটা কারও নিজের দল না, কারও একার সম্পত্তি নয়। এটা দেশের সম্পত্তি। আপনাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হবে, যদি ভালো নাও লাগে, পালন করতে হবে। আপনার ভালো না লাগলে এখানে খেলার দরকার নেই। কৌশলগত জায়গা থেকে ম্যাচের আগে আমরা ঠিক করব কে কখন খেলবে।”

জাতীয় দলের সাবেক টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট শ্রীধরন শ্রীরামও দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্দিষ্ট ব্যাটিং অর্ডারের বাইরে গিয়ে নমনীয় থাকার কথা জোর দিয়েই বলেছিলেন। সেই প্রক্রিয়ায় কিছু ম্যাচে মেহেদী হাসান মিরাজকে 'মেকশিফট' ওপেনার হিসেবেও খেলানো হয়েছে। তবে কোনো ওপেনারকে অবশ্য নিচে পাঠানোর নজির নেই তেমন।  

দল ঘোষণার দিন প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন অবশ্য বলে দিয়েছেন, সামনের এই সাত ম্যাচে লিটনকে তিন নম্বরে ব্যাটিং করানোর কথা ভাবছেন তারা। ফর্মহীনতায় ভুগতে থাকা শান্তকে ব্যাক-আপ হিসেবে রাখারও আভাস দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে সিরিজ দিয়েই আগামী বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দল গোছানোর কাজ শুরু করে দেবে বাংলাদেশ। এই সংস্করণে সার্বিকভাবে তেমন ভালো অবস্থায় নেই তারা।

এমনকি লম্বা সময় ধরে স্বস্তির আশ্রয় হিসেবে ওয়ানডেতেও এখন অনেক পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। আইসিসির বার্ষিক হালনাগাদের পর দশ নম্বরে নেমে গেছে তারা। টেস্টে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের কাছেও হেরেছে তারা। 

সব মিলিয়ে খুব একটা ভালো নয় দেশের ক্রিকেটের অবস্থা। এসব থেকে পরিত্রাণের জন্য অনেক কিছু পরিবর্তনের কথা বললেন সালাউদ্দিন।

“এটা (দল গড়ে তোলা) একটা দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। জাতীয় দলের ওপরেই সব কিছু নির্ভর করে না। যারা 'এ' দলে খেলছে, এইচপিতে আছে, টাইগার্সে অনুশীলন করবে, এর সঙ্গে আমাদের কাঠামো কতটা উন্নত হচ্ছে, সংস্কৃতি কত উন্নত হচ্ছে- সব কিছু মিলিয়েই কিন্তু বোঝা যাবে আমরা কোথায় যাচ্ছি। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা তাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। তারা নিজেদের উন্নতি চাচ্ছে।”

“তবে একটা দেশের ক্রিকেট শুধু এই গুটিকয়েক ক্রিকেটারের ওপর নির্ভর করে না। এর জন্য ভালো কাঠামো প্রয়োজন। ছেলেরা নিচ থেকে কীভাবে তৈরি হয়ে আসবে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। এটা সবাই মিলেই করতে হবে। প্রতিটি বিভাগের এক হয়ে কাজ করতে হবে। সব কিছু মিলে একটা দেশের ক্রিকেট এগোবে।” 

সঠিক পরিকল্পনা করে সেগুলো বাস্তবায়নের দিকে জোর দিলেন অভিজ্ঞ কোচ।

“এটা কোনো নির্দিষ্ট ক্রিকেটারের ওপর নির্ভর করে না। সমষ্টিগতভাবে আমাদের কাজ করতে হবে। চারটা বিভাগ- গেম ডেভেলপমেন্ট, এইচপি, টাইগার্স, জাতীয় দল এবং এসব জায়গায় যারা কাজ করছে, তাদের সবার লক্ষ্য একই হতে হবে। পরিকল্পনা তাই ভালোভাবে করতে হবে এবং বাস্তবায়ন যদি ভালোভাবে না হয়, সবসময় একই জায়গায় থেকে যাব।” 

এসময় আসে নিউ জিল্যান্ড 'এ' দলের বিপক্ষে সিরিজের প্রসঙ্গ। এক দিনের সিরিজের তিন ম্যাচে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি টপ-অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান। অথচ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এনামুল হক, মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও পারভেজ হোসেনই ছিলেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।

ঘরোয়া ক্রিকেট পেরিয়ে 'এ' দলের হয়ে ভালো করতে না পারার পেছনে পুরোনো এক সমস্যার কথাই বললেন সালাউদ্দিন। 

“ঘরোয়া ক্রিকেটের সঙ্গে আসলে আন্তর্জাতিক খেলার বিস্তর ফারাক থাকে। ফারাকটা আমরা দূর করতে পারছি না, এটা আমাদেরই ব্যর্থতা। একটা ছেলে যখন ঢাকা লিগ খেলে, বেশিরভাগ সময়ই দ্বিতীয় ওভারেই বাঁহাতি স্পিনার চলে আসে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে তাদের প্রতিদিন ১৪০ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতির বল মোকাবিলা করতে হবে।” 

“এটা আসলে ক্রিকেটারদের ব্যর্থতা বলা যাবে না। আমরাই হয়তো সেই সুযোগটা দিতে পারিনি যে, কীভাবে তাদেরকে ডেভেলপ করতে হবে। যে ছেলেটা ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করছে, নিশ্চয়ই তার মধ্যে কিছু না কিছু আছে। সেখান থেকে যখন জাতীয় দলে আসবে, তাকে ওই পর্যায়ের টেস্টটা দিয়ে আনতে হবে।”